রাজশাহীর শাহ্ মখদুম (রহ:) বিমানবন্দরে বাংলাদেশ ফ্লাইং একাডেমির একটি ১৫২ মডেলের সেনা প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্ত হয়েছে। এতে প্রশিক্ষণার্থী তামান্না রহমান (২২) ঘটনাস্থলে নিহত এবং তার প্রশিক্ষক লে. কর্নেল (অব:) সাঈদ কামাল গুরুতর আহত হয়েছেন।
বুধবার দুপুর ১টা ৫৮ মিনিটে শাহ্ মখদুম বিমান বন্দরের রানওয়ের দক্ষিণ দিকের পূর্ব-পার্শ্বে এই দুর্ঘটনা ঘটে।
এদিকে দুর্ঘটনার পর পরই স্থানীয় লোকজন প্রাচীর টপকে ঘটনাস্থলে পৌঁছে দগ্ধ প্রশিক্ষক সাঈদ কামালকে প্রশিক্ষণ বিমান থেকে টেনে বের করেন। পরে ঘটনাস্থলের প্রায় এক/দেড় কিলোমিটার দূরের বিমানবন্দরের নিরাপত্তা কর্মীরা গিয়ে তাকে রাজশাহী সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) নিয়ে যান। রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটের একদল চিকিৎসক গিয়ে তাকে দেখেন।
IMG0
ওই চিকিৎসক দলের একজন নাম প্রকাশ না করার শর্তে ইত্তেফাককে জানান, ‘দগ্ধ প্রশিক্ষকের শ্বাসনালীসহ শরীরের ৬৩ শতাংশ পুড়ে গেছে। তার শারীরিক অবস্থা আশংঙ্কাজনক। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকায় পাঠানোর পরামর্শ দেয়া হয়েছে। এরপর বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে এয়ারবাসে করে তাকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।
তবে প্রশিক্ষককে বের করার আগেই প্রশিক্ষণার্থী তামান্না তার সিটে বসা অবস্থায় আগুনে পুড়ে মারা যান। বিধ্বস্ত প্রশিক্ষণ বিমানের সামনের অংশের ইঞ্জিনসহ প্রশিক্ষণার্থী তামান্নার শরীরও পুড়ে অঙ্গার হয়ে যায়।
অন্যদিকে বিকাল ৫টার দিকে ঢাকা থেকে বিমান বাহিনীর একটি হেলিকপ্টারে সেনাবাহিনী, বিমানবাহিনী ও সিভিল এভিয়েশনের কর্মকর্তারা শাহ্ মখদুম বিমান বন্দরে আসেন।
IMG1
বিকাল সাড়ে ৫টায় এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত তারা আইনশৃঙ্খলা ও দমকল বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে ঘটনাস্থলে উদ্ধার তৎপরতার পাশাপাশি প্রাথমিক তদন্ত শুরু করেছেন বলে জানা গেছে।
ঘটনার ব্যাপারে বাংলাদেশ ফ্লাইং একাডেমির স্থানীয় কর্মকর্তা ও রাজশাহী বিমানবন্দরের কর্মকর্তারা মুখ খুলছেন না। তারা শুধু এটুকুই বলেছেন, ‘তামান্না রহমানের বাড়ি টাঙ্গাইল জেলায়, তার বাবার নাম ডা. আনিছুর রহমান।’
বাংলাদেশ ফ্লাইং একাডেমির ইঞ্জিনিয়ার রুমী সাংবাদিকদের জানান, বুধবারই ছিল তামান্না রহমানের প্রশিক্ষণের শেষ দিন। এদিন সন্ধ্যায় তার সমাপনী অনুষ্ঠানের কথা ছিল। তার আগে দুপুরে একাডেমির সেসনা ১৫২ বিমানে প্রশিক্ষক সাঈদ কামালকে নিয়ে শেষ বারের মত উড্ডয়নের পর দ্রুত অবতরণের ট্রায়াল দিচ্ছিলেন তামান্না রহমান।
তিনি আরো বলেন, দুপুর দুইটার দিকে উড্ডয়নের পর রানওয়েতে টেকঅফ করার সময় বিমানের ইঞ্জিনে আগুন ধরে যায়। এতে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বিমানটি রানওয়ে থেকে অনুমান ১০/১২ ফুট দূরে ছিটকে পড়ে। আগুন দ্রুত বিমানটির ইঞ্জিনসহ সামনের অংশে ছড়িয়ে পড়ায় প্রশিক্ষণার্থী তামান্না পুড়ে মারা যান এবং তার প্রশিক্ষক সাঈদ কামাল গুরুতর দগ্ধ হন।