অস্ট্রেলিয়াই ফেবারিট

প্রথম কোয়ার্টার ফাইনালের ক্ষেত্রে আমি বরং পরিষ্কার কোনো ফেবারিট দেখতে পাচ্ছিলাম না। কার্যত খেলাটাও হয়েছে দু’দলের সমানে সমান লড়াই। কিন্তু দ্বিতীয় কোয়ার্টার ফাইনালে আমি অস্ট্রেলিয়াকে পরিষ্কার ফেবারিট মনে করছি। ভারতকে একেবারে ছোট করে দেখছি না। কিন্তু অস্ট্রেলিয়া কার্যত এবার বিশ্বকাপে সবচেয়ে ভারসাম্যপূর্ণ দল। ফলে তাদেরকে এগিয়ে না রেখে উপায় নেই।
অস্ট্রেলিয়া দলটাকে দেখলে আপনার মনে হবে, ২০০৭ সালের অস্ট্রেলিয়া দলই কেবল পারে এই দলকে চ্যালেঞ্জ জানাতে। বোলিং, ব্যাটিং, ফিল্ডিং; তিন বিভাগেই ঠিক যেমন প্রয়োজন তেমন প্রয়োজনীয় খেলোয়াড় আছে ওদের দলে। আপনি ব্যাটিংয়ের গভীরতাটা দেখলেই অবাক হয়ে যাবেন। সাত-আট নম্বরে ব্যাটিং করে ফকনার, হাডিন! এরপর মিশেল জনসনও এসে বেশ একটা ইনিংস খেলে দিয়ে যেতে পারবে।
আবার ফাস্ট বোলিংয়ের কথা যদি বলেন, ওদের চারটে ফাস্ট বোলার নিয়মিত ১৪৫ কিলোমিটারের ওপরে বল করে যেতে পারে। মানে ফাস্ট বোলিংটা যদি মূল ব্যাপার হয়, তবে চল্লিশ ওভার ওরা ভয়ঙ্কর পেসে বল করতে পারবে। ডোহার্টির স্পিনটাও খুব খারাপ নয়। আর ফিল্ডিংয়ের কথা আলাদা করে বলাটা খুব জরুরী না। এমন অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে অন্য কোনো দলকেই ফেবারিট বলা কঠিন। তবে দলটা যখন ভারত; বিশেষ করে মহেন্দ্র সিং ধোনির ভারত, তাদেরকে একেবারে অবহেলা করা তো সম্ভব না। হ্যাঁ, আমি বিশ্বাস করি আজকের সেমিফাইনালে ভারত টক্কর দিতে পারলে সেটা পারবে মূলত ধোনির কারণে। সেই পারে আসলে যে কোনো দলের সঙ্গে একা পার্থক্য গড়ে দিতে। আসলে সেমিফাইনাল পর্যায়ের লড়াই তো অনেকটাই স্নায়ুর খেলা হয়। সে খেলায় দু’দল খুব কাছাকাছি থাকবে। অস্ট্রেলিয়া এর আগে চারবার বিশ্বকাপ জিতেছে; ভারত জিতেছে দু’বার, তার মধ্যে তারা আবার বর্তমান চ্যাম্পিয়ন। ফলে দু’দলের কারো জন্যই এই পর্যায়ে খেলাটা নতুন না। সে ক্ষেত্রে দুই অধিনায়কের স্নায়ুর জোর আসলে ম্যাচের ফলাফল ঠিক করে দিতে পারে। আর তেমন কোনো পর্যায়ে খেলা গেলে অবশ্যই ধোনি পরিষ্কার এগিয়ে থাকবে। তার দল পেস বোলিংয়ে একটু পিছিয়ে থাকলেও বেশ এগিয়ে ব্যাটিংয়ে। যদিও বিরাট কোহলি রান পাচ্ছে না বলে দুশ্চিন্তায় আছে তারা। ভারতের জন্য আরেকটা সুবিধার ব্যাপার হয়ে উঠতে পারে উইকেট! সিডনি তুলনামূলক একটু স্পিনারদের সহায়তা দেয়ার জন্য খ্যাত। সেটা যদি হয়, তাহলে ভারত তো বেশ এগিয়ে যাবে। সে ক্ষেত্রে আবার টস একটা বড় ভূমিকা পালন করতে পারে।