তিন সিটিতে মেয়র পদে আওয়ামী লীগের একক প্রার্থী। ঢাকা দক্ষিণে বিএনপির একাধিক প্রার্থী। মেয়র প্রার্থী ৬০ জন, কাউন্সিলর প্রার্থী ১৪১৪, সংরক্ষিত কাউন্সিলর প্রার্থী ৩৫৯
একদিকে উত্সাহ-উদ্দীপনা অন্যদিকে উত্কণ্ঠার মধ্যে ঢাকা উত্তর, ঢাকা দক্ষিণ ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের আসন্ন নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে ইচ্ছুক প্রার্থীরা তাদের মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। মেয়র পদেই তিন সিটিতে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন ৬০ জন। এ সংখ্যা অতীতের যেকোন সময়ের চেয়ে বেশি। কাগজে-কলমে এই নির্বাচনকে নির্দলীয় বলা হলেও বেশিরভাগ প্রার্থী মাঠে নেমেছেন আওয়ামী লীগ, বিএনপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সমর্থন নিয়ে। তিন সিটিতেই মেয়র পদে আওয়ামী লীগের সমর্থনে একক প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। যদিও ঢাকা উত্তরে আওয়ামী লীগের সাবেক একজন সংসদ সদস্য মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন। অন্যদিকে বিএনপির সমর্থনে চট্টগ্রাম ও ঢাকা উত্তরে মেয়র পদে একক প্রার্থী থাকলেও ঢাকা দক্ষিণে আছেন একাধিক প্রার্থী।
ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী গতকালই ছিল মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষদিন। আগামী ১ ও ২ এপ্রিল মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই করা হবে। ৯ এপ্রিল পর্যন্ত প্রার্থিতা প্রত্যাহারের সুযোগ থাকবে। ২৮ এপ্রিল তিন সিটিতে একযোগে ভোট গ্রহণ করা হবে। মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার সময় প্রার্থী ও প্রতিনিধিরা জানান, ভোটের সুষ্ঠু পরিবেশ ও লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি করতে হবে ইসিকে। রিটার্নিং কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, যেকোন মূল্যে নির্বাচনে সব প্রার্থীর জন্য লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি করা হবে।
এদিকে ঘোড়ার গাড়িতে মনোনয়নপত্র জমা দিতে এসে পোস্টার-ব্যানার লাগিয়ে আচরণবিধি লঙ্ঘন করে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র প্রার্থী নাঈম হাসানকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা গুনতে হল। ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী হাকিম সারওয়ার আলম গতকাল বিকালে রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যাালয়েই ওই জরিমানা করেন।
তিন সিটিতে মেয়র পদে ৭৬ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছিলেন। এর মধ্যে ঢাকা উত্তরে ৩০ জন, দক্ষিণে ২৮ জন এবং চট্টগ্রামে ১৮ জন মনোনয়ন নিয়েছিলেন। কিন্তু গতকাল ঢাকা উত্তরে ২১ জন, দক্ষিণে ২৬ জন এবং চট্টগ্রামে ১৩ জন মনোনয়নপত্র জমা দেন। এছাড়া তিন সিটিতে সাধারণ কাউন্সিলর পদে ২৫১০ জন এবং সংরক্ষিত কাউন্সিলর পদে ৪৬৩ জন প্রার্থী মনোনয়ন নিয়েছিলেন। চূড়ান্তভাবে সাধারণ কাউন্সিলর পদে ১৪১৪ জন এবং সংরক্ষিত কাউন্সিলর পদে ৩৫৯ জন মনোনয়ন জমা দিয়েছেন।
ঢাকা উত্তরে মেয়র প্রার্থী ২১
ঢাকা উত্তরে মেয়র পদে ৩০ জন মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করলেও ২১ জন জমা দিয়েছেন। সংরক্ষিত কাউন্সিলর পদে ১২টি ওয়ার্ডে ১৩৫ জন, ৩৬টি ওয়ার্ডে সাধারণ কাউন্সিলর পদে ৪৯৪ জন মনোনয়ন দাখিল করেছেন। উত্তর সিটির মেয়র পদে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী আনিসুল হক বিকাল তিনটার পরে মনোনয়নপত্র জমা দেন রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক এমপি, আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ফারুক খান এমপি, সাবেক মন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক এমপি, এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি এ কে আজাদ, বিজেএমইএর সভাপতি আতিকুল ইসলাম। এর আগে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী দলটির কেন্দ্রীয় নেতা ব্যবসায়ী আব্দুল আউয়াল মিন্টুর পক্ষে তার ছেলে তাফসির ও মিন্টুর পুত্র আজওয়ার আউয়াল মনোনয়নপত্র জমা দেন। এছাড়া মনোনয়ন জমা দেন আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য সারাহ বেগম কবরী, জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য বাহাউদ্দিন আহমেদ বাবুল, জাপা চেয়ারম্যানের বহিষ্কৃত উপদেষ্টা ও ব্যবসায়ী মুসা বিন শমসের পুত্র ববি হাজ্জাজ, বিকল্প ধারা বাংলাদেশের মাহী বদরুদ্দোজা চৌধুরী, বিএনপির বহিষ্কৃত নেতা চৌধুরী তানভীর আহমেদ সিদ্দিকীর ছেলে চৌধুরী ইরাদ আহম্মদ সিদ্দিকী, সিপিবির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও যুব ইউনিয়নের সভাপতি আব্দুল্লাহ আল কাফি রতন, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক মো. জোনায়েদ আবদুর রহিম সাকী, জাসদ সমর্থিত অভিনেতা নাদের চৌধুরী, এ ওয়াই এম কামরুল ইসলাম, সামছুল আলম চৌধুরী, কাজী মো: শহীদুলাহ, মোয়াজ্জেম হোসেন খান মজলিশ, মো. নাঈম হাসান, মো. আনিসুজ্জামান খোকন, মো. জামান ভূঞা, শেখ শহিদুজ্জামান, শেখ মো. ফজলে বারী মাসউদ ও মোস্তফা কামাল আজাদী।
মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেও জমা দেননি যারা তারা হলেন :মাহমুদুর রহমান মান্না, হেলেনা জাহাঙ্গীর, আতিকুর রহমান নাজিম, মো. এখলাস উদ্দিন মোল্লা, মো. তাইফুল সিরাজ, মো. আবু তাহের, ফকির শেখ মুসলিম উদ্দিন আহমদ, মাহবুবুর রহমান ও আমিনুল ইসলাম।
ঢাকা দক্ষিণে মেয়র
প্রার্থী ২৬
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মনোনয়ন সংগ্রহকারী ২৮ জনের মধ্যে মেয়র পদে ২৬ জন মনোনয়ন দাখিল করেছেন। ১৯টি ওয়ার্ডে সংরক্ষিত কাউন্সিলর পদে ২০৮ জন ও ৫৭টি ওয়ার্ডে সাধারণ কাউন্সিলর পদে ১ হাজার ১২৮ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছিলেন। এদের মধ্যে ১৫৩ জন জন সংরক্ষিত কাউন্সিলর প্রার্থী ও ৬৩২ জন সাধারণ কাউন্সিলর প্রার্থী তাদের মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে দক্ষিণ মেয়র পদে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে মনোনয়নপত্র জমা দেন আওয়ামী সমর্থিত প্রার্থী সাঈদ খোকন। তার সঙ্গে এ সময় উপস্থিত ছিলেন সাবেক মন্ত্রী ড. আবদুর রাজ্জাক, ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস, ড. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন, আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত নগর সভাপতি এম এ আজিজসহ অন্য নেতা-কর্মীরা। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, অর্থ বিষয়ক সম্পাদক আবদুস সালাম, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক নাসির উদ্দিন পিন্টু, ঢাকা মহানগরের যুগ্ম আহবায়ক কাজী আবুল বাশার, আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য গোলাম মাওলা রনি আইনজীবী, প্রতিনিধি ও স্ত্রীর মাধ্যমে মনোনয়ন জমা দেন। এছাড়া মনোনয়ন জমা দেন বিএনপির আন্তর্জাতিক সম্পাদক আসাদুজ্জামান রিপন, জাতীয় পার্টি-জাপার মোহাম্মদ সাইফুৃদ্দিন, ভাড়াটিয়া পরিষদের নেতা বাহারামে সুলতান বাহার, বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) কেন্দ্রীয় নেতা বজলুর রশীদ ফিরোজ, স্বতন্ত্র প্রার্থী এ এস এম আকরাম, আখতারুজ্জামান ওরফে আয়াতুল্লাহ, মো. আব্দুল খালেক, মো. জাহিদুর রহমান, আবু নাছের মুহাম্মদ মাসুদ হোসাইন, শাহীন খান, দিলীপ ভদ্র, মো. শহীদুল ইসলাম, বাবুল সরদার চাখারী, শফিউল্লাহ চৌধুরী, আব্দুর রহমান, মোহাম্মদ রিয়াজউদ্দিন, মশিউর রহমান, ইমতিয়াজ আলম, রেজাউল করিম চৌধুরী, এডভোকেট আয়ুব হোসেন।
চট্টগ্রামে মেয়র
প্রার্থী ১৩ জন
চট্টগ্রাম সিটিতে মেয়র পদে আওয়ামী লীগ, বিএনপি নেতাসহ ১৩ জন প্রার্থী মনোনয়ন পত্র জমা দিয়েছেন। একই সঙ্গে ৪১টি ওয়ার্ড কাউন্সিলর পদে ২৮৮জন এবং সংরক্ষিত ওয়ার্ডে ১৪টি নারী কাউন্সিলর পদে ৭১জন নারী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। এই সিটিতে মোট ৩৭২ জন প্রার্থী নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। ১৩ মেয়র প্রার্থী হলেন- আওয়ামী লীগ সমর্থিত আ জ ম নাছির উদ্দিন, ২০ দল সমর্থিত এম মনজুর আলম, জাতীয় পার্টি সমর্থিত সোলায়মান আলম শেঠ, ইসলামী ফ্রন্ট ও আহলে সুন্নাত সমর্থিত মাওলানা এমএ মতিন, বিএনএফ’র আরিফ মইনুদ্দিন, সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ও বেসরকারি কারা পরিদর্শক সাইফুদ্দিন আহমেদ রবি, গাজী মো. আলাউদ্দিন, ফোরকান চৌধুরী, সৈয়দ সাজাদ দোহা, হোসাইন মোহাম্মদ মজিবুল হক, মো. শফিউল আলম, মো. ওয়াহেজ হোসেন ভুঁইয়া, মো. আবুল কালাম আজাদ।