পরম শ্রদ্ধায় লি কে শেষ বিদায় জানাল সিঙ্গাপুর

একুশ বার তোপধ্বনির মধ্যে সম্পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় পরম শ্রদ্ধার সঙ্গে সম্পন্ন হল আধুনিক সিঙ্গাপুরের রূপকার ও প্রথম প্রধানমন্ত্রী লি কুয়ান ইউয়ের শেষকৃত্য অনুষ্ঠান। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে শেষ শ্রদ্ধা জানানোর পর চিরবিদায় জানানোর জন্য তার কফিন মান্দাই শ্মশানঘাটে নেয়া হয়। এই উপলক্ষ্যে সেখানে সমবেত হয়েছিল হাজার হাজার মানুষ।

এর আগে রবিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২ টা নাগাদ  ইউনিভার্সিটি কালচারাল সেন্টারে পৌঁছায় লি কুয়ান ইউয়ের কফিন। কফিন পৌঁছানোর পরপরই দেশব্যাপী ঠিক চারটা নাগাদ এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। এরপর জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশন ও তোপধ্বনির মাধ্যমে শুরু হয় দেশটির জাতির জনকের শেষকৃত্য অনুষ্ঠানের মূলপর্ব।
এ সময় অনুষ্ঠানস্থলের ওপর দিয়ে উড়ে যায় সিঙ্গাপুর বিমান বাহিনীর যুদ্ধবিমান। স্থানীয় সময় দুপুর সাড়ে ১২টায় পার্লামেন্ট হাউস থেকে লি কুয়ানের কফিন রওনা হওয়ার মাধ্যমে শুরু হয় এই আনুষ্ঠানিকতা। ২৫ মার্চ থেকে পার্লামেন্ট হাউসেই তার মরদেহ শায়িত ছিল।
প্রিয় নেতার শেষকৃত্য অনুষ্ঠানে যোগ দিতে বৃষ্টি উপেক্ষা করে সিঙ্গাপুরের রাজপথে নামে লাখো মানুষের ঢল। সকাল থেকে শুরু হওয়া বৃষ্টি উপেক্ষা করে ছাতা, রেইনকোট পরে ও সিঙ্গাপুরের জাতীয় পতাকা হাতে নিয়ে রাজধানীতে লাইনে দাঁড়ায় লাখ লাখ সাধারণ মানুষ। পার্লামেন্ট হাউস থেকে বেরিয়ে লি কুয়ানের কফিন বহনকারী মিছিলটি তার নির্বাচনী এলাকা ত্যানজং পাগার সহ দ্বীপরাষ্ট্রটির গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলি ভ্রমণ করে স্থানীয় সময় দুপুর দুইটার দিকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পৌঁছায়। শেষকৃত্য অনুষ্ঠানের মূল পর্ব চলে স্থানীয় সময় দুপুর ২টা থেকে বিকেল সোয়া চারটা পর্যন্ত।
অনুষ্ঠানে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট জোকো উইদোদো, জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে, অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী টনি অ্যাবট প্রমুখরা অংশ নেন। লি কুয়ানের বড় ছেলে এবং সিঙ্গাপুরের প্রধানমন্ত্রী লি শিয়েন লুং পরিবারের পক্ষ থেকে পুষ্পস্তবক অর্পন করে এবং রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে প্রেসিডেন্ট টনি তান কেং ফুলের তোড়া দিয়ে শেষকৃত্যানুষ্ঠানের ইতি টানেন। জাতীয় সঙ্গীত এবং শপথের মধ্য দিয়ে শেষকৃত্য শেষের পর দেশজুড়ে লি কুয়ানের স্মরণে পালন করা হয় এক মিনিট নীরবতা।
আবেগঘন এক বক্তব্যে সিঙ্গাপুরের প্রধানমন্ত্রী লি বলেন, তার বাবা এবছর শেষে সিঙ্গপুরের ৫০ বছর পূর্তি দেখে না যেতে পারলেও তিনি যে তার সারা জীবনের কাজের সার্থকতা দেখে যেতে পারলেন এতেই দেশ ও জাতি গর্ব অনুভব করবে।
৩১ বছর সিঙ্গাপুরের সরকারপ্রধান থাকাকালে লি কুয়ান দেশটিকে ব্রিটিশ উপনিবেশ থেকে মুক্ত এবং মালয়েশিয়া থেকে আলাদা করে বিশ্বের সবচেয়ে সমৃদ্ধ অর্থনীতির দেশগুলোর একটিতে পরিণত করেছিলেন। তার মৃত্যুর পর গত এক সপ্তাহ ধরে লাখ লাখ মানুষ শ্রদ্ধা জানিয়েচেন। এর মধ্যে চার ১৫ লাখ মানুষ পার্লামেন্ট হাউসে গিয়ে তাদের শ্রদ্ধা জানান।

উল্লেখ্য, নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে ৯১ বছর বয়সী লি কুয়ান ইউ গত ২৩ মার্চ সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিত্সাধীন অবস্থায় পরলোক গমন করেন।