রিকন্ডিশনের দামে নতুন গাড়ি বাংলাদেশে

আগামী বছরের শুরুতেই রাজপথে চলবে বিশ্ববিখ্যাত মালয়েশিয়ান ‘প্রোটন’ ব্র্যান্ডের সম্পূর্ণ নতুন গাড়ি। বাংলাদেশের মাটিতে এই গাড়ি সংযোজন করবে পিএইচপি ফ্যামিলি। এর নাম হবে ‘প্রোটন পিএইচপি’। বিশ্ববিখ্যাত টয়োটা রিকন্ডিশন্ড কারের তুলনায় নতুন প্রোটন পিএইচপি’র দাম কম হবে। জ্বালানি খরচও পড়বে তুলনামূলক কম। সম্পূর্ণ নতুন গাড়ি বলে প্রতি বছর রিকন্ডিশন্ড গাড়ির মতো ফিটনেস লাগবে না, ৫ বছর পর এর ফিটনেস করাতে হবে। এতে হয়রানি কমবে, টাকারও সাশ্রয় হবে। এ লক্ষ্যে ৪শ’ কোটি টাকা ব্যয়ে বার্ষিক ১২শ’ গাড়ি উত্পাদন ক্ষমতাসম্পন্ন একটি কারখানা নির্মাণের কাজ দ্রুত এগিয়ে চলেছে চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলায়। ৩০ একর জমির ওপর স্থাপিত এই কারখানায় ৫০ জন বিশেষজ্ঞ প্রকৌশলীসহ শতাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারী কাজ করবেন।

‘প্রোটন পিএইচপি’ কর্তৃপক্ষ জানায়, বাংলাদেশে প্রতি বছর জাপানসহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ থেকে প্রায় ১৫ হাজার নতুন ও রিকন্ডিশন্ড গাড়ি আমদানি করা হয়। এর মধ্যে ৬৫ থেকে ৭০ শতাংশই রিকন্ডিশন্ড কার। দেশে সংযোজিত সেডান কার বাজারে আসতে শুরু করলে বিপুল অংকের বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়ের পাশাপাশি গাড়ি ব্যবহারকারীরাও উন্নত সেবা গ্রহণের সুযোগ পাবেন। এ প্রসঙ্গে পিএইচপি’র ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মহসিন চৌধুরী বলেন, কোন গাড়িতে যান্ত্রিক গোলযোগ দেখা দিলে ২৪ ঘন্টার মধ্যে আমরা বিনা খরচে মেরামতের ব্যবস্থা করবো। এই সেবা পাওয়া যাবে প্রথম ২৫ হাজার কিলোমিটার পর্যন্ত। দেশের ৬টি জেলায় ৬টি শো-রুমের পাশাপাশি থাকবে সার্ভিস সেন্টার। ফলে যন্ত্রাংশেরও কোনো জটিলতা দেখা দেবে না।

পিএইচপি অটোমোবাইল্স-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক আক্তার পারভেজ হিরু বলেন, বিশ্ববিখ্যাত টার্বো ইঞ্জিন ব্যবহূত হবে প্রোটন প্রিভে সিরিজের এসব কারে। গাড়ি চালানো যাবে অটো এবং ম্যানুয়াল দু’ভাবেই। ‘প্রোটন প্রিভে’ এই সিরিজের প্রিমিয়ার, এক্সিকিউটিভ ও স্ট্যান্ডার্ড এই ৩ ধরনের মডেলের প্রোটন কার বাজারজাত করা হবে। ব্যবহার করা হবে বিশ্ববিখ্যাত টার্বো ইঞ্জিন। দেশে চালু বিভিন্ন বিদেশি কোম্পানির নতুন ও রিকন্ডিশন্ড সেডান কারের অধিকাংশই হলো ১৫০০ সিসি’র। আর সেডান বাংলাদেশে বাজারজাত করবে ১৬০০ সিসির। বাংলাদেশে প্রোটন পিএইচপি গাড়ি সংযোজনের লক্ষ্যে গত বৃহস্পতিবার সংযোজনকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে পিএইচপি গ্রুপের চুক্তি সাক্ষরিত হয়েছে।