পঞ্চগড় জেলার দ্বিতীয় প্রধান ফসল গম উঠতে শুরু করেছে কৃষকের ঘরে। ইতোমধ্যে আগাম জাতের গম কেটে বাড়িতে আনছেন কৃষকরা। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে ক্ষেতের সব গম চলে আসবে কৃষকের বাড়িতে। এরপর শুরু হবে মাড়াইয়ের কাজ। পঞ্চগড়ের কৃষকরা এখন আর মান্ধাতা আমলের মতো গম হাতে মাড়াই করেন না। এতে খরচও বেশি। কৃষকরা এখন গম মাড়াই করেন আধুনিক মেশিনে। আর এই সময়টাতে মাড়াই মেশিনের চাহিদাও তুঙ্গে। এই সুযোগ কাজে লাগাতে অনেক বেকার যুবক ও অবস্থাসম্পন্ন কৃষক তৈরি করে নিচ্ছেন মাড়াই মেশিন। এই মেশিনে গম মাড়াই করে দিয়ে মোটা টাকা কামিয়ে নিচ্ছেন। শ্যালো মেশিন দিয়ে বিশেষভাবে তৈরি গম মাড়াই মেশিন এখন আর ঠেলে নিয়ে যেতে হয় না। নছিমন গাড়ির মত অবকাঠামো তৈরি করে তার ওপর মেশিন বসিয়ে নেয়া হচ্ছে কৃষকের বাড়ি বাড়ি।
জেলা শহরের রওশনাবাগ এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, সেখানকার নওগাঁ ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কশপে দিনরাত মাড়াই মেশিন তৈরিতে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন শ্রমিকরা। কেউবা লোহা কেটে ঝালাই করছেন আবার কেউবা মেশিন সংযোজন করছেন। কয়েকজন আবার তৈরি করা মেশিনে রং করছেন। ওয়ার্কশপের মালিক রফিজুল হক ও হাফিজুর রহমান জানান, আমরা ৩২ অশ্ব শক্তির শ্যালো মেশিন দিয়ে মাড়াই মেশিন তৈরি করছি। এই মেশিন দিয়ে গম, ধান, সরিষা, সয়াবিন, ডাল মাড়াই করা যাবে। প্রতিটি মেশিন আমরা ২ লাখ ৩০ হাজার টাকায় বিক্রি করছি। তারা জানান, ইতোমধ্যে আমরা ৮টি মেশিন সরবরাহ করেছি। আরো ৮টি মেশিন তৈরি হওয়ার পথে। এই মেশিন দিয়ে প্রতিদিন ৮ একর জমির গম-ধান মাড়াই করা যাবে। প্রতি একর জমির গম মাড়াই করতে নেয়া হয় ১ হাজার দুইশ’ টাকা। সে হিসেবে প্রতিদিন প্রায় ১০ হাজার টাকার গম মাড়াই করা যায় একটি মেশিন দিয়ে। শুধু এক মৌসুমের গম মাড়াই করে মেশিনের টাকা উঠে যায়। জেলা সদরের শেখেরহাট এলাকার ফজলে আলম মিন্টু জানান, দুই বছর আগে আমি দুই লাখ টাকায় একটি মাড়াই মেশিন নিয়েছিলাম। এক বছরের মধ্যে মেশিনের দাম উঠে আরো এক লাখ টাকা লাভ করেছি। এখন মাঝে-মধ্যে মেরামতের কাজ করে দিব্যি মেশিন চালিয়ে যাচ্ছি।
নওগাঁ থেকে পঞ্চগড়ে মাড়াই মেশিন নেয়ার জন্য এসেছেন লুত্ফর রহমান নামে এক ব্যক্তি। তিনি জানান, এই মেশিন নিয়ে পঞ্চগড়ে গম মাড়াই করবো। এক মৌসুমেই আমার মেশিনের টাকা উঠে যাবে। মৌসুম শেষ করে আমি এই মেশিন নিয়ে নওগাঁ চলে যাবো। সেখানে গিয়ে বোরো ধান মাড়াই শুরু করবো।
পঞ্চগড় কৃষি সমপ্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক স,ম আশরাফ আলী জানান, এবার পঞ্চগড় জেলায় ১৮ হাজার ৪০২ হেক্টর জমিতে গম আবাদ হয়েছে। উত্পাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৫৭ হাজার ৪৬ মেট্রিক টন। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবার গমের ভাল ফলন হয়েছে। বাজার ভাল থাকায় কৃষকরাও লাভবান হবেন।