ঢাকা উত্তর, দক্ষিণ ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনে সুষ্ঠু ভোটের জন্য সেনাবাহিনী মোতায়নের দাবি জানিয়েছে বিএনপি। এছাড়া তাদের দু’টি দলীয় কার্যালয় খুলে দেয়া ও নির্বাচনী প্রচারণার সমান সুযোগ নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী রকিবউদ্দীন আহমদের সঙ্গে বিএনপির সাত সদস্যর প্রতিনিধির এক বৈঠকে দলের পক্ষ থেকে এসব দাবি জানানো হয়।
বুধবার বিকালে সিইসির সঙ্গে সাক্ষাত শেষে প্রতিনিধি দলের প্রধান বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আ স ম হান্নান শাহ এসব দাবির কথা সাংবাদিকদের জানান।
বিএনপির সেনা মোতায়নের দাবির বিষয়ে জানতে চাইলে সিইসি বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে ১৯ এপ্রিল ইসির বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। ওইদিন সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করা হবে। পরিস্থিতি বুঝে সেনা মোতায়েনের দরকার হলে ইসি সে ব্যবস্থা নেবে।’
এর আগে তিনি সিটি করপোরেশন নির্বাচন বিষয়ে একগুচ্ছ দাবি নিয়ে বেলা তিনটার দিকে সিইসির সঙ্গে সাক্ষাত করতে যান বিএনপির সাত সদস্যের প্রতিনিধি দলটি।
আ স ম হান্নান শাহ ছাড়া বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার, বিএনপির চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা মুশফিকুর রহমান, এ এস এম আব্দুল হালিম, সৈয়দ সুজাউদ্দিন আহমদ, সাবেক নির্বাচন কমিশন সচিব মো. আব্দুর রশিদ সরকার ও সাবেক যুগ্ম সচিব এবিএম আব্দুস সাত্তার।
বৈঠক শেষে হান্নান শাহ সাংবাদিকদের বলেন, সিইসি কাজী রকিবউদ্দিন আহমদ তাঁদের কথা মনোযোগ দিয়ে শুনেছেন। আইনের মধ্যে থেকে নির্বাচন সুষ্ঠু করতে যা যা করা দরকার তিনি করবেন বলে আশ্বাস দিয়েছেন।
তিনি বলেন, তারা রাজনৈতিক দল হিসেবে সিইসির কাছে কিছু পয়েন্ট দিয়েছেন। বিএনপির নয়াপল্টনের অফিস ও খালেদা জিয়ার অফিসের তালা খুলে দেয়ার জন্য সরকারকে অনুরোধ করতে সিইসিকে তারা অনুরোধ করেছেন।
অভিযোগ করে তিনি বলেন, ‘কোনো দলের কার্যালয় তালাবদ্ধ থাকবে, আবার অন্য দলের কার্যালয় খুলে প্রচারণা চালাবেন এটা তো হয় না। এতে নির্বাচন প্রভাবিত করে।নির্বাচন করতে হলে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড দরকার । প্রচারণার জন্য সবার সমান সুযোগের দাবি জানান তিনি।
সেনা মোতায়নের বিষয়ে আ স ম হান্নান শাহ জানান, ভোট গ্রহনের অন্তত ১৫ দিন আগে মোতায়ন চায় তার দল। তিনি বলেন, ‘প্রার্থীরা যাতে ভোটারদের কাছে যেতে পারে, সে জন্য আমরা সেনা মোতায়নের দাবি করেছি। নির্বাচনী এলাকায় যাতে সন্পাসী মান্লানি না হয় সে জন্য ব্যবস্থা নিতে বলেছি।’
তিনি বলেন, যারা নির্বাচনে পোলিং এজেন্টের দায়িত্বপালন করবেন তাদের সম্পর্কে সকল প্রার্থীরা যেন জানতে পারেন। কোনো বিশেষ দলের নেতাকর্মী ও সরকারের বিতর্কিত ব্যক্তিকে যেন পোলিং এজেন্ট নির্বাচনী দায়িত্ব না দেয়া হয়।
অভিযোগ করে তিনি বলেন, ‘ক্লারিক্যাল (করনিক) ও পিন্টিং ভুলের কারণে কিছু এলাকায় ভালো ভালো প্রার্থীর মনোনয়ন পত্র বাতিল করা হয়েছে। তিনি জানান, ‘আমরা উত্তরের প্রার্থী আবদুল আউয়াল মিন্টুর বিষয়টি উঠিয়েছিলাম।
তিনি বলেছেন, আমরা যদি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আপিল করি তাহলে তারা বিশেষভাবে বিবেচনা করবেন। মিন্টু বাদ পড়লে তার ছেলে তাবিথ আউয়াল নির্বাচনে অংশ নেবেন কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘ওয়েট এ্যান্ড সি।’
জমিরউদ্দিন সরকার বলেন, ‘সংবিধানের কথা উল্লেখ করে তাদের দায়িত্বের বিষয়টি বুঝিয়ে দিয়েছি। রাজনৈতিক কাযালয়ে প্রবেশের অধিকার সবার রয়েছে। অজ্ঞাত নামে আসামি আটক করার সমালোচনা করে সাবেক স্পিকার বলেন, এজাহারে নাম দেয়া থাকে ১০টা। অজ্ঞাত আসামি করে দুই হাজার। যখন নির্বাচনে ওদের (ক্ষমতাসীন) ভোট না দেয়া হয়, তখন আটক করে, এটা ঠিক নয়। তিনি জামিনে থাকা ব্যক্তিদের আটক না করার অনুরোধ জানিয়েছেন। সেনাবাহিনীর মোতায়েনর দাবিতে সিইসি জানিয়েছেন, ১৯ এপ্রিল আইনশৃঙ্খলার প্রধানদের সঙ্গে বৈঠকে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন।