কিউইদের গুঁড়িয়ে পঞ্চম শিরোপা অস্ট্রেলিয়ার

সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে শেষ পর্যন্ত জয় ছিনিয়ে নিল অজিরা। ফাইনালের অপরাজিত থাকা নিউজিল্যান্ডকে গুঁড়িয়ে দিয়ে একপেশে লড়াইয়ে জয় পেল অস্ট্রেলিয়া। এর ফলে পঞ্চমবারের মতো বিশ্বকাপ শিরোপা জয়ের স্বাদ পেল তারা। ক্রিকেট সাম্রাজ্য তাদের এমন জয়ে এটাই আর একবার ঘোষণা করলো অস্ট্রেলিয়া। ক্রিকেট শ্রেষ্ঠত্বের মুুকুটের একমাত্র অধিকারী যেন তারাই। আর সেটা বুঝিয়ে দিতে বেশি বেগ পেতে হয়নি ক্লার্ক, ফিঞ্চ, ওয়ারনার, ফকনার ও মিচেল স্টার্কদের।
নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ১৮৪ রানের লক্ষ্যে খেলতে নেমে ৩৩.১ ওভারে ৩ উইকেট হারিয়ে জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় মাইকেল ক্লার্ক বাহিনী। একই সঙ্গে ৭২ বলে ৭৪ রানের দারুন ইনিংসের মধ্য দিয়ে ক্লার্ক শেষ করলেন একদিনের ক্রিকেট ক্যারিয়ার। স্বাগতিক দল হিসেবে অস্ট্রেলিয়া প্রথম বিশ্বকাপ নিল। ম্যান অব দ্য ম্যাচ নির্বাচিত হন জেমস ফকনার।
বিশ্বকাপের ফাইনালের চাপটা যেন নিতে পারলো না নিউজিল্যান্ড। অস্ট্রেলিয়ার একের পর এক আঘাতে ১৮৩ রানেই গুটিয়ে যায় তারা। ৪৫ ওভারে সব উইকেট হারিয়ে এ রান করতে সক্ষম হয় ম্যাককালাম বাহিনী। সাবলীল খেলে ১০১ বল বাকি থাকতেই ৭ উইকেটে ২০১৫ বিশ্বকাপের ফাইনাল জিতে নেয় অস্ট্রেলিয়া।
নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ১৮৪ রানের লক্ষ্যে খেলতে নেমে অস্ট্রেলিয়ার উদ্বোধনী জুটি সাজঘরে ফিরে গেলেও তেমন বিপদে পড়তে হয়নি তাদের। ফিঞ্চ শূন্য ও ওয়ারনার ৪৫ রান করেন। প্রথম ওভারে দলের ২ রানের মাথায় ফিঞ্চ ক্যাচ তুলে দেন বোল্টের হাতে। দ্বিতীয় উইকেটের পতনের পর দলের হাল ধরেন স্টিভ স্মিথ ও মাইকেল ক্লার্ক। স্মিথ ৭১ বলে করেন অপরাজিত ৫৬ রান।
এদিকে ম্যাককালাম, গাপটিল ও উইলিয়ামসনের বিদায়ের পর নিউজিল্যান্ড প্রথমেই ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে। তারা কেউই নামের প্রতি সুবিচার করতে পারেন নি।
এলিয়টের অর্ধশতক ও টেইলরের ৪০ রানের ওপর ভর করে কিউইরা কিছুটা এগিয়ে যায়। কিন্তু ৩৫ ওভারের পর থেকে আবারো পর পর ৩ উইকেটের পতনে বিপর্যয়ে পড়ে ব্ল্যাকক্যাপরা। ৩৫.১ ও ৩৫.৩ ওভারে ফকনারের দুর্দান্ত বোলিংয়ে টেইলর ও এন্ডারসন সাজঘরে ফিরে যান। এন্ডারসন শূন্য রান করেন। কিন্তু তারা সাজঘরে ফিরতে না ফিরতে পরের ওভারেই আবারো আঘাত হানেন স্টার্ক। লুক রঞ্চিকে শূন্য রানে ফেরান তিনি। ভেট্টরি ৪০তম ওভারে ৯ রানে বোল্ড হন ওয়াটসনের বলে। পরের ওভারেই গ্রান্ট এলিয়টের বিদায় ঘণ্টা বেজে যায়। তিনি ৮৩ রানে ফকনারের বলে ক্যাচ দেন উইকেট কিপার হ্যাডিনের হাতে।
IMG0
নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম আঘাত করেন মিচেল স্টার্ক। তার প্রথম ওভারের ৫ম বলে অধিনায়ক ব্যান্ডন ম্যাককালাম বোল্ড হয়ে যান। তিনি শূন্য রানে সাজ ঘরে ফিরেন। দ্বিতীয় উইকেটটি জায়েন্ট ম্যাটসম্যান মার্টিন গাপটিলের। ১২তম ওভারে ১৫ রানে গাপটিলকে ফিরিয়ে দেন গ্লেন ম্যাক্সওয়েল। ঠিক পরের ওভারেই জনসনের শিকার কেন উইলিয়ামসন। ১২ রান করতে সক্ষম হন তিনি।
বিশ্বকাপ ক্রিকেটের ফাইনালে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টস জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয় নিউজিল্যান্ড। অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্নে রবিবার বাংলাদেশ সময় সকাল সাড়ে ৯টায় নিউজিল্যান্ড অস্ট্রেলিয়ার মুখোমুখি হয়। উদ্বোধনী ব্যাটিংয়ে নামেন ব্র্যান্ডন ম্যাককালাম ও মার্টিন গাপটিল। অস্ট্রেলিয়ার জনসন ৩০ রানে ৩ এবং ফকনার ৩৬ রানে ৩ উইকেট নেন।
IMG1
ফাইনালের দুই দলেই কোনো পরিবর্তন করা হয় নি। টসে জয় লাভের পর অস্ট্রেলিয়াকে ফিল্ডিংয়ে পাঠান নিউজিল্যান্ড অধিনায়ক ব্যান্ডন ম্যাককালাম। শেষ ওয়ানডে খেলতে নামা অস্ট্রেলিয়া অধিনায়ক মাইকেল ক্লার্কও জানান, টসে জিতলে তিনিও ব্যাটিং বেছে নিতেন।