সিটি করপোরেশন নির্বাচনে সরকারি দল সমর্থক প্রার্থীর বিরুদ্ধে যারা দাঁড়াচ্ছেন তাদের ভিন্নভাবে সহায়তার উদ্যোগ নিয়েছে পাকিস্তানের একটি গোষ্ঠী। ইতিমধ্যে ওই গোষ্ঠীটি এদেশের জঙ্গিদের সহায়তা করেছে। তবে তা একটু ভিন্নভাবে। জঙ্গিদের জাল টাকা ও রুপি সরবারাহ করেছে ওই গোষ্ঠী। আর জঙ্গিরা তা বিভিন্ন প্রয়োজনে খরচ করছে। পাকিস্তানের করাচির একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে জাল রুপি ও টাকা বানানো হচ্ছে।
সম্প্রতি পুরান ঢাকার আরমানিটোলা থেকে মাহতাব নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করছে র্যাব। তার কাছে মিলেছে ১ কোটি ৬৫ লাখ জাল রুপি। মাহতাব র্যাবের কাছে স্বীকার করেছে, চট্টগ্রাম বন্দর এবং শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দিয়ে এসব জাল রুপি বাংলাদেশে আসে। জালরুপি হাতবদল হয় ঢাকায়। পরে এগুলো উত্তরবঙ্গ হয়ে সীমান্ত পথে ভারতে যায়। এর আগে ১০টি চালানে ৩০ কোটি জাল রুপি পাচারে সাহায্য করেছিলেন তিনি।
সিটি করপোরেশন নির্বাচন সামনে রেখে জঙ্গিরা বিপুল পরিমাণ জাল টাকা এবং সোনা আনার উদ্যোগ নিয়েছে বলে একাধিক গোয়েন্দা সংস্থার কাছে তথ্য রয়েছে। এটা ঠেকাতে গোয়েন্দারা বিভিন্ন কার্যক্রম হাতে নিয়েছে।
কয়েকদিন আগে রাজধানীর পলওয়েল মার্কেটে অভিযান চালিয়ে কাভার্ড ভ্যান থেকে ১০ কোটি জাল রুপি উদ্ধার করেছে র্যাব। এসময় মার্কেটের কাপড় ব্যবসায়ী মুরাদ হোসেন, ইমরান হোসেন এবং দোকানের কর্মচারী আব্দুল্লাহ আল মামুনকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃতরা র্যাবের কাছে স্বীকার করেছে, পাকিস্তান থেকে কাপড় আমদানির সময় এসব জাল রুপি কাপড়ের মধ্যে ঢুকিয়ে দেয়া হয়। এসব পাচারের জন্য শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও চট্টগ্রাম বন্দরে দুইটি সিন্ডিকেট কাজ করে। এই সিন্ডিকেট সেগুলো বন্দর পার করে দেয়। গ্রেফতারকৃত ইমরান র্যাবকে জানায়, ২০১১ সালের ডিসেম্বর মাসে ৭ কোটি জাল রুপির চালান ঢাকার পলওয়েল সুপার মার্কেটে আনেন তিনি। দুই জন অপরিচিত ব্যক্তির কাছে এগুলা তুলে দেন তিনি। এ সময় তিনি মোবাইল ফোনে পাকিস্তানের শাহজাদা নামে একজনের সঙ্গে যোগাযোগ করেন।
ইমরান জানায়, শাহজাদার নির্দেশে এসব জাল মুদ্রা হাতবদল করা হতো। মুদ্রা হাতবদল হওয়ার ১৬ ঘণ্টা পর তাদের কাছে একজন ১০ লাখ টাকা এনে দেয়। জাল টাকা ও রুপি পাচারে ১০ ভাগ কমিশন দেয়া হতো। পাকিস্তানের করাচির আসলাম চৌধুরী, ইসমাইল হোসেন বাংলাদেশে জাল রুপি পাচারের প্রধান হোতা। আসলামের সঙ্গে পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থার যোগাযোগ রয়েছে বলে র্যাবকে জানিয়েছে মাহতাব।
২০০৮ সালের ১৯ ডিসেম্বর পাকিস্তানে বানানো জাল রুপিসহ কলকাতায় গ্রেফতার হয় পাকিস্তানি নাগরিক সরফরাজ। তিনি থাকতেন রাজধানীর কর্ণফুলি গার্ডেন সিটির একটি ফ্লাটে। সে কখনো নিজেকে বাংলাদেশি নাগরিক কখনো পাকিস্তানি নাগরিক বলে পরিচয় দিত। নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন লস্কর ই তৈয়বার জন্য এসব মুদ্রা পাচার করা হয় বলে জানান সরফরাজ। ঐ ঘটনার পর সরফরাজের সহযোগী সাব্বির আলী ও দানিশকে গ্রেফতার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। ২০০৯ সালে পাকিস্তানি নাগরিক সাজিদ মানিহার নেপালে খুন হন। এই পাকিস্তানি নাগরিক নেপাল রুটে জঙ্গিদের মুদ্রা পাচারের সমন্বয়ক ছিলেন।
বাংলাদেশে এসব জাল রুপি, টাকা এবং সোনা আসে এক শ্রেণীর এজেন্ট, হুন্ডি ব্যবসায়ী এবং কাপড় আমদানিকারক চক্রের হাত ধরে। তবে এদের শনাক্ত করতে পারেনি গোয়েন্দা সংস্থা। বর্তমানে ৩ প্রধান সিটি করপোরেশন নির্বাচন সামনে রেখে জঙ্গিরা সক্রিয় হয়ে উঠেছে।
র্যাবের মহাপরিচালক বেনজির আহমেদ এ প্রসঙ্গে বলেন, এসব চক্রকে র্যাব আগেও গ্রেফতার করেছে। এসব প্রতিহত করতে আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। এদের বিরুদ্ধে সব ধরনের কার্যক্রম হাতে নেয়া হয়েছে।
ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার আসাদুজ্জামান মিয়া বলেন, জাল টাকা দিয়ে জঙ্গি তত্পরতা চালিয়ে যাওয়ার তথ্য এসেছে। এটার বিস্তার হতে দেয়া যাবে না।
শুল্ক ও গোয়েন্দা তদন্ত অধিদফতরের মহাপরিচালক ড. মইনুল খান বলেন, ইতিমধ্যে আমরা ৪০ কোটি ভারতীয় জাল মুদ্রা উদ্ধার করেছি। জঙ্গীদের অর্থের যোগানের তথ্য আমরা জানতে পেরেছি। বিমান বন্দর ও নৌ-বন্দরে আমাদের কার্যক্রম জোড়ালো করা হয়েছে।