কীটনাশক ছাড়াই পোকা দমন


বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের কীটতত্ত্ব বিভাগে পরীক্ষার ফলাফলে দেখা  গেছে যে, কৃষক পদ্ধতির তুলনায় উন্নত পদ্ধতিতে কীটনাশক প্রয়োগ না করেই পোকার আক্রমণ কম এবং অধিক ফলন ও মুনাফা পাওয়া যায়। জয়পুরহাট জেলার পাঁচবিবি উপজেলায় পানি কচু ও লতি একটি অন্যতম প্রধান অর্থকরী ফসল। উপজেলায় উত্পাদিত পানি কচুর লতি দেশ-বিদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সরবরাহ করা হয়।
বগুড়া ইন্চার্জ প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. জুলফিকার হায়দার প্রধান জানান, পানি কচু চাষে অন্যতম প্রধান সমস্যা হচ্ছে সাধারণ কাটুই পোকার ব্যাপক আক্রমণ। সাধারণ কাটুই পোকা একটি সর্বভুক পোকা। তিনি জানান, বৈশ্বিক উষ্ণায়নের ফলে তাপমাত্রা বৃদ্ধির কারণে বাংলাদেশে পোকার আক্রমণ বেড়ে যাচ্ছে।
বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্টের অর্থায়নে গতবছর পানি কচু ফসলে সাধারণ কাটুই পোকার সমন্বিত দমন ব্যবস্থাপনা শীর্ষক গবেষণা পরীক্ষা সম্পাদন করা হয়। উক্ত পরীক্ষায় বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের কীটতত্ত্ব বিভাগে সাধারণ কাটুই পোকা দমনের উদ্ভাবিত প্রযুক্তির বিপরীতে কৃষক পদ্ধতির তুলনা করা হয়।
পরীক্ষার ফলাফলে কৃষক পদ্ধতির তুলনায় উন্নত পদ্ধতিতে কীটনাশক প্রয়োগ না করেই পোকার আক্রমণ কম এবং অধিক ফলন ও মুনাফা পাওয়া যায়। বৈজ্ঞানিক সহকারী মো. রেশাবুল হক বলেন- চলতি মৌসুমে উপজেলার পাটাবুকা গ্রামে ১৫০ বিঘা জমিতে সাধারণ কাটুই পোকা দমনে ফেরোমন পদ্ধতির মাধ্যমে বিষমুক্ত কচুর লতি উত্পাদিত হচ্ছে।