দীর্ঘ প্রায় চার মাসের অনির্ধারিত বন্ধে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম। গত বছরের ৩০ নভেম্বর থেকে আজ পর্যন্ত টানা ১১৫ দিন যাবত্ বন্ধ রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়টি। ছাত্র নিহতের ঘটনা এবং বিএনপি-জামায়াতের দেশব্যাপী আন্দোলনের অজুহাতে ক্যাম্পাস বন্ধ থাকলেও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি-প্রোভিসির অন্তর্কোন্দলের কারণেই মূলত এই অচলাবস্থা কাটছে না বলে সংশ্লিষ্ট অনেকের অভিযোগ।
এদিকে শিক্ষার্থীরা ক্লাস-পরীক্ষা চালুর দাবিতে দফায় দফায় নানমুখী আন্দোলন-কর্মসূচি পালন করে আসলেও কর্তৃপক্ষ ক্যাম্পাস খোলার ব্যাপারে কার্যকর কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি। এতে বিভাগ ভেদে পূর্ব থেকে তিন বছর পর্যন্ত বিদ্যমান সেশনজট আরো ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। শিক্ষার্থীদের ৪ বছরের অনার্স এবং ১ বছরের মাস্টার্স কোর্স শেষ করতে লেগে যাচ্ছে ৮ থেকে ৯ বছর। ফলে দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ১৪ হাজার শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবন। এছাড়া ২০১৪-১৫ শিক্ষা বর্ষের ভর্তি পরীক্ষা চারমাস আগে শেষ হলেও এখন পর্যন্ত প্রশাসন ভর্তি কার্যক্রম শুরুই করতে পারেনি।
সূত্র মতে, গত বছরের ৩০ নভেম্বর ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী বহনকারী ভাড়া করা একটি বাসের চাপায় তৌহিদুর রহমান টিটু নামে এক শিক্ষার্থীর মৃত্যু ঘটে। ওই ঘটনায় বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ৩৫টি গাড়িতে ব্যাপক ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে। এ ঘটনায় জরুরি বৈঠক ডেকে ক্যাম্পাস অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করে কর্তৃপক্ষ। বন্ধের ৩৭ দিন পর ৭ জানুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলসমূহ খুলে দেয়া হয়। তবে ক্যাম্পাসের পাশের এলাকায় পুলিশ-২০ দলের সংঘর্ষের ঘটনায় এক দিনের ব্যবধানে হলগুলো আবারো অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করে দেয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
এদিকে গত ১ মার্চ বিশ্ববিদ্যালয় মুঞ্জরি কমিশনের (ইউজিসি) সভায় সকল বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাস-পরীক্ষাসহ একাডেমিক কার্যক্রম চালুর ব্যাপারে সুপারিশ করা হয়। তবে অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাস-পরীক্ষা চালু হলেও ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় খোলার কোন উদ্যোগ নিচ্ছে না প্রশাসন। দ্রুত ক্যাম্পাস চালুর দাবিতে শিক্ষার্থীরা আন্দোলন ও আমরণ অনশনে যাওয়ার হুমকি দিলেও তা আমলে নিচ্ছে না প্রশাসন। ধারাবাহিক আন্দোলনের অংশ হিসেবে গত ১৮ মার্চ শিক্ষার্থীরা প্রশাসন ভবনের সামনে তাদের শরীরের রক্ত ছিটিয়ে অবস্থান কর্মসূচি পালন করে। সর্বশেষ গত শনিবার শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের মেইন গেইট অবরোধ করে সেখানে প্রতীকী ফাঁসি ও বিষপানে আত্মহত্যার কর্মসূচি পালন করে। এসময় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর প্রফেসর ড. লোকমান হাকিম ও ছাত্র উপদেষ্টা প্রফেসর ড. আনোয়ার হোসেন ঘটনাস্থলে এসে আগামী ৪ এপ্রিলের পূর্বে ক্যাম্পাস খুলে দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিলে শিক্ষার্থীরা অবরোধ তুলে নেয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির সাবেক সভাপতি প্রফেসর ড. তোজাম্মেল হোসেন বলেন, ‘বর্তমান ভিসি ও প্রো-ভিসির দুর্নীতির আখড়ায় পরিণত হয়েছে ক্যাম্পাস। প্রো-ভিসি চাচ্ছেন ভিসি হতে আর ভিসি চাচ্ছেন তার চেয়ার ধরে রাখতে। ফলে তাদের এই প্রতিযোগিতা ও অন্তর্দ্বন্দ্বের কারণেই মূলত ক্যাম্পাস খোলা হচ্ছে না বলে আমি মনে করি।’
প্রো-ভিসি প্রফেসর ড. শাহীনুর রহমান বলেন, ‘সংশ্লিষ্ট সকলের সাথে কথা বলে খুব দ্রুতই ক্যাম্পাস খুলে দিতে পারব বলে আমরা আশা করছি।’
ভিসি প্রফেসর ড. আবদুল হাকিম সরকার বলেন, ‘ছাত্র সংগঠনগুলোর সাথে আলোচনার জন্য প্রক্টরকে নির্দেশ দিয়েছি। আশা করছি দ্রুত ক্যাম্পাসের স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরে আসবে।’