দুই ডিসিসির নির্বাচন

মেয়র ৫০, কাউন্সিলর পদে ১৮৮৫ জনের মনোনয়ন সংগ্রহ

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে প্রার্থী হতে গতকাল মঙ্গলবার  সাবেক সংসদ সদস্য ও বিকল্প ধারা বাংলাদেশের যুগ্ম মহাসচিব মাহি বি  চৌধুরীর পক্ষে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করা হয়েছে। তার প্রস্তাবক হিসেবে মো. সারওয়ার মোর্শেদ ওই মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন। এ নিয়ে গতকাল পর্যন্ত ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে মোট ২৩ জনের পক্ষে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করা হলো।

দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে গতকাল মেয়র পদে কেউ মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেননি। এই সিটিতে মেয়র পদে মনোনয়নপত্র সংগ্রহকারীর সংখ্যা ২৭ জন। সব মিলিয়ে এ পর্যন্ত ঢাকার  দুই সিটিতে মেয়র পদে মনোনয়নপত্র নিলেন ৫০ জন ।
এদিকে গতকাল পর্যন্ত ঢাকা দক্ষিণের ৫৭টি সাধারণ ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে ৯২৩ জনের পক্ষে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করা হয়েছে। গতকাল  করা হয়েছে ১০ জনের পক্ষে। আর নারীদের জন্য সংরক্ষিত ১৯টি ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পদে মোট ১৭১ জনের পক্ষে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করা হয়েছে। গতকাল করা হয়েছে ৩ জনের পক্ষে।
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ৩৬টি সাধারণ ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে গতকাল পর্যন্ত ৬৫৫ জনের মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করা হয়েছে। গতকাল  করা হয়েছে ২১ জনের পক্ষে। আর নারীদের জন্য সংরক্ষিত ১২টি ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পদে ১৩৬ জনের পক্ষে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করা হয়েছে। গতকাল এ পদের জন্য কেউ মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেননি। সব মিলিয়ে ঢাকার দুই সিটিতে সাধারণ ও সংরক্ষিত ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পদে গতকাল পর্যন্ত মোট এক হাজার ৮৮৫ জন সম্ভাব্য প্রার্থীর পক্ষে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করা হয়েছে।
ঘোষিত তফসিল অনুসারে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ এবং চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ তারিখ আগামী ২৯ মার্চ।
দক্ষিণে মেয়র পদে সম্ভাব্য প্রার্থী: দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে মেয়র পদে যে ২৭ জনের পক্ষে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করা হয়েছে তাদের মধ্যে সংসদ সদস্য হাজী মো, সেলিম ইতিমধ্যেই নির্বাচনে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছেন। বাকি ২৬ জনের মধ্যে রয়েছেন, আওয়ামী লীগ সমর্থিত সাঈদ খোকন, বিএনপি নেতা আব্দুস সালাম, কারাবন্দি বিএনপি নেতা ও সাবেক সংসদ সদস্য নাসিরুদ্দীন আহমেদ পিন্টু, বিএনপিপন্থি শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান  কারাবন্দি মো. সেলিম ভুঁইয়া, জাতীয় পার্টির  হাজী সাইফুদ্দিন আহমদ মিলন, আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য গোলাম মওলা রনি, বাসদ নেতা বজলুর রশিদ ফিরোজ, জাসদ নেতা মো. শহিদুল ইসলাম, ইসলামী আন্দোলনের  মো. আব্দুর রহমান,  রেজাউল করিম চৌধূরী, জাহিদুর রহমান, মশিউর রহমান, এ এস এম আকরাম, আলহাজ্ব কাজী আবুল বাশার,  আবু নাসের মোহাম্মদ মাসুদ হোসাইন, বাবুল সর্দার চাখারী, অ্যাডভোকেট মো. আইয়ুব হোসেন, আবদুল খালেক, দিলীপ ভদ্র, শাহ আলম,  শাহীন খান, মো. সফিউল্লাহ চৌধুরী, মো. রিয়াজউদ্দীন, মো. বাহরানে সুলতান বাহার ও আখতারুজ্জাম ওরফে আয়াতুল্লাহ।
উত্তরে মেয়র পদে সম্ভাব্য প্রার্থী: উত্তর সিটি করপোরেশনে মেয়র পদে যে ২৩  জনের পক্ষে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করা হয়েছে তাঁরা হচ্ছেন-আওয়ামী লীগ সমর্থিত সম্ভাব্য প্রার্থী আনিসুল হক, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আব্দুল আউয়াল মিন্টু, বিকল্প ধারা বাংলাদেশের মাহি বি চৌধুরী, মো. আবু তাহের, ফকির শেখ মুসলেউদ্দীন আহমেদ, শেখ শহীদুজ্জামান, নাগরিক ঐক্যের কারাবন্দি নেতা মাহমুদুর রহমান মান্না, সাবেক সংসদ সদস্য সারা বেগম কবরী, এখলাছ উদ্দিন মোল্লা, নাঈম হাসান, তাইফুল সিরাজ, বিএনএফ সমর্থিত মো. আতিকুর রহমান নাজিম,  এ ওয়াই এম কামরুল ইসলাম, ঢাকা মহানগর উত্তরের জাপা’র সাধারণ সম্পাদক বাহাউদ্দিন আহমেদ বাবুল, বিএনপির বহিষ্কৃত নেতা চৌধুরী তানভীর আহমেদ সিদ্দিকীর ছেলে  চৌধুরী ইরাদ আহমেদ সিদ্দিকী, কাজী মো. শহীদুল্লাহ, দেশের বহুল  আলোচিত ব্যবসায়ী মুসা বিন শমসেরের ছেলে ও জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যানের সাবেক বিশেষ উপদেষ্টা ববি হাজ্জাজ,  হেলেনা জাহাঙ্গীর, জাতীয় স্বাধীনতা পার্টির মোয়াজ্জেম হোসেন খান মজলিশ, সামসুল আলম চৌধুরী, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও যুব ইউনিয়নের সভাপতি আব্দুল্লাহ আল ক্বাফি, মো. আনিসুজ্জামান খোকন ও মো. জামান ভূঁইয়া।

সম্ভাব্য ৮৬ প্রার্থীকে নোটিস:  এ দিকে সিটি করপোরেশন নির্বাচনের  আচরণবিধি লংঘন করে আগাম নির্বাচনী প্রচারণা অব্যাহত রাখায় ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনে মোট ৮৬ জন সম্ভাব্য প্রার্থীকে সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয় থেকে কারণ দর্শানোর নোটিস দেয়া হয়েছে। এদের মধ্যে উত্তর সিটি করপোরেশনে আচরণবিধি লংঘন করায় মেয়র পদে সম্ভাব্য প্রার্থী এখলাছ উদ্দিন মোল্লা ও সামসুল আলম চৌধুরীকে এ নোটিস দেয়া হয়েছে।  এ সিটি করপোরেশনে গতকাল পর্যন্ত মোট ২৩ জনকে কারণ দর্শানোর নোটিস দেয়া হয়েছে।  আর দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে দেয়া হয়েছে ৬৩ জনকে। এরা সবাই সম্ভাব্য কাউন্সিলর প্রার্থী। এর মধ্যে গতকাল দেয়া হয়েছে ২২ জনকে। নোটিসে আগাম প্রচারণামূলক পোস্টার-বিলবোর্ড না সরানোর বিষয়ে পরবর্তী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তাকে ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে।