প্রকৌশলী ও লেখক ড. অভিজিত রায় হত্যাকাণ্ডের সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি এলাকায় কর্তব্যরত পুলিশ সদস্যদের কোনো ‘গাফিলতি’ খুঁজে পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন তাদের নিজস্ব তদন্ত কমিটি। তবে একুশের বইমেলার মধ্যে অভিজিত্ হত্যাকাণ্ডের সময়টাতে কর্তব্যরত পুলিশ সদস্যদের কাজে সমন্বয়ের ঘাটতি ছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের মুখপাত্র মনিরুল ইসলাম।
লেখালেখির জন্য জঙ্গিবাদীদের হুমকির মধ্যে থাকা যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী অভিজিত্ হত্যাকাণ্ডের পর মাস পেরোলেও এখনও কোনো খুনিকে শনাক্ত কিংবা গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। এর মধ্যেই গতকাল রাজধানীর তেজগাঁওয়ে খুন হন ওয়াশিকুর রহমান বাবু নামে এক যুবক, যিনিও ফেইসবুকে ধর্মান্ধতার বিরুদ্ধে লেখালেখি করতেন। বই মেলার জন্য নিরাপত্তার কড়াকড়ির মধ্যে অভিজিত্ হত্যাকাণ্ড এবং পরবর্তী সময়ে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন ওঠার পর তা তদন্তের উদ্যোগ নেয় এই বাহিনী। তিন সদস্যের কমিটির তদন্ত প্রতিবেদন এক সপ্তাহ আগে ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনারের কাছে জমা পড়েছে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
মনিরুল ইসলাম বলেন, প্রতিবেদনে সুনির্দিষ্টভাবে কোনো পুলিশ সদস্যের অবহেলার কথা বলা হয়নি। তবে সেই দিন পুলিশের এলাকায় তদারকি ও কাজে সমন্বয়ের অভাবের কথা প্রতিবেদনে উল্লেখ আছে। গাফিলতি না থাকার বিষয়ে তিনি বলেন, ঘটনাটি যেখানে ঘটেছিল, তার থেকে প্রায় আড়াইশ’ ফুট দূরে ছিল পুলিশের একটি চেক পোস্ট। যেখানে ঘটনাটি ঘটেছিল তার আশপাশে প্রচুর যান চলাচল করছিল। জায়গাটিও ছিল অন্ধকার।
এদিকে নিহত অভিজিতের বাবা অধ্যাপক অজয় রায় পুলিশের এই তদন্ত নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি বলেন, পুলিশের তদন্ত পুলিশ দিয়ে করালে সাধারণত তারা তো কোনো অবহেলা পাবেই না। এজন্য পুলিশের গাফিলতি আছে কি না, তা সুশীল সমাজের প্রতিনিধি দিয়ে অথবা জজ সাহেবদের দিয়ে তদন্ত করানো দরকার ছিল।