অবরোধের ৭৯ দিন: পেট্রোলবোমার বলি ৬৯ জন

বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের বিরামহীন অবরোধে সহিংসতা কমলেও থামেনি মৃত্যু। সর্বশেষ গতকাল বুধবার মৃত্যুর সঙ্গে লড়ে চলে গেলেন পেট্রোল বোমায় দগ্ধ চাঁদপুরের ট্রাক শ্রমিক খোরশেদ আলম (৩০) ও মাগুরার বালু শ্রমিক ইয়াদুল মোল্লা (২৫)। ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিত্সাধীন অবস্থায় তারা মারা যান। আর এ নিয়ে অবরোধের ৭৯দিনে শুধু পেট্রোল বোমায় মারা গেলেন ৬৯ জন।
প্রাপ্ততথ্যে জানা যায়, এ সময় মোট মৃত্যু হয়েছে ১২৫ জনের। বাকিরা মারা গেছেন গণপিটুনিসহ অন্য ঘটনায়। আহত হয়েছেন ৮৩৩ জন। এদের মধ্যে অগ্নিদগ্ধ হয়েছেন ২৮২ জন। যানবাহন অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুর করা হয়েছে ১ হাজার ৯৫টি।
গত ১৮ মার্চ রাতে চট্টগ্রাম থেকে খুলনাগামী একটি ট্রাক চাঁদপুরের চান্দ্রা সড়কে পৌঁছলে দুর্বৃত্তরা পেট্রোল বোমা নিক্ষেপ করে পালিয়ে যায়। ঘটনাস্থলে অগ্নিদগ্ধ হয়ে মারা যান চালক জাহাঙ্গীর। দগ্ধ হন আরো তিন জন। ২২ মার্চ ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিত্সাধীন অবস্থায় গরু ব্যবসায়ী খন্দকার শরিফুল ইসলাম (৩৮) মারা যান। সর্বশেষ গতকাল দুপুরে মারা গেল ট্রাক শ্রমিক খোরশেদ আলম। শরীরে ২৫ শতাংশ  পোড়া নিয়ে বার্ন ইউনিটে চিকিত্সা নিচ্ছেন রুবেল নামে আরও একজন।
২১ মার্চ রাতে মাগুরা-যশোর মহাসড়কের মঘীরঢালে বালুর ট্রাকে পেট্রোল বোমা নিক্ষেপ করলে অগ্নিদগ্ধ হন ৯জন। প্রথমে জেলার সদর উপজেলার মালিক গ্রামের রওশন আলী (৪২), মতিন মিয়া (৩৫), মতিন গ্রামের শাকিল মিয়া (৩৫) মারা যান। গতকাল মারা যান বালু শ্রমিক ইয়াদুল মোল্লা। তার বাবার নাম মৃত জহুর মোল্লা। বাড়ি মাগুরা জেলার মালিক গ্রামে। এ নিয়ে এ ঘটনায় ৪ জনের মৃত্যু হল।  অগ্নিদগ্ধ অপর পাঁচজন ইলিয়াস হোসেন (৪০), আরব আলী (৩৮), নাজমুল হোসেন (৩৫), ফারুক মিয়া (৩৫) ও ইমরান হোসেন (২৫) বার্ন ইউনিটে চিকিত্সাধীন আছেন। তাদের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে চিকিত্সকরা জানিয়েছেন।
বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন সমিতির মহাসচিব খন্দকার এনায়েত উল্লাহ বলেন, হরতাল ও অবরোধকারীদের মূল টার্গেট যানবাহন। গত আড়াই মাসে সারাদেশে চেরাগোপ্তা হামলা চালিয়ে দৃর্বৃত্তরা ১১শ’ গাড়ি ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেছে। নাশকতাকারীদের মূল টার্গেট খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষ। এ পর্যন্ত যারা অগ্নিদগ্ধ হয়ে মারা গেছেন তাদের সিংহভাগই পরিবহন শ্রমিক ও যাত্রী। তিনি বলেন, এখনও দুর্বৃত্তরা মাঝে মধ্যে যানবাহনে হামলা চালাচ্ছে। এ ব্যাপারে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি সাধারণ মানুষকে এগিয়ে আসার আহবান জানান তিনি।
শ্রমিক হত্যার নিন্দা :পণ্যবাহী গাড়িতে পেট্রোল বোমা নিক্ষেপ ও পরিবহন শ্রমিক নিহতের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ জানিয়েছে বাংলাদেশ ট্রাক-কাভার্ডভ্যান মালিক সমিতি।