এক সময়ে বড়-ছোট অসংখ্য জলযানের চলাচল ও মাঝি-মাল্লাদের কোলাহল এবং যান্ত্রিক মোটর লঞ্চ বোটের ভেপু বাজানোর শব্দে মুখরিত ছিলো চুয়াডাঙ্গা। ঐসময়ে দিনে-রাতে চুয়াডাঙ্গার নদীগুলোতে পাল তুলে, দাঁড় বেয়ে ও গুন টেনে যাতায়াত করতো মালামাল ও যাত্রীবাহী অনেক নৌকা-বজরা। এইসাথে নদীবক্ষে সিটি বাজিয়ে চলতো শাসক গোষ্ঠী ইংরেজ সাহেবদের মোটর লঞ্চসমূহ। চুয়াডাঙ্গার মোট ৫টির মধ্যে পানিশূন্য ৪টি নদীবক্ষে এখন পূর্ণ উদ্যোমে চলছে বিভিন্ন ফসলি চাষাবাদ। আর জেলার প্রধান নদী কালের স্রোতস্বিনী মাথাভাঙ্গা এখন মৃতপ্রায়। চুয়াডাঙ্গা জেলায় বড়-ছোট মিলিয়ে মোট নদীর সংখ্যা ৫টি। নদীগুলো হচ্ছে: পশ্চিমবঙ্গের গঙ্গা ও জলাঙ্গী সংযুক্ত মাথাভাঙ্গা এবং ভৈরব নদী নদী কুমার, নবগঙ্গা ও চিত্রার উত্পত্তি চুয়াডাঙ্গার মাথাভাঙ্গা নদী থেকে। মাথাভাঙ্গা নদীর উত্পত্তিস্থল পশ্চিম বঙ্গের নদীয়া জেলার জলাঙ্গী (জলাঙ্গী নদীর উত্তর পাশের) গঙ্গা নদী থেকে। উল্লেখ্য, পশ্চিম বঙ্গের গঙ্গা নদীর বাংলাদেশি অংশের নাম পদ্মা নদী। প্রায় তিনশ’ বছর আগে পশ্চিম বঙ্গের নদীয়া জেলার গঙ্গা-মাথাভাঙ্গার উত্পত্তিস্থল ঐ জলাঙ্গী নামক স্থানটি (কুষ্টিয়ার দৌলতপুর সীমান্ত রেখার ৫/৬ কি.মি. পশ্চিমে ভারতীয় অংশে) মাটি ভরাট হয়ে যায়। ফলে মাথাভাঙ্গা নদীর সঙ্গে কার্যত কোন বড় নদীর সংযোগ নেই। সংযোগ বিচ্ছিন্নতার কারণেই মূলত মাথাভাঙ্গা নদীটি ক্রমশ পানি প্রবাহ হ্রাস পেয়ে অনেকটা পানিশূন্য অবস্থায় রয়েছে।
পানিশূন্য জেলার প্রধান নদী মাথাভাঙ্গার সর্বত্র তলদেশ মধ্যস্থানে গড়ে সাড়ে ৩ ফুট থেকে ৪ ফুটের বেশি পানি নেই। জেলার অবশিষ্ট ৪টি নদী পুরোপুরি পানিশূন্য। পানিশূন্য এই ৪টির মধ্যে ৩টি নদী নবগঙ্গা, চিত্রা ও কুমারের সর্বত্র তলদেশে পুরো মাত্রায় চলছে বিভিন্ন ফসলী চাষাবাদ। এছাড়া শুকিয়ে যাওয়া পানিশূন্য ভৈরব নদীর কোথাও কোথাও চলছে ইরি ও ব্রী ধানের চাষাবাদ। ভরাট হওয়া নদীগুলোকে পুনর্খনন ও ভেঙ্গে যাওয়া পাড়সমূহ সংস্কার করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে বাংলাদেশ সীমানার মধ্যে নতুন একটি চ্যানেল খনন করে পদ্মা নদীর সঙ্গে মাথাভাঙ্গা ও ভৈরব নদী ২টির পুনঃসংযোগ চালু করলে চুয়াডাঙ্গার বিলুপ্তপ্রায় নদীগুলোর পুনর্জাগরণ সম্ভব।