শার্শায় পেট্রোলবোমায় দগ্ধ খোরশেদও মারা গেলেন

৮ দিন শরীরে অসহ্য পোড়া যন্ত্রণা নিয়ে মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে অবশেষে চাঁদপুরে পেট্রোলবোমায় দগ্ধ শার্শা উপজেলার বাগআঁচড়া গ্রামের গরুর রাখাল খোরশেদ আলম (৩৪) ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে মারা গেছে। বৃহস্পতিবার রাতে লাশ বাগআঁচড়ার বাড়িতে পৌঁছানোর পর স্বজনদের আহাজারিতে পরিবেশ ভারি হয়ে উঠে। তার অকাল মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। পেট্রোল বোমায় দগ্ধ খোরশেদের লাশ দেখার জন্য বাড়িতে মানুষের ঢল নামে।

একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি খোরশেদ অভাব-অনটনের সংসারে দিনমজুরিসহ যখন যে কাজ পাওয়া যায় তাই করতো। স্ত্রী সন্তানসহ সবাইকে নিয়ে অতি কষ্টে দিন কাটতো তার। গত ১৭ মার্চ মঙ্গলবার বাগআঁচড়া সাতমাইল পশু হাট থেকে রাখাল হিসাবে ট্রাকে যাওয়ার জন্য স্ত্রী আয়শা খাতুনসহ পরিবারের সকলের কাছ থেকে বিদায় নেয়। ৮ দিন পর সে বাড়িতে ফিরলো তবে জীবিত নয়, পেট্রোল বোমার আগুনে দগ্ধ বীভত্স লাশ হয়ে। হরতাল আর অবরোধে ১৮ মার্চ চাঁদপুরের চান্দ্রা চৌরাস্তায় দুর্বৃত্তদের পেট্রোল বোমায় ঐ ট্রাকে থাকা চালক বাগআঁচড়া বাগুড়ী বেলতলা এলাকার সুরত আলী মোড়লের ছেলে জাহাঙ্গীর ঘটনা স্থলেই মারা যায়। দগ্ধ হয় খোরশেদসহ তিনজন। ট্রাকের মালিক ঝিকরগাছার বারবাকপুর গ্রামের শাহাবুদ্দীন খন্দকারের ছেলে শরিফ খন্দকার মারা যাওয়ার পর মৃত্যুর মিছিলে খোরশেদের নাম যোগ হয়। ৮ দিন ঢাকা মেডিক্যালের বার্ন ইউনিটের অসহ্য যন্ত্রণা সহ্য করে অবশেষে মৃত্যুর কাছে হার মানলো সে। খোরশেদ বাগআঁচড়া গ্রামের ভ্যানচালক আব্দুস সোবহানের মেয়ে আয়শা খাতুনকে বিয়ে করে শ্বশুরের দেয়া ১ কাঠা জমিতে টিনের ছাপড়া তুলে বসবাস করতো। তাদের একমাত্র ছেলে মেহেদী হাসান তুষার ৬ষ্ঠ শ্রেণীর ছাত্র। স্ত্রী আয়শা খাতুন জানান, দীর্ঘদিন অবরোধ-হরতালের কারণে পরিবারে ব্যাপক অভাব দেখা দেয়। বিভিন্ন এনজিওসহ পাড়া প্রতিবেশীদের কাছ থেকে ঋণ নিয়ে দেনাগ্রস্ত হয়ে পড়ে সে। অভাবের তাড়নায় স্ত্রী-সন্তানের দিকে তাকিয়ে সে বাগআঁঁচড়া সাতমাইল পশুহাট থেকে গরুর রাখালের কাজ নিয়ে চট্টগ্রাম যায়। সেখান থেকে ফেরার পথে চাঁদপুরে চান্দ্রা চৌরাস্তায় দুর্বৃত্তদের পেট্রোল বোমায় গুরুতর অগ্নিদগ্ধ হয়ে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিত্সাধীন অবস্থায় গত বুধবার দুপুরে তার মৃত্যু ঘটে।