স্বাধীনতা দিবসের ছুটির সঙ্গে সাপ্তাহিক ছুটি যোগ হওয়ায় দেশের প্রধান পর্যটন কেন্দ্র কক্সবাজারে এখন লাখো পর্যটকের ভিড়। সমুদ্র সৈকতসহ জেলার অন্য পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে দেখা দিয়েছে দারুণ প্রাণচাঞ্চল্য। বিপণী কেন্দ্রগুলো বেশ জমজমাট। পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে ব্যবসায়ীদের যেন দম ফেরার ফুরসত নেই। রাস্তাঘাটেও দেখা দিচ্ছে ট্রাফিক জ্যাম। পর্যটনের এই ভরা মৌসুমের শেষদিকে এসে এমনই জমজমাট হয়ে ওঠেছে কক্সবাজারের পর্যটন শিল্প। আর এ ঘটনাকে ব্যবসায়ীরা ‘তীব্র খরার মাঝে কয়েক ফোঁটা বৃষ্টির মত’ মনে করছেন।
পর্যটন স্পটগুলো সরেজমিন ঘুরে জানা গেছে, পর্যটনের এই ভরা মৌসুমের শেষদিকে এসে স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে গত বৃহস্পতিবার থেকে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে দলে দলে কক্সবাজারে বেড়াতে আসছেন পর্যটকরা। ব্যক্তিগত গাড়ী ও বিভিন্ন সার্ভিস বাসে করে লাখো পর্যটক কক্সবাজারে আসায় রাস্তাঘাটেও সৃষ্টি হচ্ছে মারাত্মক ট্রাফিক জ্যাম। বিপণীকেন্দ্রগুলোও এখন দারুণ জমজমাট। ব্যবসায়ীরা পার করছেন কর্মব্যস্ত সময়।
পর্যটন সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, গত তিনদিনে প্রায় ২ লাখ পর্যটক কক্সবাজারে বেড়াতে এসেছেন। ইতোমধ্যে শহরের হোটেল-মোটেল ও রেস্টহাউসের প্রায় আশি ভাগ কক্ষ অতিথি পূর্ণ হয়েছে। তবে রবিবার থেকে শহরের হোটেল-মোটেলে আগাম কোন বুকিং নেই বলে জানান কক্সবাজার হোটেল-মোটেল গেস্ট হাউজ মালিক সমিতির সভাপতি ওমর সুলতান কোম্পানী। একই কথা জানান তারকা হোটেল কক্সটুডের প্রকল্প পরিচালক সাখাওয়াত হোসেন।
ট্যুর অপারেটর এসোসিয়েশন অব কক্সবাজার (টোয়াক বাংলাদেশ) সভাপতি এসএম কিবরিয়া খান জানান, রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে চলতি মৌসুমে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক পর্যটক আসেনি কক্সবাজারে। ফলে টেকনাফ থেকে সেন্টমার্টিনগামী অধিকাংশ জাহাজ চলাচল বন্ধ রয়েছে। তবে মৌসুমের শেষদিকে এসে স্বাধীনতা দিবসের ছুটিতে আশাতীত সংখ্যক পর্যটক এসেছেন কক্সবাজারে। কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত ছাড়াও শহর ও পার্শ্ববর্তী পর্যটন স্পট বিশেষ করে হিমছড়ী ঝর্ণা, দরিয়ানগর, ইনানী, সেন্টমার্টিন, টেকনাফ, ডুলাহাজারা বঙ্গবন্ধু সাফারী পার্কে এখন পর্যটকদের উপচে পড়া ভীড়। আদিনাথ মন্দির, অগ্গ মেধা ক্যাং এবং রামুর বৌদ্ধ মন্দিরসহ ধর্মীয় তীর্থস্থানগুলোতেও প্রচুর সংখ্যক পর্যটক ভ্রমণ করছেন।
কক্সবাজার সৈকতে পর্যটকদের স্নানকালে নিরাপত্তাদানকারী সংস্থা রবি লাইফগার্ডের ইনচার্জ ছৈয়দ নূর জানান, স্বাধীনতা দিবসের সাথে টানা ছুটিতে গত ৩ দিন সকাল ও বিকালে লক্ষাধিক পর্যটক সমুদ্র সৈকত ভ্রমণ করেছেন। একই সঙ্গে হাজার হাজার পর্যটক প্রতিদিন সমুদ্রস্নানে মাতছেন। তবে সংশ্লিষ্টদের সতর্কতার কারণে এখনও কোন বড় ধরনের দুর্ঘটনার ঘটনা ঘটেনি বলে তিনি জানান।
অন্যদিকে পর্যটকদের নিরাপত্তার দিকে লক্ষ্য রেখে পুলিশের টহলও বাড়ানো হয়েছে বলে জানান কক্সবাজারের পুলিশ সুপার শ্যামল কুমার নাথ। এছাড়া র্যাব এবং সাদা পোশাকের পুলিশও দায়িত্ব পালন করছে বলে জানান তিনি।