‘চলচ্চিত্রের দুঃসময়ে মুষ্টিমেয় কিছু শিল্পী ছাড়া কাউকেই পাওয়া যায় না’

 
এ সময়ের ব্যস্ত চিত্রনায়ক জায়েদ খান। সময়ের সাথে সাথে তার ব্যস্ততার পাল্লা যেন কেবল বেড়েই চলেছে। সম্প্রতি নিজের কাজ ও চলচ্চিত্রের বর্তমান প্রেক্ষাপট নিয়ে কথা বললেন বিনোদন প্রতিদিনের সাথে। সাক্ষাত্কার নিয়েছেন দিব্যজ্যোতি দত্ত।
এখনকার ব্যস্ততা সম্পর্কে জানতে চাই।
এখন বেশ কয়েকটি ছবির কাজ করছি। ‘তোমার প্রেমে পড়েছি’, ‘লাভ ইন মালয়েশিয়া’, ‘মিশন সিক্স’ এবং ‘মিশন সিআইডি’ ছবিতে কাজ করছি। এছাড়া সম্প্রতি বুলবুল বিশ্বাসের পরিচালনায় ‘রাজনীতি’ ছবিতে চুক্তিবদ্ধ হয়েছি। ছবিতে প্রথমবারের মতো আমি এবং শাকিব খান একসাথে কাজ করছি। ৩ এপ্রিল চলচ্চিত্র দিবস উপলক্ষে এফডিসিতে সেমিনার’সহ নানা কর্মকাণ্ড রয়েছে। ৪ এপ্রিল জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে আমি পারফর্ম করছি।
চলচ্চিত্রে সবখানেই তারকারা একটা প্রতিদ্বন্দ্বীতার মধ্য দিয়ে যান। আপনার প্রতিদ্বন্দ্বী কে?
আমি কাউকেই প্রতিদ্বন্দ্বী মনে করি না। আমরা যারা কাজ করছি তারা নিজ নিজ অবস্থান থেকেই কাজ করছি। কারো নাম বলতে চাই না বিষয়টি মোটেও তেমন কিছু নয়। আসলেই আমি আমার কাজকেই প্রতিদ্বন্দ্বী মনে করি। কিভাবে আরও ভালোভাবে অভিনেতা জায়েদ খানকে দর্শকের সামনে উপস্থাপন করা যায় সেই চেষ্টাটা সবসময়ই থাকে।
অশ্লীল ছবি প্রদর্শনের জন্য আপনি হল বন্ধ করেছেন। কিন্তু চলচ্চিত্রের মানের উন্নয়নের জন্য আপনার তেমন কোনো পদক্ষেপ দেখা যায়নি।
দেখুন, বিষয়টি আমার একার হাতে নেই। যদি সত্যিই আমার একার হাতে থাকতো তবে আমি এই বিষয়েও পদক্ষেপ নিতাম। আমি চাইলেই এখন এফডিসির আধুনিকায়ন করতে পারি না। আমরা টেকনিক্যালি অনেক পিছিয়ে আছি। চলচ্চিত্রের পর্দায় দর্শক শিল্পীদের দেখতে পায়। অনেকের ধারণা তাই শিল্পীরা চাইলেই সব পারেন। বাস্তবটা কিন্তু অনেক কঠিন। এই বিষয়ে সরকারকে এগিয়ে আসতে হবে। কর্মশালা করতে হবে। আজকে আমি যদি বলি যে এই ধরণের ব্যাকগ্রাউন্ড আর্টিস্ট বা এই সেটে আমি কাজ করবো না, তাহলে কিন্তু কাজ থেমে থাকবে না। আমার জায়গায় অন্য কেউ আসবেন। এইভাবে একক আন্দোলনে কখনও চলচ্চিত্রের উন্নয়ন সম্ভব নয়। এজন্য সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।
আকাশ সংস্কৃতির এই যুগে আমাদের চলচ্চিত্রকে বাইরের চলচ্চিত্রের সাথেও প্রতিদ্বন্দ্বীতা করতে হচ্ছে। বাইরের ছবিগুলোর সাথে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করার মতো অবস্থানে আমরা পৌঁছাতে পেরেছি কি?
না, কোনো সন্দেহ নেই আমরা পিছিয়ে আছি। আমাদের ভালো হল নেই। বাজেটে আমরা পিছিয়ে আছি। এই প্রেক্ষাপটে দেখা যায় অনেক ভালো ছবিও দর্শকের কাছে পৌঁছাতে পারছে না। অন্যদিকে দর্শক রিমোট চাপলে সহজেই বিদেশি ছবি দেখতে পারছেন। তাই প্রতিযোগিতা অনেক কঠিন হয়ে গেছে। এই অবস্থার দ্রুত উন্নয়ন না হলে আমরা আরও পিছিয়ে পড়বো।
বিশাল জনসংখ্যা থাকা সত্ত্বেও আমাদের চলচ্চিত্র কোনো শক্তিশালী ইন্ডাস্ট্রিতে পরিণত হয়নি কেন?
একই কথা বলবো, হল সংখ্যা বাড়াতে হবে। আমার ‘ভালোবাসা সীমাহীন’ ছবিটা মুক্তির পর আমি ১৮-২০টি হলে গিয়ে দেখি দু/চারটি হল ছাড়া কোনো হলেই ছবি দেখার মতো পরিবেশ নেই। আরও কিছু ব্যাপার আছে। আমাদের চলচ্চিত্রে নেতৃত্বের অভাব।
এমন কি প্রযোজক সমিতিতেও কোনো নেতা নেই। দুঃখজনক হলেও সত্য চলচ্চিত্রের দুঃসময়ে মুষ্টিমেয় কিছু শিল্পী ছাড়া কাউকেই পাওয়া যায় না। এমন কি চলচ্চিত্রের কোনো অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠানেও তাদের পাওয়া ভাগ্যের ব্যাপার।