প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী দাতা সংস্থার অর্থ না পাওয়ায় স্বাস্থ্য, পুষ্টি ও জনসংখ্যা খাতের কর্মসূচি ‘হেলথ, পপুলেশন এ্যান্ড নিউট্রিশন সেক্টর ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রামের (এইচপিএসপি)’ ব্যয় হ্রাস করে সংশোধনী অনুমোদন করলো জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)। কর্মসূচির প্রাক্কলন অনুযায়ী বছর ভিত্তিক পর্যাপ্ত বরাদ্দ পাওয়া যায়নি।
পরিকল্পণা কমিশন সূত্রে জানা যায়, স্বাস্থ্য, পুষ্টি ও পরিবার কল্যাণ খাতের সকল কর্মসূচি একীভূত করে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় ১৯৯৮ সাল থেকে এ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে আসছে। ১৯৯৮ থেকে ২০০৩ এবং ২০০৩ থেকে ২০১১ মেয়াদে কর্মসূচিটি প্রথম ও দ্বিতীয় মেয়াদে বাস্তবায়ন করা হয়। এ কর্মসূচিটি তৃতীয় মেয়াদে ৫৬ হাজার ৯৯৩ কোটি টাকা প্রাক্কলিত ব্যয়ে ২০১১ থেকে ২০১৬ মেয়াদে বাস্তবায়নের লক্ষ্য ছিলো। কিন্তু কর্মসূচিতে পর্যাপ্ত বরাদ্দ না পাওয়া এবং দাতা সংস্থার প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী অর্থ না পাওয়ায় গতকাল ৫১ হাজার ৮২ কোটি টাকায় প্রথম সংশোধিত আকারে অনুমোদন দেয়া হয়।
কর্মসূচির আওতায় প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকা কাটছাট প্রসঙ্গে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এমএ মান্নান একনেক বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের বলেন, কর্মসূচির আওতায় উন্নয়নসহযাগীদের কাছ থেকে যে পরিমাণ অর্থ পাওয়ার কথা ছিল, তা পাওয়া যায়নি। সেইজন্য কর্মসূচির ব্যয় কমানো হয়েছে।
সূত্র জানায়, মোট ৩২টি পৃথক অপারেশনাল প্ল্যানের মাধ্যমে কর্মসূচিটি স্বাস্থ্য, পুষ্টি ও জনসংখ্যা সংশ্লিষ্ট সরকারি বিভিন্ন বিভাগ ও সংস্থা বাস্তবায়ন করছে। মূল কার্যক্রমের মধ্যে রয়েছে, প্রাথমিক স্বাস্থ সেবা প্রদান, পরিবার পরিকল্পণা সেবা, প্রজনন স্বাস্থ্য সেবা, পুষ্টি সেবাসহ বিভিন্ন কার্যক্রম। বিশ্বব্যাংক, জাইকা এ খাতে ঋণ এবং ডিএফআইডি, সিডা, ইউএসএআইডি, সিডা, অস্ট্রেলিয়ান এইড, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, ইউনিসেফ, জিএফএটিএমসহ আরো কিছু সংস্থা এ কর্মসূচিতে অনুদান দিচ্ছে।
শেরেবাংলা নগরস্থ এনইসি সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত মঙ্গলবার একনেক সভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সভাপতিত্ব করেন।
সভা শেষে জানানো হয়, গতকাল মোট ৫২ হাজার ৭৭৮ কোটি টাকা ব্যয় সংবলিত ৬টি প্রকল্প অনুমোদন দেয়া হয়। এর মধ্যে ভারত থেকে বিদ্যুৎ আমদানি ব্যবস্থা উন্নয়নে দু’টি প্রকল্প রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে, ১ হাজার ৪০৪ কোটি টাকা ব্যয়ে বাংলাদেশ (ভেড়ামারা) ভারত (বহরমপুর) বিদ্যমান গ্রিড আন্তঃসংযোগের ক্ষমতা বর্ধিতকরণ (৫০০ মেগাওয়াট) প্রকল্প। ১৭৯ কোটি টাকা ব্যয়ে ত্রিপুরা (ভারত) কুমিল্লা (দ. উপকেন্দ্র) (বাংলাদেশ) গ্রিড আন্তঃসংযোগ প্রকল্প। অনুমোদিত অন্য প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে ৪০ কোটি টাকা ব্যয়ে বিসিক শিল্পনগরী, শ্রীমঙ্গল (১ম সংশোধিত) প্রকল্প এবং ৩৬ কোটি টাকা ব্যয়ে বাংলাদেশের নির্বাচিত এলাকায় কুচিয়া ও কাঁকড়া চাষ এবং গবেষণা প্রকল্প।