সোনারগাঁও (নারায়ণগঞ্জ) সংবাদদাতা
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও উপজেলার টিপরদী নামক স্থানে শনিবার সড়ক দুর্ঘটনায় এক পোশাক শ্রমিক নিহত হওয়ার ঘটনায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের টিপরদী এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। নিহত মাহাবুব আলম (২৭) বরিশালের কানেতপুর গ্রামের বাসিন্দা। তিনি নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও উপজেলার সোনাকান্দি গ্রামে বাসিন্দা জসিমের বাড়িতে ভাড়া বাসায় থাকতেন।
সড়ক দুর্ঘটনায় মাহাবুবের মৃত্যুর খবর ‘চৈতি কম্পোজিট লিমিটেড’ কারখানায় ছড়িয়ে পড়লে সহ-শ্রমিকরা কাজে যোগদান না করে মহাসড়কে লাশ নিয়ে অবস্থান নেয়। এ সময় উত্তেজিত শ্রমিকরা লাঠিসোঁটা হাতে নিয়ে বিক্ষোভ মিছিল করে ১০/১৫ টি যানবাহনে ব্যাপক হামলা, ভাঙচুর ও তিনটি যানবাহনে অগ্নিসংযোগ করে। উত্তেজিত শ্রমিকদের ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা করলে পুলিশের সাথে শ্রমিকদের দফায় দফায় সংঘর্ষ, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষে আট পুলিশ সদস্য ও ১০ পোশাক শ্রমিকসহ কমপক্ষে ৫০ জন আহত হন। আহতদের মধ্যে একজনের অবস্থা আশংকাজনক। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ প্রায় ১‘শ ৭৫ রাউন্ড রাবার বুলেট ও ১০ রাউন্ড টিয়ারশেল ছুড়ে। এ সময় পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে এক পোশাক শ্রমিককে আটক করে। ঘটনার পর থেকে পুরো টিপরদী এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ওই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
এদিকে প্রায় তিন ঘন্টাব্যাপী পোশাক শ্রমিকদের রাস্তা অবরোধ, পুলিশের সাথে সংঘর্ষ ও তাণ্ডবের ঘটনায় টিপরদী পয়েন্ট থেকে মহাসড়কের দুই প্রান্তের প্রায় ২০ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। যানজটের কবলে পড়ে এ সময় শতশত যাত্রী চরম দুর্ভোগ পোহান।
পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, শ্রমিক মাহাবুব আলম প্রতিদিনের মতো শনিবার সকালেও কর্মস্থলে যোগদান করতে ভাড়া বাসা থেকে কারখানার উদ্দেশ্যে রওনা হন। সকাল সাড়ে সাতটার দিকে কর্মস্থলের বিপরীত দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের টিপরদী নামক স্থানে একটি ট্রাক যাত্রীবাহী একটি বাসকে ধাক্কা দেয়। এ সময় রাস্তা পার হতে থাকা মাহবুব আলমকে যাত্রীবাহী বাসটি চাপা দিয়ে খাদে পড়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই পোশাক শ্রমিক মাহাবুব আলম নিহত হন। এ সময় আহত হয় কমপক্ষে ১০ যাত্রী।
এ ঘটনা ওই গার্মেন্সের শ্রমিকদের মাঝে ছড়িয়ে পড়লে সহকর্মীরা বিক্ষোভে ফেটে পড়েন। এ সময় বিক্ষুব্ধ হয়ে কয়েক‘শ শ্রমিক কাজে যোগদান না করে লাঠিসোঁটা নিয়ে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে গিয়ে অবস্থান নেয় ও খাদে পড়ে যাওয়া যাত্রীবাহী বাসটিতে ও এক সাংবাদিকের মোটর সাইকেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। এ সময় শ্রমিকরা মহাসড়কে খণ্ড খণ্ড মিছিল ও দোয়েল পরিবহনের গ্যারেজে হামলাসহ ১৫/২০টি যানবাহনে ব্যাপক ভাঙচুর চালায়। খবর পেয়ে সোনারগাঁ থানা পুলিশ, কাঁচপুর হাইওয়ে পুলিশ, নারায়ণগঞ্জ ইন্ডাস্ট্রিজ পুলিশ, নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ, র্যাবসহ বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে। এ সময় উত্তেজিত শ্রমিকদের সাথে পুলিশের দফায় দফায় সংঘর্ষ, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে।
সংঘর্ষে সোনারগাঁ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুল ইসলাম, ওসি সরাফত, সিনিয়র এএসপি সরাফত উদ্দিন, কনস্টেবল রবিন, শেখ নাঈমসহ আট পুলিশ আহত হন। সবমিলিয়ে কমপক্ষে অর্ধশত আহত হন। আহতদের মধ্যে এক শ্রমিকের অবস্থা আশংকাজনক। তাদের সোনারগাঁ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন ক্লিনিকে ভর্তি করানো হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ প্রায় ১‘শ ৭৫ রাউন্ড রাবার বুলেট ও ১০ রাউন্ড টিয়ার শেল ছুড়েছে। এ সময় পুলিশ জাকির হোসেন নামের এক পোশাক শ্রমিককে ঘটনাস্থল থেকে আটক করে।
সোনারগাঁও থানার ওসি মো. কামরুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, এ ঘটনায় একাধিক মামলার প্রস্তুতি চলছে।