হারিকেন পদ্ধতিতে কৃত্রিম উপায়ে হাঁসের ডিম থেকে বাচ্চা ফুটিয়ে বাজারজাত করে অনুকরণীয় সফলতা পেয়েছেন বাবুল মিয়া। তার দেখাদেখি আরো অনেকেই এ পেশার সাথে যুক্ত হয়ে নিজেদের ভাগ্য বদলে দিয়েছেন।
নান্দাইলের বাবুল মিয়া অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত পড়ালেখা করেছেন। চাকরির সম্ভাবনা না দেখে বাবুল মিয়া হাঁসের হ্যাচারিতে শ্রমিক হিসেবে যোগ দেন। তিনি জানান, কয়েকমাস হ্যাচারিতে কাজ করার পর পরীক্ষামূলকভাবে নিজ বাড়িতে ‘তুষ পদ্ধতিতে’ বাচ্চা ফোটানোর কাজ শুরু করে দেন। এতে সফলতা এলে বড় পরিসরে কাজ করা চিন্তাভাবনা শুরু করেন। ২০০৫ সালে নান্দাইল চৌরাস্তা বাজারে একটি ঘর ভাড়া নিয়ে তাতে গড়ে তোলেন বাণিজ্যিক হ্যাচারি।
বাবুল মিয়া জানান, হারিকেনের তাপে তুষ গরম হয়ে সৃষ্ট তাপ থেকে পাশের হাউজে রক্ষিত ডিম তা পেয়ে থাকে। তাপমাত্রার নির্দিষ্ট মান বজায় রাখার জন্যে প্রতি তিনঘন্টা পর ডিম ও হারিকেনের জায়গা বদল করে দেয়া হয়। এভাবে একটানা ১০ দিন তা দেয়ার পর ডিমে রক্ত (ভ্রূণ) জমা হওয়ার দৃশ্য দেখা যায়। ছয়দিন শুধু মাত্র তুষের উত্তাপে ডিমগুলো থাকে। এরপর ডিম ঘেরের ওপরের বিছানায় তিনঘন্টা পর পর ঘুরিয়ে দিতে হয়। দেড় সপ্তাহ পর ডিম ফুটে বাচ্চা বেরুতে শুরু করে। সংক্ষেপে এই হল ডিম ফুটানোর প্রক্রিয়া।
হাঁসের খামার থেকে প্রতি হাজার ডিম ৫ থেকে ৬ হাজার টাকায় ক্রয় করে প্রতি হাজার বাচ্চা বিক্রয় করেন ১৮ থেকে ২০ হাজার টাকা দরে। প্রতি মাসে গড়ে তিনি ৩০ থেকে ৩৫ হাজার বাচ্চা উত্পাদন করতে পারেন। এতে তার খরচ বাদে প্রতি মাসে গড়ে তার ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকার মত আয় হয়। তার কারখানায় মাসিক দশ হাজার টাকা বেতনে দুজন শ্রমিক নিয়োজিত রয়েছে।
প্রতিদিনই দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে ক্রেতারা তার হ্যাচারি থেকে বাচ্চা কিনে নিতে আসছে।