চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের অন্যতম জনবহুল ওয়ার্ড দক্ষিণ পাহাড়তলিতে বিশুদ্ধ পানি ও গ্যাসসংকট রয়েছে। করপোরেশন এলাকায় বসবাস করা সত্ত্বেও বাসিন্দারা এখনো ওয়াসার পাইপলাইনে পানি সরবরাহ পাচ্ছেন না। এলাকার অর্ধেক বাসাবাড়িতে গ্যাস সংযোগ নেই। কিছু কিছু এলাকায় শিল্প কারখানার বর্জ্যে পরিবেশ দূষণ মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। নন্দীরহাট এলাকায় বেসরকারি একটি পেপার মিলের বিষাক্ত বর্জ্যে এলাকার একটি খাল প্রায় হারিয়ে যেতে বসেছে। হালদা নদীর সাথে সংযোগ স্থাপনকারী এই খালটি বর্তমানে ‘মরা ছড়া’ নামে পরিচিত। একসময় এই খালে প্রচুর মাছ পাওয়া গেলেও বর্তমানে তা মত্স্যশূন্য হয়ে পড়েছে।
এছাড়া ওই পেপার মিলের ভেতরে উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন ডিপ টিউবওয়েল স্থাপনের ফলে আশপাশের এলাকায় ভূ-গর্ভস্থ পানির স্তর অনেক নিচে নেমে গেছে বলেও এলাকাবাসীর কাছ থেকে অভিযোগ পাওয়া গেছে। টিউবওয়েলের জন্য ৪০০ মিটার মাটির গভীরে গিয়েও পানি পাওয়া যাচ্ছে না। এলাকার লোকজনকে দূর-দূরান্ত থেকে পানীয় জল সংগ্রহ করতে গিয়ে ব্যাপক দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। পশ্চিম সন্দ্বীপ পাড়ায় এখনো উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি। অনেক বাড়িতে স্বাস্থ্যসম্মত ল্যাট্রিন নেই। লোকজনকে কাঁচা পায়খানা অথবা খোলা জায়গায় মলত্যাগ করতে দেখা যায়। সংস্কারের অভাবে এলাকার কয়েকটি সড়ক যান চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। অক্সিজেন-হাটহাজারী সড়ক চারলেনে উন্নীতকরণের জন্য সমপ্রসারণ করা হলেও চৌধুরীহাটসহ কিছু এলাকার সড়ক আগের মতই সঙ্কীর্ণ রয়ে গেছে। পাহাড় কাটা নিষিদ্ধ হলেও রাতের অন্ধকারে কোনো কোনো স্থানে দুর্বৃত্তরা পাহাড় কাটছে বলে এলাকাবাসী অভিযোগ করেন।
প্রায় এক লাখ জনসংখ্যা অধ্যুষিত দক্ষিণ পাহাড়তলি ওয়ার্ডে ভোটার ২৯ হাজার। ওয়ার্ডে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সংকট রয়েছে। দক্ষিণ পাহাড়তলি ওয়ার্ডের বিএনপি সমর্থিত বিদায়ী কাউন্সিলর মো. শাহজাহান ইত্তেফাককে জানান, গত পাঁচ বছরে এলাকায় ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে। রাস্তা-ঘাট সংস্কারের কাজ ৮০ শতাংশ শেষ হয়েছে। তবে এলাকায় পানি ও গ্যাসের তীব্র সংকট রয়েছে। নন্দীরহাট এলাকায় পেপার মিলের আশপাশে টিউবওয়েলে পানি পাওয়া যায় না। এছাড়া এলাকার অর্ধেক বাসা বাড়িতে গ্যাস সংযোগ নেই। এলাকায় একটি স্বার্থান্বেষী মহল শিক্ষার প্রসারে বাধা দিচ্ছে। ফতেয়াবাদ কলেজকে সিটি করপোরেশনের অধীনে আনার উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল। কিন্তু স্বার্থান্বেষী মহল এ উদ্যোগ সফল করতে দেয়নি। প্রভাবশালী একটি চক্র রাতের অন্ধকারে পাহাড় কাটছে বলে জানান তিনি। এছাড়া দক্ষিণ পাহাড়তলি ওয়ার্ডের অবস্থান করপোরেশন এলাকার মধ্যে হলেও জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় এর ভোটারদের ভোট দিতে হয় হাটহাজারী উপজেলায় এমপি নির্বাচনের জন্য। দ্বৈত শাসনের অধীনে থাকায় এই ওয়ার্ডের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে সমন্বয়হীনতা থাকে বলে জানান তিনি।
দক্ষিণ পাহাড়তলি ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর ও নগর আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য মো. জাফর আলম চৌধুরী ইত্তেফাককে বলেন, এলাকার মানুষ উন্নয়ন বঞ্চিত। তাদের মৌলিক সমস্যাগুলো দূর হয়নি। দ্বৈত প্রশাসন থাকায় দক্ষিণ পাহাড়তলি ওয়ার্ডের জনগণ সরকারি সুবিধা থেকে বঞ্চিত। কৃষি প্রধান এলাকা হলেও জনগণকে কারপোরেশনের কর দিতে হচ্ছে। আবার সিডিএ কর্তৃক জমি অধিগ্রহণের নামে মানুষকে হয়রানি করা হচ্ছে। অধিগ্রহণ সমস্যায় এলাকায় জমি বেচাকেনা প্রায় বন্ধ।
কাউন্সিলর প্রার্থী যুবলীগ নেতা তৌহিদ আহমেদ বলেন, এলাকায় তেমন আশানুরূপ উন্নয়ন হয়নি। যুব সমাজ অবক্ষয়ের দিকে যাচ্ছে। নির্বাচিত হলে আমি যুব সমাজ ও এলাকার সমস্যা সমাধানে কাজ করবো।