প্রত্যয়ে ‘মেইড ইন বাংলাদেশ’

 
ফয়েজ তাহের। মাত্র ৩০ বছর বয়সেই হয়েছেন নানা ব্যবসার উদ্যোক্তা। ফ্যাশন হাউস, ফ্রাইড চিকেন, ফুটওয়্যার, ডিজিটাল মার্কেটিং, ই-কমার্সসহ আরও বহুমুখী ব্যবসার সাথে জড়িত তিনি। বর্তমানে ফরচুনা গ্রুপের সিইও হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তারুণ্যদীপ্ত সফল এই উদ্যোক্তাকে নিয়ে  লিখেছেন খালেদ আহমেদ ও ছবি তুলেছেন সোহেল মামুন।
‘সহযোগিতাপূর্ণ মনোভাব নিয়ে কাজ করার মানসিকতা থাকলে এবং কঠোর পরিশ্রম করলে সফলতা আসবেই’—এই কথাটি মনে প্রাণে বিশ্বাস করে পথ চলছেন তরুণ উদ্যোক্তা ফয়েজ তাহের। তার শুরুর গল্প জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি অনেক কম বয়স থেকেই কাজ শুরু করেছি। আমার বাবা রেডিমেট গার্মেন্টস ইন্ডাস্ট্রির একজন পথিকৃত্। আমি দেখেছি কিভাবে তার নেতৃত্বে গার্মেন্টস ইন্ডাস্ট্রি উন্নতি করেছে। তিনি আমাকে ছোটবেলায় অনেক মিটিংয়ে নিয়ে যেতেন। তার কাজ দেখতে দেখতে  ব্যবসার প্রতি আমার একটা আলাদা ভালোবাসার জন্ম হয়। আমার যখন বয়স ১৩, তখন আমরা তিন ভাই মিলে একটি কাপড়ের দোকান দিয়েছিলাম—ফারল্যান্ড। ওটাই আমাদের প্রথম ব্যবসা একসাথে। সেখানে আমরা তিন ভাই কাজ করেছি সেলসম্যান হিসেবে। বাবা সবসময় বলতেন, কাজের অভিজ্ঞতাটা নিতে হয় ছোট ছোট কাজ থেকে। বাবার ওই কথাটা আমার কাছে খুব ভালো লাগত। এরপর আমরা ফরচুনা ফ্রাইড চিকেন (এফএফসি) নামে দোকান দিলাম। বর্তমানে রাজধানীতে এফএফসির ১০টি আউটলেট রয়েছে। মাছ চাষের একটি ইচ্ছা ছিল বলে হ্যাচারিও করেছি। উচ্চতর পড়াশোনার জন্য আমি আমেরিকায় যাই। সেখানে লিডারশিপ বিষয়ে অনেক কিছু শিখেছি। দেশে ফেরার পর নিজেদের ব্যবসার সাথে আরও বেশি করে যুক্ত হই। বর্তমানে ফরচুনা ফুটওয়্যার নিয়ে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছি। ফ্যাব্রিক দিয়ে আমরা জুতা তৈরি করি। যা বেশ সাড়া ফেলে। আমরা এখন প্রতিদিন ১০ হাজার জোড়া জুতা উত্পাদন করতে পারি। ইচ্ছা আছে সেটা ৪০ হাজারে নিয়ে যাওয়ার। আমাদের কারখানার প্রায় ১২০০ তরুণ শ্রমিক আছে। যাদের আমরা নিজেরাই ট্রেনিং দিয়েছি। পাশাপাশি আমি ই-কমার্স নিয়ে কাজ শুরু করি। দেশের বাইরে দেখেছি কমিউনিটি নিয়ে ওরা কাজ করে। একজন আরেকজনকে সহযোগিতা করে। সেটা আমার ভালো লেগেছে। তাই আমি এখানে এই কালচারটা শুরুর জন্য ‘বিডিটেক ওশান’ শুরু করি। ডিজিটাল মার্কেটিংয়ের জন্য ‘স্টার্টআপ’ শুরু করেছি। গত দুই বছরে সেটা বেশ এগিয়েছে। উদ্যোক্তাদের কাজের সুবিধার জন্য কয়েকজন মিলে ‘ওয়েভ’ নামের প্রতিষ্ঠান করলাম। যাদের অফিস নেই, তারা এখানে এসে ক্লায়েন্টদের সাথে মিটিং করতে পারবে।’ নিজের পরিবার প্রসঙ্গে ফয়েজ বলেন, ‘সাপ্তাহিক ছুটির দিন শুক্রবারে আমি পরিবারকে সময় দিই। কেননা একজন মানুষের পরিবারের সদস্যদের সাথে বন্ডিংটা জরুরি।’ আর পরিবারও তাকে সবসময় সমর্থন দিয়ে থাকে বলে জানালেন। ওই দিন দুই ঘণ্টা একান্ত নিজের জন্য রাখেন। আর পুরোটা সময় ব্যয় করেন ফুটবল খেলায়। যা তার মনের আনন্দের খোরাক। ভবিষ্যত্ স্বপ্নের কথা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমার আগামীর পরিকল্পনাও ব্যবসাকে ঘিরে—নিজেদের ব্যবসাগুলো সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া, বাংলাদেশের ব্র্যান্ড বাইরে নিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় রয়েছে। বিশ্বকে দেখাতে চাই, বাংলাদেশ কী করতে পারে। ফরচুনা ফুটওয়্যার নিয়ে স্বপ্ন হলো—বিশ্বের উন্নত দেশের মানুষ জুতা কিনবে ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ দেখে। অর্থাত্ বাংলাদেশের নাম পৃথিবীর সব মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে চাই আমার কোম্পানির তৈরি মানসম্পন্ন পণ্যের মাধ্যমে।’
 
এ ক  ন জ রে
নাম: ফয়েজ তাহের
জন্ম: ১২ সেপ্টেম্বর, ১৯৮৪
মায়ের নাম: বেগম লুত্ফা তাহের
বাবার নাম: ইঞ্জিনিয়ার মো. আবু তাহের
প্রথম স্কুল: আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল স্কুল
প্রিয় মানুষ: বাবা-মা
সাফল্যের সংজ্ঞা: আসলে সাফল্যের সংজ্ঞা একটি আপেক্ষিক বিষয়। সহযোগিতাপূর্ণ মনোভাব নিয়ে কাজ করার মানসিকতা থাকলে এবং কঠোর পরিশ্রম করলে সফলতা আসবেই।