ইতিহাস গড়তে চায় নিউজিল্যান্ড

 
 
সহ আয়োজক নিউজিল্যান্ড অধিনায়ক ব্রেন্ডন ম্যাককালাম জানিয়েছেন অ্যাডাম মিলনে না থাকলেও তার দল আজকের সেমিফাইনালে আত্নবিশ্বাসী। এছাড়াও  ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে বিধ্বংসী ডাবল সেঞ্চুরির পর মার্টিন গাপটিলের উপস্থিতি দলের বাকিদের অনুপ্রাণিত করছে।
 
ম্যাককালাম জানিয়েছেন বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ওঠার পথে মার্টিন গাপটিলের অপরাজিত ২৩৭ রানের কীর্তিটি প্রেরণাদায়ী যা দরকার ছিল নিউজিল্যান্ডের জন্য। যদিও দুদলের জন্যই বাড়তি অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করছে বিশ্বকাপের প্রথম ফাইনালে খেলার হাতছানি।
 
স্বাগতিক দলকে অবশ্য সোমবার বাম গোড়ালির ইনজুরির কারণে অ্যাডাম মিলনের বিদায়ে হঠাত্ করেই নতুনভাবে দল সাজানোর কাজে নেমে পড়তে হয়। তার জায়গায় দলে এসেছেন ম্যাট হেনরি। ম্যাককালাম অবশ্য তাদের জোর বোলারটির অনুপস্থিতির পরও আত্নবিশ্বাসী। তাছাড়া দলের বাকিদের অনুপ্রেরণার জন্য আছেন গাপটিল।
 
দুদলের বিশ্বকাপ লড়াইয়ে ব্ল্যাক ক্যাপরা এগিয়ে থাকলেও ম্যাককালামের মতে ইতিহাসের এ অগ্রগামিতা সিডনি বৃহস্পতিবার মুখোমুখি হতে যাওয়া অস্ট্রেলিয়া ও ভারতের মধ্যকার সেমিফাইনালের জয়ীর সাথে খেলার ব্যাপারে কোন ভূমিকা রাখবে না।
 
এর চেয়ে বরং বেশি প্রাসঙ্গিক গাপটিলের ফর্মে ফেরা। নিউজিল্যান্ড অধিনায়ক  অকল্যান্ডে সেমিফাইনাল পূর্ব সংবাদ সম্মেলনে বলেন,‘গুরুত্বপূর্ণ খেলাটিতে এটা (গাপটিলের নৈপুণ্য) দেখতে পাওয়া এবং একই ঘটনার পুণরাবৃত্তিতে তার কঠোর অনুশীলন  নিশ্চয়তা দেয় যে এটা করা সম্ভব। এ ব্যাপারটিই পুরো দলকে অনুপ্রাণিত করছে।’
 
গাপটিল বিশ্বকাপ খেলতে এসেছিল ধারাবাহিকভাবে হতাশ করা সংগ্রহ নিয়ে। এর মধ্যে ছিল শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে দুটি গোল্ডেন ডাক। তবে বেশ দ্রুতই ফর্মে ফেরেন তিনি। কেননা তার সর্বশেষ তিনটি ইনিংস হলো ৫৭, ১০৫ ও ২৩৭ এবং ম্যাককালাম তার কাছ থেকে আরো আশা করছেন।
 
এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন,‘সে আমাদের জন্য অনেক বড় এক খেলোয়াড় এবং আমার পরামর্শ হবে সে সম্ভবত এখনো সেরাটা খেলেনি।’ যদিও বাস্তবতা হলো দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে গাপটিলের নৈপুণ্য সুবিধের নয়। প্রোটিয়াদের বিপক্ষে ১১ খেলায় তিনি সব মিলিয়ে করেছেন ১১৫ রান। এর মধ্যে সর্বোচ্চ হলো ২০১২ সালে নেপিয়ারে করা ৫৮ রান। শেষ ছয়টি ইনিংসে তো দুই অংকের ঘরেই পৌছাতে পারেননি গাপটিল।
 
ম্যাককালাম আভাস দিয়েছেন মিলনের খেলতে না পারার কারণে দলের ভারসাম্যের বিষয়টি অকল্যান্ডের আবহাওয়া ও পিচের অবস্থা বিবেচনায় ঠিক করতে হবে। তিনি অবশ্য আশা করছেন না যে কন্ডিশন অস্ট্রেলিয়াকে ১৫১ রানে অলআউট করে দেয়া খেলাটির মতো হবে না। ব্ল্যাক ক্যাপ অধিনায়ক অবশ্য তার বিপক্ষ এবি ডি ভিলিয়ার্সের মতো আগ্রাসী মনোভাব দেখাচ্ছেন না। বরং তিনি খানিকটা সতর্ক মনোভাব নিয়ে জানাচ্ছেন প্রথমবারের মতো ফাইনাল খেলার ব্যাপারটি নাও ঘটতে পারে।
 
ম্যাককালাম বলেন,‘খেলাটি মানে মজাও। মাঠে গিয়ে নিজেকে প্রকাশ করে পরিস্থিতি উপভোগ করতে হবে, নিজের সেরা পাটাকে সামনে বাড়াতে হবে এবং এরপর আমরা দেখবো কি দাড়ায়।’