চট্টগ্রাম ও রাজশাহীতে দুইটি পৃথক মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করার বিধান রেখে ‘চট্টগ্রাম মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় আইন ২০১৫’ এবং ‘রাজশাহী মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় আইন ২০১৫’-এর খসড়ার নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। গতকাল সোমবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকে এ অনুমোদন দেয়া হয়। মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ মোশাররাফ হোসাইন ভূইঞা প্রেস ব্রিফিংয়ে বলেন, চট্টগ্রাম ও রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজসহ আঞ্চলিক মেডিক্যাল কলেজগুলো এ দুইটি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত হবে।
প্রসঙ্গত, এ দুইটি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপিত হলে দেশে চিকিত্সা বিষয়ে উচ্চ শিক্ষার বিদ্যাপীঠের সংখ্যা হবে তিনটি। ১৯৯৮ সালে ইনস্টিটিউট অফ পোস্ট গ্র্যাজুয়েট মেডিসিন অ্যান্ড রিসার্চকে দেশের প্রথম চিকিত্সা বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তর করা হয়। যার নাম রাখা হয়েছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়। উন্নত চিকিত্সা সেবা দেয়ার লক্ষ্যে গত বছর নভেম্বরে এক অনুষ্ঠানে দেশে আরো দুইটি মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এছাড়া সেনাবাহিনীর যেসব হাসপাতালে পাঁচশ শয্যা রয়েছে সেগুলোকে মেডিক্যাল কলেজ করার কথা বলেন তিনি। দেশে বর্তমানে ২৩টি সরকারি মেডিক্যাল কলেজ আছে। আরো পাঁচটি মেডিক্যাল কলেজ চালুর প্রক্রিয়া চলছে।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, কেবল বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় দেশে ক্রমবর্ধমান বিশেষজ্ঞ চিকিত্সক তৈরির চাহিদা মেটাতে পারছে না বলেই নতুন দুইটি মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের এ উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। তিনি বলেন, আইন দুইটি একই রকম। আইন দুইটি নিয়ে মন্ত্রিসভা কিছু অনুশাসন ও নির্দেশনা দিয়েছে। আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিং সাপেক্ষে পরবর্তীতে মন্ত্রিসভায় উপস্থাপনের মাধ্যমে এতে চূড়ান্ত অনুমোদন দেয়া হবে। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, চট্টগ্রাম ও রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ তাদের স্বতন্ত্র ধারায় থাকবে। নতুন বিশ্ববিদ্যালয় দুইটি হবে আলাদা প্রতিষ্ঠান। কলেজগুলো এসব বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত হবে।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতকোত্তর পর্যায়ের পাঠদান হবে। ব্যাচেলর (এমবিবিএস কোর্স) ডিগ্রি থাকবে কলেজে। তবে নার্সিংয়ে ব্যাচেলর ডিগ্রি দেয়া হবে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। বঙ্গবন্ধু মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়েও একই নিয়ম চলছে। তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের লক্ষ্য হলো- বিশেষজ্ঞ চিকিত্সক তৈরির মাধ্যমে স্বাস্থ্য সেবার মানোন্নয়ন। এ জন্য স্বাস্থ্য খাতে উচ্চতর শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রয়োজন। বিশ্ববিদ্যালয় হলে একদিকে উচ্চতর শিক্ষা দেয়া সম্ভব হবে, অন্যদিকে গবেষণার সুযোগ তৈরি হবে।
নতুন দুইটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে হাসপাতাল থাকবে কিনা— একজন সাংবাদিকের এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, আইনের খসড়ায় এ বিষয়ে বলা নেই। তবে হাসপাতাল থাকতে হবে।