তাহিরপুরের বেশি ভাগ মানুষ ভেসে আসা কয়লায় স্বনির্ভর

ভারতের মেঘালয় রাজ্যের সীমান্ত লাগোয়া জনপদের নাম তাহিরপুর। এ জনপদের বেশির ভাগ মানুষের প্রধান জীবিকা নদী থেকে পানি সেচে কয়লা তুলে তা বিক্রি করা। মেঘালয় পাহাড়ের বুক চিরে প্রবাহিত ১০ কিলোমিটার দীর্ঘ এ নদীতে প্রতিদিন কাজ করে লক্ষাধিক শ্রমিক যারা পাথর, বালি আর কয়লা তুলে জীবিকা নির্বাহ করে আসছে যুগ যুগ ধরে। স্থানীয়ভাবে কয়লাকে ‘কালো সোনা’ও বলা হয়ে থাকে। ৮ বিজিবি ব্যাটালিয়ন নিয়ন্ত্রিত লাউড়েরগড় বিওপি ক্যাম্প ও গ্রামের পাশ দিয়ে প্রবাহিত এ নদীতে তাহিরপুরসহ পার্শ্ববর্তী জামালগঞ্জ ও বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার ২০ হাজার শ্রমিক প্রতিদিন ভোর থেকে সন্ধ্যা অবধি নুড়ি-বালির সাথে মিশে আসা কয়লাপানি সেচে ঠেলাজালে তুলে ধুয়ে মহাজনদের কাছে বিক্রি করে স্বাবলম্বী হয়েছে। প্রতিবছর বর্ষার শুরুতেই পাহাড়ি ঢলে ভারত হতে বালির সাথে মিশে আসে এই কয়লা। একজন শ্রমিক সারাদিন কয়লা উত্তোলন করে তা মহাজনের কাছে বিক্রি করে রোজগার করে ৫শ থেকে ৬শ টাকা। কোনো কোনো দিন ১ হাজার থেকে দেড় হাজার টাকা পর্যন্ত রোজগার হয়ে তাদের সেই টাকা কাজে লাগিয়ে কেউ জমিজমা কেউবা গরু ছাগল কিনে পরিবারের সচ্ছলতা ফিরিয়ে আনছে। ছেলে-মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ জোগাতে এখন আর কোনো বেগ পেতে হয় না শ্রমিক মা-বাবার।
অনেক শ্রমজীবী পরিবারের ছেলে-মেয়েরা স্কুল কলেজে লেখাপড়া করছে। যেসব শ্রমিকের ঘরে খড়ের ছাউনি ছিল সেই সব ঘরে টিনশেড করে শান্তিতে বসবাস করছে ওরা। বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার স্বরূপগঞ্জ গ্রামের নারী কয়লা শ্রমিক জান্নাত আরা জানান, ‘আমি ও আমার ২ ছেলে মিলে ৬ মাস কয়লা তুলে বিক্রি করে ৫ লাখ টাকা রোজগার করেছি। সেই টাকায় ২ বিয়ে, টিনের ঘর নির্মাণসহ গরু ছাগল কিনে সুখে আছি। তাহিরপুরের লাউড়েরগড় গ্রামের রাহিমা, সালেমা, কুলসুমা বেগমের সন্তানেরা স্থানীয় হাইস্কুলে লেখাপড়া করছে।
স্থানীয় বাদাঘাট ইউপি চেয়ার্যান নিজাম উদ্দিন বলেন, বালির সাথে মিশে থাকা কয়লা পানি সেচে তুলে হাজার শ্রমিক বেঁচে আছে এটা আল্লাহপাকের অশেষ দান। এ জনপদের শ্রমিকরাই আমার চালিকাশক্তি।