ফ্রান্সের আল্পস পর্বতমালায় বিধ্বস্ত জার্মান বিমানের কো-পাইলট আন্দ্রিয়াজ লুবিত্জ বিষণ্নতায় ভুগছিলেন বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রসিকিউটররা। দীর্ঘদিন ধরেই তিনি মানসিক বিষণ্নতায় ভুগছিলেন বলেও তারা জানিয়েছেন। খবর বিবিসি’র।
ঐ কো-পাইলটের বাড়িতে গতকাল তল্লাশি চালিয়ে গুরুত্বপূর্ণ কিছু জিনিসপত্র জব্দ করেছে পুলিশ। তার ব্যবহূত বিভিন্ন জিনিসপত্র জব্দের পাশাপাশি তার বিষণ্নতার নমুনা সম্বলিত কিছু চিরকুটও পাওয়া গেছে। এগুলোর মধ্যে একটি নোটে ঐদিনের বিমান বিধ্বস্তেরও ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। অবশ্য লুবিত্জার কী ধরনের অসুখে আক্রান্ত সে বিষয়ে ডুসেলডর্ফের ঐ প্রসিকিউটরদের প্রতিবেদনে কিছু বলা হয়নি। জার্মান গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, বিমান কর্তৃপক্ষের দেয়া তথ্যে লুবিত্জারের মানসিক বিষণ্নতার কথা বলা হয়েছে এবং ঐ বিষয়গুলো এখন মূল্যায়ন করে দেখা হচ্ছে। তবে এ ঘটনার পেছনে কোন রাজনৈতিক কিংবা ধর্মীয় বিষয় সম্পৃক্ত নয়, এমনকি আত্মহত্যা করার মতো কোন চিরকুটও পাওয়া যায়নি।
একজন প্রসিকিউটর বলেন, লুবিেজর যে দুই জায়গায় থাকতেন সেসব জায়গায় তল্লাশি চালিয়েছে জার্মান পুলিশ। তারা তার ডুসেলডর্ফের ফ্ল্যাট এবং ফ্রাঙ্কফুটের উত্তরে বাবা-মায়ের সাথে যে ফ্ল্যাটে থাকতেন সেখান থেকে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পেয়েছেন। এসব জিনিসের পাশাপশি তার মানসিকভাবে অসুস্থতারও প্রমাণ পাওয়া গেছে। তিনি মানসিকভাবে অসুস্থ থাকলেও বিষয়টি কর্মস্থলে গোপন রেখেছিলেন তিনি। এর আগে শুক্রবার জার্মান গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়, ২০০৯ সালে মারাত্মক বিষণ্নতার কারণে দীর্ঘদিন প্রশিক্ষণের বাইরে রাখা হয়েছিলো লুবিত্জাকে।
মঙ্গলবারের ঐ বিমান দুর্ঘটনায় কো-পাইলট লুবিত্জসহ মোট ১৫০ জন নিহত হয়। বিমানটির ব্লাক বক্সের তথ্য থেকে ধারণা করা হচ্ছে, বিমানের পাইলটকে ককপিটের বাইরে রেখে ঠাণ্ডা মাথায় প্রায় আট মিনিট ধরে তিনি বিমানটিকে নিচে নামতে দেন এবং পর্বতমালার সাথে ধাক্কা লাগিয়ে বিধ্বস্ত করেন।