কী হবে মেলবোর্নে? না, এ বছর আর কোনো ফর্মুলা ওয়ান রেস হবে না মেলবোর্নে। বিশ্ব রাজনীতিরও কোনো জরুরি বৈঠক নেই এখানে। তারপরও আগামীকাল সারা দুনিয়ার, অন্তত ক্রিকেট দুনিয়ার চোখ থাকবে এই মেলবোর্নে। কারণ আর কিছুই নয়, মেলবোর্ন ক্রিকেট গ্রাউন্ড, এমসিজিতে আগামীকাল ২০১৫ বিশ্বকাপের ফাইনালে মুখোমুখি হবে দুই স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড।
পারফরম্যান্সের বিচারে, নয়ন কাড়ার বিচারে এবারের বিশ্বকাপের সেরা দুই দলই চলে এসেছে ফাইনালে। ফলে এমসিজিতে জমজমাট এক ক্রিকেট উত্সব দেখতে এখন মুখিয়ে আছে ক্রিকেট বিশ্ব। সাবেক ও বর্তমান তারকা ক্রিকেটাররা বলছেন, তাদের আর তর সইছে না। আর এরই মধ্যে অস্ট্রেলিয়ান সংবাদ মাধ্যম বলছে, আরেকটা স্বপ্ন ছোঁয়ার দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে গেছে তাদের দল।
মেলবোর্নে দু’দলের লড়াইয়ে অনেকটাই নিয়ন্তা মনে করা হচ্ছে এমসিজি মাঠের আয়তনকে। এই বিশাল মাঠে কোন দলের ব্যাটসম্যান ও ফিল্ডাররা ভালো মানিয়ে নিতে পারেন, তার ওপরই নির্ভর করছে আসলে ফাইনালের সাফল্য। শেষ পর্যন্ত সাফল্য যার পালকেই যুক্ত হোক, একটা রেকর্ড এমসিজি করে ফেলতে যাচ্ছে—বিশ্বকাপের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি দর্শকের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত ম্যাচ হতে যাচ্ছে এই ফাইনাল।
অস্ট্রেলিয়ার কিংবদন্তী স্পিনার শেন ওয়ার্ন বলছেন, দুই স্বাগতিকের লড়াই দেখতে এখানে মুখিয়ে থাকবেন তিনি। প্রথমেই নিজের দলকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেছেন,‘অস্ট্রেলিয়া দলের খেলোয়াড়রা, তোমাদের সবাইকে অভিনন্দন। অসাধারণ খেলে ফাইনালে এসেছো তোমরা। এখন অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ড ফাইনাল! শেষ পর্যন্ত কার হবে এই ফাইনাল?’
সাবেক ইংলিশ অধিনায়ক ও ক্রীড়া বিশ্লেষক মাইকেল ভন বলেছেন, ‘বিশ্বকাপের সেরা দুই দল এবার এমসিজির এক লাখ দর্শকের সামনে লড়বে।’ আর সাবেক ক্যারিবীয় গ্রেট ইয়ান বিশপ আরেক ধাপ এগিয়ে বলেছেন, ‘বিশ্বকাপের সেরা দুই দল, সেরা দুই অধিনায়ক ফাইনালে মুখোমুখি হচ্ছে। হূদয় বলছে নিউজিল্যান্ড, যুক্তি বলছে অস্ট্রেলিয়া জিতবে।’
অস্ট্রেলিয়ান সংবাদ মাধ্যম অবশ্য এরই মধ্যে নিজেদের জয় দেখতে পাচ্ছে।
দ্য টেলিগ্রাফ লিখেছে, ‘এএসজেডএসি (অস্ট্রেলিয়া অ্যান্ড নিউজিল্যান্ড আর্মি ক্রপস) গঠন করে এক সঙ্গে যুদ্ধে যাওয়ার ঠিক একশ’ বছর পর অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড এবার মহাকাব্যিক এক ফাইনালে মুখোমুখি হচ্ছে ক্রিকেট বিশ্বকাপে। তারা যদি নিজেদের মাটিতেই পঞ্চম শিরোপাটি জিততে চায় তাহলে মাইকেল ক্লার্কের দলকে এখন বিশ্বকাপের একমাত্র অপরাজিত দলের মুখোমুখি হতে হবে। ট্রান্স-তাসমানিয়ান ইতিহাসের অসাধারণ সব বর্ণময়তার পরও এই ম্যাচটি হবে নজিরবিহীন এক লড়াই। এমনকি রাগবি ইউনিয়ন বিশ্বকাপেও তারা কখনো মুখোমুখি হয়নি।’
দ্য এজ পত্রিকা লিখেছে, ‘অস্ট্রেলিয়ার বিশ্বকাপ স্বপ্ন এখনও বেঁচে আছে এবং বাহাল তবিয়তে আছে। তবে এখন সে স্বপ্ন জিভে জল আনা এক ট্রান্স-তাসমানিয়ান ফাইনালে পরিণত হয়েছে।’
সিডনি মর্নিং হেরাল্ড লিখেছেন, ‘বিশ্বকাপ জুড়ে এবি ডি ভিলিয়ার্স, ক্রিস গেইল, রোহিত শর্মা, ওয়াহাব রিয়াজ এবং মাহমুদউল্লাহরা অসাধারণ সব পারফরম্যান্স করে নজর কেড়েছেন। কিন্তু এবার সময় দুই স্বাগতিকের নজর কাড়ার।’