কক্সবাজারের তীরবর্তী বঙ্গোপসাগরে গত দুইদিনে অর্ধশতাধিক ফিশিং ট্রলারে গণডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। গতকাল শুক্রবার ও আগেরদিন বৃহস্পতিবার সকাল থেকে রাত পর্যন্ত সোনাদিয়া ও পাটুয়ারটেকের মাঝামাঝি অঞ্চলে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় ডাকাতদের মারধরে শতাধিক মাঝিমাল্লা আহত হয়েছে। ডাকাতেরা ট্রলারের মাছ, জাল, রসদপত্রসহ অন্তত ৫ কোটি টাকার মালামাল লুট করেছে বলে জানায় কক্সবাজার জেলা ফিশিং বোট মালিক সমিতি।
কক্সবাজার বোট মালিক সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক মাস্টার মোস্তাক আহমদ জানান, গত দুইদিনে শহরের এন্ডারসন রোডের হাজী আবু তাহের সওদাগরের মালিকানাধীন এফবি ছেনুয়ারা ও এফবি ছকিনা, পেশকারপাড়ার ফজল করিমের মালিকানাধীন এফবি ছমিলা, একই এলাকার মোহাম্মদ আলমের মালিকানাধীন এফবি শামীম, উত্তর নূনিয়াচড়ার হোছন বহদ্দারের মালিকানাধীন এফবি মোবারেকাসহ অন্তত অর্ধশত ট্রলার ডাকাতির শিকার হয়। এফবি মোবারেকা চলতি মাসের ৬ তারিখও একইভাবে ডাকাতির শিকার হয়।
জেলা বোট মালিক সমিতির সভাপতি ও আওয়ামী লীগ নেতা মুজিবুর রহমান বলেন, সাম্প্রতিককালে বঙ্গোপসাগরে জলদস্যুদের ‘রামরাজত্ব’ কায়েম হয়েছে। প্রায় প্রতিদিনই সাগরে ১/২টি করে ট্রলারে ডাকাতি হয়। মাত্র ২০ দিন আগেও একই সঙ্গে ১২টি ট্রলার ডাকাতির শিকার হয়েছে। তবে একই সঙ্গে অর্ধশতাধিক ট্রলার ডাকাতির ঘটনা গত দেড় বছরে আর ঘটেনি।
তিনি বঙ্গোপসাগরে জলদস্যুতা দমনে কোস্টগার্ডের ব্যর্থতা তুলে ধরে বলেন, কোস্টগার্ড সদস্যরা গত চার বছরে নানা অজুহাতে ৫ হাজারের বেশি মাঝিমাল্লাকে পিটিয়েছে। অথচ একজন ডাকাতও ধরতে পারেনি।
ট্রলার মালিকরা জানান, কক্সবাজারের কুলবর্তী বঙ্গোপসাগর এখন সোনাদিয়া, বাঁশখালী ও কুতুবদিয়ার জলদস্যু বাহিনীর হাতে জিম্মি। অনেকে আতংকে জেলে পেশা ছেড়ে ভিন্ন পেশা বেছে নিয়েছে।