গীতিকার ও অভিনেতা মারজুক রাসেল। অনেক জনপ্রিয় নাটক, নিজস্ব ঢংয়ে উপস্থাপনা’সহ অসংখ্য জনপ্রিয় গানের স্রষ্টা তিনি। দেশের গীতিকারদের সম্মান ও পারিশ্রমিক বিষয় দু’টির প্রসঙ্গ উঠে এসেছে তার কথায়। চলতি সময়ে মূলত টেলিফিল্ম ও ধারাবাহিক নাটক নিয়েই বেশ ব্যস্ততা চলছে রাসেলের। এই প্রসঙ্গগুলো নিয়েই কথা বললেন বিনোদন প্রতিদিনের সাথে। সাক্ষাত্কার নিয়েছেন মোস্তাফিজ মিঠু।
এখনকার ব্যস্ততা?
সম্প্রতি বরিশালে মাহমুদুল হাসান টিপুর ‘ঢেউ’ টেলিফিল্ম করে এলাম। নাটকটি লিখেছেন আবু রাজিন। বেশ সময় নিয়ে কাজটি করলাম। ভালো লেগেছে। এছাড়া ‘পাল্টা হাওয়া’, ‘যখন কখনও’ এবং ‘একদিন ছুটি হবে’ ধারাবাহিক নাটকগুলোর কাজ করছি। আর সামনে যেহেতু ঈদ তাই ঈদের কাজেও শিগগিরই ব্যস্ত হয়ে যাবো।
গান লেখার জায়গাটায় অনেকটা অনুপস্থিত এখন, কারণ কী?
এখন গান লিখে যে পারিশ্রমিক দেয়া হয় তা আমার জন্য অপমানজনক। আর বাণিজ্যিকভাবে তেমন গান লেখি না। সুরকার, গায়ক সবাই পারিশ্রমিক ঠিকমতো পায় কিন্তু গীতিকাররা কাগজে কলমে লেখে বলে তাদের কোনো মূল্যায়ন দিতে চায় না। অনেকের সাথেই কাজ করেছি। কিন্তু এই জায়গাটা ঠিক না হলে কাজ করা সম্ভব না। আর কপিরাইটের বিষয়টিতে সোচ্চার হওয়া উচিত।
চলচ্চিত্রে গানের জনপ্রিয়তা এখন কেমন মনে করেন?
অনেকে ভালো কাজ করছে। তবে এখন গানের প্রতি সম্মানটাই তেমন নেই। এখনকার গীতিকাররা তো সাহিত্য বোঝেই না কিন্তু তারা গান লিখছেন। বাণী প্রধান গান আমাদের এখন কমে গেছে। সেই জায়গাগুলো ঠিক করতে হবে। সম্প্রতি ‘ছুঁয়ে দিলে মন’ ছবির কাজ করলাম। যে গানটি হাবিব করেছে। এই ছবিটিতে গান লিখে আমি সন্তুষ্ট। কারণ আমার সাথে পরিচালকের সামঞ্জস্যের জায়গাটা ঠিক ছিল।
মোস্তফা সারওয়ার ফারুকীর সাথে আপনাদের যে প্রডাকশনটা ছিল সেখান থেকে সরে আসার কারণ কী?
আসলে সরে আসার কোনো বিষয় নয়। আগে একটা ক্যাম্প ছিল সেখানে আমরা সবাই একসাথে থাকতাম। সেটা এখন অফিস হয়েছে। সবাই বাইরে থাকছে। যে যার মতো অফিস করছে। এভাবেই এখন কাজ চলছে।
নাটকের মান ও বাজেট প্রসঙ্গে কী বলবেন?
ভালো বাজেটের নাটক ভালো হচ্ছে। এছাড়াও অনেক ভালো নাটক হচ্ছে। যেমন আমি ‘ঢেউ’ টেলিফিল্মটি করলাম। এটি খুব বড় বাজেটের নাটক না হলেও অনেক সাচ্ছন্দে কাজটি করেছি। একটি টেলিফিল্মের জন্য যথেষ্ট সময় নিয়ে কাজটি করা হয়েছে।
এখন নতুন অনেকে চলচ্চিত্র নির্মাণে আসছেন, কিন্তু তারা কিছু চলচ্চিত্র নির্মাণ করে আবার হারিয়েও যাচ্ছেন। এসব নির্মাতারা ইন্ডাস্ট্রির জন্য কতটা সুফল বয়ে আনছেন?
নতুন অনেকে কাজ করছেন। যার সৃজনশীলতা যেমন সে তেমনই কাজ করছেন। কিন্তু তাদের মাঝে সম্মানবোধটি নেই। একজন গীতিকারের জায়গা থেকে বলবো সবকিছুতে সামঞ্জস্য রাখতে হবে। অনেকের সাথে কাজ করেছি কিন্তু সেই সম্মানের জায়গাটা থেকে ফিরে আসতে হয়েছে।