গাইবান্ধায় বাস যাত্রীদের আতঙ্ক কাটছে না

 
 
বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের গত ৫ জানুয়ারি থেকে ডাকা টানা হরতাল অবরোধে গাইবান্ধা জেলায় সহিংসতার ফলে জনমনে যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে তা ক্রমান্বয়ে হ্রাস পেতে থাকলেও এখনও বাস যাত্রীদের আতঙ্ক কাটে নাই। যাত্রীর অভাবে অর্ধেক বাসও এখন চলাচল করছে না। এছাড়া ঢাকাগামী বাসগুলোও রাতে চলাচল বন্ধ আছে। তবে মার্চ মাসের প্রথম থেকে গাইবান্ধা শহরের জনজীবনে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে এসেছে।
 
সরেজমিন জানা য়ায়, গাইবান্ধা জেলা কেন্দ্রীয় বাস স্টেশন থেকে ঢাকা, কমিল্লা, পাবনা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, রংপুর, বগুড়াসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় যেতে গাইবান্ধা-পলাশবাড়ী সংযোগ সড়ক ধরে পলাশবাড়ীতে গিয়ে ঢাকা-রংপুর মহাসড়কে উঠতে হয়। আর এই গাইবান্ধা-পলাশবাড়ী সংযোগ সড়কেই গত দু’মাসে বিভিন্ন যানবাহনে পেট্রোল বোমা নিক্ষেপ, আগুন দেয়া ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। সর্বশেষ গত ৬ ফেব্রুয়ারি এই সড়কের তুলসীঘাট নামক এলাকায় বাসে পেট্রল বোমা হামলায় মহিলাও শিশুসহ ৮ জন দগ্ধ হয়ে মারা যান। পুলিশি পাহারায় গাইবান্ধা কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল থেকে দিনের বেলায় বাসগুলো নিয়ে যাওয়া হোত। কিন্তু গত ১৪ মার্চ থেকে আর তা করা হচ্ছে না।
 
গাইবান্ধার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোশাররফ হোসেন জানান, পরিস্থিতির উন্নতি ঘটায় দিনের বেলায় পুলিশি পাহারায় গাইবান্ধা-পলাশবাড়ী সড়কে যানবাহন নেয়া হচ্ছে না।  কিন্তু সড়কে পুলিশি টহল অব্যাহত আছে। রাত্রিকালীন বাস চলাচলের সিদ্ধান্ত বাস মালিক সমিতির ব্যাপার তবে তারা কিছু কিছু বাস চালাচ্ছেন।
 
এদিকে দুপুরে গাইবান্ধা জেলা কেন্দ্রিয় বাস বাস টার্মিনালে গিয়ে দেখা গেছে টার্মিনালে ৩০টি বাস দাঁড়িয়ে আছে। চেইন মাস্টার হাফিজার রহমান জানান, যাত্রী কম থাকার কারণে এখন দিনে ৫০/৬০টি বাস চলাচল করে যা পূর্বের তুলনায় অর্ধেক।
 
 পাবনাগামী মিতালী পরিবহনের চালক লিটন শেখ জানালেন, রাস্তায় চলাচল করতে আমাদের কোন সমস্যা হচ্ছে না কিন্তু যাত্রীরা হঠাৎকোন হামলার ভয়ে বাসে উঠতে ভয় পায়, তাই যাত্রী কম।
 
জেলা মোটর মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক নাজিবুল ইসলাম বলেন, বিকেল ৫টার পর টার্মিনাল থেকে কোন বাস ছাড়া হচ্ছে না। তবে ঢাকাগামী রাত্রিকালীন কয়েকটি বাস চলছে,  স্বাভাবিকভাবে বাসগুলো চলাচলের ব্যবস্থা নিচ্ছি। দিনের বেলায় বাস চলাচলে কোন সমস্যা নেই জানিয়ে তিনিও যাত্রী স্বল্পতার কথা স্বীকার করেন।
 
জেলা ট্রাক মালিক সমিতির সভাপতি রোস্তম আলী জানান, অবরোধের শুরুতে ট্রাক চলাচল কম করলেও এখন প্রতিদিন দিন-রাত মিলিয়ে শতাধিক ট্রাক চলাচল করছে।
 
এদিকে মার্চ মাসের প্রথম থেকে গাইবান্ধা শহরের জনজীবনে স্বাভাবিক অবস্থা ফিরে এসেছে। দোকান পাট, বাজার, অফিস, আদালত, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে উপস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে এসেছে। এ অবস্থায় গত ৯ মার্চ গাইবান্ধা শহরের আহম্মেদ উদ্দিন শাহ শিশু নিকেতন স্কুল এ্ল কলেজের প্রধান ফটকের কাছ থেকে তিনটি ককটেল উদ্ধার করে পুলিশ।
 
কলেজের উপাধ্যক্ষ অধ্যাপক মাজহারুল মান্নান জানান, আতঙ্ক সৃষ্টি করে ক্লাশ বন্ধ করার জন্য এ ঘটনা ঘটানো হয়েছে কিন্তু বিদ্যালয়ে তার কোন প্রভাব পড়েনি, ৯৫ ভাগের বেশি ছাত্র ছাত্রী উপস্থিতি রয়েছে।
 
গাইবান্ধা চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি আবুল খায়ের মোরছালিন পারভেজ বলেন, শুধুমাত্র গাইবান্ধা-পলাশবাড়ী সড়কটি ঘিরে মানুষের আতঙ্ক বিরাজ করছে। আমি নিজেও ওই সড়কে যেতে ভয় পাই। তবে শহরে স্বাভাবিক অবস্থা ফিরে এসেছে। মার্কেটগুলোতে মানুষের ভীড় লেগে থাকলেও পূর্বের দু’মাসের ক্ষতি পুষিয়ে ওঠা যাবে না। ট্রাক চলাচল করলেও ভাড়া বেশি থাকায় পণ্য পরিবহনে ব্যবসায়িদের বেশি টাকা গুনতে হচ্ছে।