রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন (রাসিক) হোল্ডিং ফি দ্বিগুণ করলেও বাড়েনি নাগরিক সেবার মান। বরং মশক নিধনসহ রাসিক প্রদত্ত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে মহানগরবাসী। মশার দাপটে অস্থির হলেও এখাতে রাসিকের কার্যক্রম নেই। এ নিয়ে নগরবাসীর মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ বাড়ছে।
জানা গেছে, নির্বাচনী ইশতেহারে বর্তমান মেয়র মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল হোল্ডিং না বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। কিন্তু তিনি দায়িত্ব গ্রহণের পর হোল্ডিং ফি দ্বিগুণ করেছেন। এখন পাকা বাড়ির জন্য হোল্ডিং খুলতে ২ হাজার টাকা, আধাপাকা ১ হাজার, কাঁচাবাড়ি ১ হাজার ও বাউন্ডারি বিশিষ্ট ফাঁকা জায়গার জন্যও ১ হাজার টাকা হোল্ডিং ফি গুণতে হয়।
রাসিক সূত্র জানায়, ২০১৩-২০১৪ অর্থবছরে হোল্ডিং কর আদায় হয়েছে সাড়ে ৯ কোটি টাকা। এছাড়া অন্যকর মিলিয়ে প্রায় সাড়ে ১০ কোটি টাকা আদায় হয়েছে। একটি খাতে বিপুল কর আদায়েল পরও অর্থনৈতিক সঙ্কটে ভুগছে রাসিক। অর্থের অভাবে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়মিত বেতন দেয়া যাচ্ছে না। একই কারণে মশক নিধনসহ নাগরিক সেবার কার্যক্রমও ঝিমিয়ে পড়েছে।
সূত্র জানায়, গ্যাস সংযোজনের জন্য রাস্তা কাটার ফি নেয়া হলেও তা মেরামত করা হচ্ছে না। রাস্তায় চলতে দুর্ভোগের শিকার হচ্ছে মহানগরবাসী। রাতের সড়ক আলোকায়নের দায়িত্ব রাসিকের হলেও অধিকাংশ এলাকায় পর্যাপ্ত বাতি নেই। বাল্ব না থাকায় এলাকাবাসীকে অন্ধকারে রাস্তা চলাচল করতে হয়। ফলে ছিনতাইসহ নানা দুর্ভোগে পড়েন তারা।
এদিকে নগরীতে বেওয়ারিশ কুকুর ব্যাপকহারে বেড়েছে। কুকুর নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব রাসিকের হলেও দুর্ভোগ পোহাচ্ছে।
অন্যদিকে সাবেক মেয়রের সময়ে নির্মিত স্থাপনা সংরক্ষণ করতে পারছে না রাসিক। নগরীর পাঠানপাড়ার বালুঘাটের লালন শাহ পার্কসহ অধিকাংশ স্থাপনার ব্লক ও ইট চুরি হয়ে যাচ্ছে। পাঠানপাড়া দরগাপাড়ার পদ্মার ধারে গড়ে উঠেছে গরুর গোয়াল, অপরিকল্পিত দোকানপাট। যত্রতত্র ফেলা হচ্ছে ময়লা আর্বজনা।
দরগাহ মাজারের সামনে নির্মিত ব্রিজ লালন শাহ পার্কের মতোই অসমাপ্ত রয়েছে। মতামতের জন্য কয়েক দফায় যোগাযোগের চেষ্টা করেও রাসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আজাহার আলীকে পাওয়া যায়নি। তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা জানান, ‘মেয়রসহ অধিকাংশ কাউন্সিলর নাশকতার মামলায় গ্রেফতার এড়াতে পলাতক থাকায় পরিকল্পনা মাফিক রাসিক চলছে না। পুরো রাসিকই এখন অসহায়।