বিমানের ইঞ্জিনে আগুন, অল্পের জন্য ২১৩ আরোহীর প্রাণ রক্ষা

অল্পের জন্য রক্ষা পেলো বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ২১৩ জন যাত্রী ও ক্রুসহ একটি উড়োজাহাজ। এয়ারবাস এ ৩১০ উড়োজাহাজটি গতকাল শনিবার সিঙ্গাপুর থেকে ২০৪ জন যাত্রী ও ৯ জন ক্রুসহ ঢাকায় ফিরছিল। বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে সিঙ্গাপুর চাঙ্গেই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ঢাকার উদ্দেশে উড্ডয়নের তিন ঘণ্টা পর আকাশে উড়োজাহাজটির একটি ইঞ্জিনে হঠাত্ আগুন লাগে।

বিষয়টি সাথে সাথে বুঝতে পারেন পাইলট। নিজস্ব অগ্নি নির্বাপক ব্যবস্থা কাজে লাগিয়ে আকাশে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। এ সময় পাইলট প্রথমে উড়োজাহাজটি চট্টগ্রাম আমানত শাহ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণের চেষ্টা করেন। পরে সিদ্ধান্ত পাল্টান এবং হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণের সিদ্ধান্ত নেন। বিষয়টি উড়োজাহাজের অভ্যন্তরে মাইক্রোফোনে যাত্রীদের জানানো হয়। এতে বিমানের যাত্রী ও ক্রু’দের মধ্যে আতঙ্কের সৃষ্টি হয় এবং কান্না-কাটির রোল পড়ে যায়।
ইতিমধ্যে পাইলট জরুরি অবতরণের এই সিদ্ধান্ত হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমাবন্দরের এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলকে জানিয়ে দেন এবং জরুরি অবতরণের জন্য সার্বিক প্রস্তুতি নিতে বলেন। এই বার্তা পেয়ে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ হযরত শাহজালাল বিমানবন্দরে সকল ফ্লাইট ওঠা-নামা বন্ধ করে দেন এবং এয়ারপোর্টে রেড এলার্ট জারি করেন। অবতরণকালে সম্ভাব্য দুর্ঘটনা মোকাবিলায় দমকল, অ্যাম্বুলেন্সসহ প্রয়োজনীয় পর্যাপ্ত সংখ্যক কর্মীদের তৈরি রাখা হয়। রাত ৮টা ৩৬ মিনিটে উড়োজাহাজটি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের রানওয়েতে নিরাপদে অবতরণ করে।

সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়, উক্ত উড়োজাহাজটির পাইলট বছর খানেক আগে চাকরি থেকে অবসরে যান। পরে বিমান কর্তৃপক্ষ তাকে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেয়। ইয়েমেনের একজন ইন্সট্রাকটর তাকে ওই উড়োজাহাজে প্রশিক্ষণ দিচ্ছিলেন। গত সপ্তাহে বিমানের অপর একটি বোয়িং ৭৭৭-৩০০ ইআর উড়োজাহাজ একই ধরনের দুর্ঘটনার হাত থেকে রক্ষা পায়।