আন্তর্জাতিক শিশুগ্রন্থ দিবস

পাঠ্যপুস্তকের বাইরের বইও পড়তে হবে

বই আমাদের পরম বন্ধু। বই পড়ে আমরা জ্ঞান অর্জন করি। জ্ঞান আমাদের মেধা-মননকে শক্তিশালী করে। বইপড়া নিয়ে বিশ্বের জ্ঞানী-গুণীজন গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেছেন। বার্ট্রান্ড রাসেল বলেছেন, বই লেখাটা নিষ্পাপ বৃত্তি এবং এতে করে দুষ্কর্ম থেকে নিজেকে রক্ষা করা যায়। বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বলেছেন, ধনবল, আয়ুবল, অন্যমনস্ক ব্যক্তির ছাতাবল, সংসারের যত কিছু মরণশীল পদার্থ আছে, বই হয়েছে সকলের সেরা। আমাদের প্রিয়কবি জসীম উদদীন বলেছেন, বই জ্ঞানের প্রতীক, বই আনন্দের প্রতীক। বই আপনাকে অতীত-বর্তমান-ভবিষ্যত্ সকল কালে নিয়ে যেতে পারে। ভিক্টর হুগো বলেছেন, বই বিশ্বাসের অঙ্গ, বই মানব সমাজকে টিকিয়ে রাখবার জ্ঞানদান করে। অতএব বই হচ্ছে সভ্যতার রক্ষাকবচ।

বইয়ের কদর সেই আদিকাল থেকে। বইয়ের প্রচার ও বেশি করে মানুষ যাতে বইয়ের দ্বারস্থ হয় সে লক্ষ্যে বিগত শতাব্দির গোড়ার দিক থেকেই নানা ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। বই সংরক্ষণ এবং পাঠকপ্রিয়তা বাড়ানোর লক্ষ্যেই গ্রন্থাগার সৃষ্টি ও বই বা গ্রন্থমেলা। আমাদের দেশে বাংলা একাডেমি পরিচালিত একুশে গ্রন্থমেলা ও শিশু একাডেমি পরিচালিত বইমেলা সকলের কাছে সমাদৃত হয়েছে। গ্রন্থমেলার ইতিহাস সুদীর্ঘকালের না হলেও বিভিন্ন সময়ে বই নিয়ে প্রদর্শনী হয়েছে বা এখনও হচ্ছে। কিন্তু কখনও গ্রন্থ দিবস পালন করা হয়নি। বিশ্বে অবশ্য এ ধরনের দিবস পালনের রেওয়াজ রয়েছে।
জাতিসংঘ নির্ধারিত বিষয় উপলক্ষে একটি বিশেষ দিনে ওই বিষয়টির প্রতি সাধারণ মানুষের সচেতনতা বাড়ানোর জন্য সদস্য রাষ্ট্রসমূহে আহ্বান জানায়। আমাদের দেশেও অন্যান্য দেশের মতো আন্তর্জাতিক বিষয়গুলো যথাযথভাবে পালিত হয়ে থাকে। আন্তর্জাতিক শিশুগ্রন্থ দিবস এমনই একটি দিন। আমাদের গ্রন্থ প্রকাশক, শিশু বিষয়ক প্রতিষ্ঠান বা শিশুসংগঠন এই দিনটির কথা আদৌ জানে না। অথচ এই দিনটি বা দিবসটি ১৯৬৭ সাল থেকে বিশ্বে উদযাপিত হয়ে আসছে। অবশ্য এই দিবসটি পালনের কার্যকর ভূমিকা পালন করে আন্তর্জাতিক গ্রন্থ পরিষদ। প্রতিবছরই একটি দেশ উদ্যোক্তা হিসেবে কাজ করে।
মজার ঘটনা হলো শিশুগ্রন্থ বর্ষের এ দিনটি প্রতিবছর পালন করা হয় ২ এপ্রিল। ২ এপ্রিল কেন পালন করা হয়? এ দিনটি কেন বিখ্যাত? আমরা অনেকে জানি ২ এপ্রিল বিশ্ব শিশুসাহিত্যের কিংবদন্তী হ্যান্স ক্রিশ্চিয়ান এন্ডারসনের জন্মদিন। তাঁর জন্মদিনটিকে আরও স্মরণীয় করে রাখার জন্য এই দিনটি নির্ধারণ করা হয়েছে। রূপকথার জাদুকর হ্যান্স এন্ডারসন আমাদের দেশে খুবই পরিচিত। তাঁর লেখা কুিসত হাঁসের ছানা, স্নো হোয়াইট ও মত্স্য কুমারী গল্পগুলো ভীষণ প্রিয়। তিনি ১৮০৫ সালে ডেনমার্কের অডেন্সে জন্মগ্রহণ করেন।

আন্তর্জাতিক শিশুগ্রন্থ দিবসও তাঁর জন্মদিনের স্মরণেই প্রতিবছর পালন করা হয়। শিশুগ্রন্থ দিবস পালনের এদিন আমাদের বেশি করে ভাবতে হবে শিশুশিক্ষা নিয়ে। পাঠ্যপুস্তকের পাশাপাশি তাদের বুদ্ধিমত্তা সৃষ্টি ও মানসিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে বিভিন্ন বিষয়কে নিয়ে লেখা বই। এ ব্যাপারে অভিভাবক ও শিক্ষকদের ভূমিকা অপরিসীম। শৈশব-কৈশোরে তাদের হাতে তুলে দিতে হবে বিজ্ঞানের বই, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক বই এবং শ্রেষ্ঠ বাঙালির জীবনকথা। পাশাপাশি এদিনটিতে তাদের জন্য আয়োজন করতে হবে শিক্ষামূলক নানা ধরনের অনুষ্ঠান।