নাছির ও মনজুরের বিরুদ্ধে অভিযোগ

চট্টগ্রামে আওয়ামী লীগ সমর্থিত মেয়র প্রার্থী আ.জ.ম নাছির উদ্দিন ও বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোট সমর্থিত মেয়র প্রার্থী এম মনজুর আলমের বিরুদ্ধে আচরণ বিধি লংঘনের অভিযোগ উঠেছে। এদিকে সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার শেষ দিন গতকাল রবিবার রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয় ঘিরে উত্সবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়। মনোনয়নপত্র জমা দেন ওই দুই জনসহ শতাধিক সম্ভাব্য মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থী। সবমিলিয়ে এই সিটি নির্বাচনে মেয়র পদে ১৩ জন, কাউন্সিলর পদে ২৮৮ জন এবং সংরক্ষিত কাউন্সিলর পদে ৭১ জন সম্ভাব্য প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিলেন।

গত শনিবার রিটার্নিং অফিসারের কাছে এম মনজুর আলমের বিরুদ্ধে আচরণ বিধি লংঘনের লিখিত অভিযোগ করেন আ.জ.ম নাছির উদ্দিনের সমর্থক নাগরিক কমিটির কো-চেয়ারম্যান নইমউদ্দিন। সেখানে নির্বাচনী অফিসে মিলাদ পড়ানোর অভিযোগ আনা হয়েছে।
অন্যদিকে আ.জ.ম নাছির উদ্দিনের বিরুদ্ধে গতকাল মৌখিকভাবে রিটার্নিং অফিসারের কাছে অভিযোগ করেছে বিএনপি। এ ব্যাপারে মনজুর আলমের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক ও বিএনপির কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান বলেন, আমাদের প্রার্থীর বিরুদ্ধে একটি অভিযোগ দেয়া হয়েছে। অথচ পত্রপত্রিকায় দেখেছি মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন সাহেব বলেছেন, আ.জ.ম নাছির উদ্দিনকে ভোট দিলে জলাবদ্ধতা থাকবে না। আওয়ামী লীগ নেতা হাছান মাহমুদ সাহেবও বলেছেন সরকারি দলের প্রার্থীকে ভোট না দিলে চট্টগ্রামের উন্নয়ন হবে না। এগুলোও পরিপূর্ণ আচরণ বিধির লংঘন। আমরা আজ এ বিষয়ে মৌখিকভাবে রিটার্নিং অফিসারের কাছে অভিযোগ দিয়ে গেলাম। আমরা নির্বাচন কমিশনের কাছে নিরপেক্ষ আচরণ প্রত্যাশা করি।
এর আগে সকাল ৯টার দিকে বিএনপি’র কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় কয়েকজন নেতাকে নিয়ে মনোনয়নপত্র জমা দেন এম মনজুর আলম। এসময় তার সঙ্গে ছিলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান, নগর বিএনপির সভাপতি আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, কেন্দ্রীয় সদস্য মাহবুবের রহমান শামীম প্রমুখ। মনজুরকে সমর্থন দানকারী সংগঠন চট্টগ্রাম উন্নয়ন আন্দোলনের একাধিক নেতাও এসময় ছিলেন।
দুপুর ১২টার দিকে মনোনয়নপত্র জমা দেন আওয়ামী লীগ সমর্থিত মেয়র প্রার্থী আ.জ.ম নাছির উদ্দিন। তার সঙ্গে ছিলেন সাবেক মেয়র ও নগর আওয়ামী লীগ সভাপতি এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী, নুরুল ইসলাম বিএসসি, সিডিএ চেয়ারম্যান আবদুচ ছালামসহ অন্য নেতারা। এছাড়া ওয়ার্ড কাউন্সিলর, সংরক্ষিত কাউন্সিলর পদের শতাধিক প্রার্থী কর্মী-সমর্থক পরিবেষ্টিত অবস্থায় রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ে গিয়ে মনোনয়নপত্র জমা দেন।
মনোনয়নপত্র জমা দিয়ে রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয় ত্যাগ করার সময় সাংবাদিকের সাথে মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীরা কথা বলেন। মেয়র প্রার্থী এম মনজুর আলম বলেন, পত্রিকায় দেখেছি এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীও নানা প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। অথচ আমরা ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবসে নির্বাচনী অফিসে মিলাদ পড়িয়েছিলাম। সেটা নিয়ে অভিযোগ করা হয়েছে। তিনি বলেন, আমি অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন চাই। জয়-পরাজয়ের মালিক মহান আল্লাহ। তবে নির্বাচন অবশ্যই সুষ্ঠু হতে হবে।

মনোনয়নপত্র জমা দিয়ে বের হওয়ার সময় মেয়র প্রার্থী আ.জ.ম নাছির উদ্দিন বলেন, চট্টগ্রামে জলাবদ্ধতা একটি বড় সমস্যা। আমি নির্বাচিত হলে সবাইকে সাথে নিয়ে জলাবদ্ধতাসহ চট্টগ্রামের আর যে সকল সমস্যা রয়েছে, তা সমাধানের চেষ্টা করবো। আমার দৃঢ় বিশ্বাস নগরবাসী আমাকে নির্বাচিত করার মাধ্যমে তাদের সেবা করার সুযোগ দেবেন।