রাজনীতিমুক্ত যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) ছাত্রলীগ নামধারীদের কথিত আন্দোলনে সৃষ্ট অচলাবস্থার নিরসন হতে চলেছে। ৫ম দিনের মতো বুধবার দুপুরে ছাত্রলীগ নামধারীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ভবনে তালা ঝুলিয়ে দেয়ার সময় পুলিশ অ্যাকশনে যায়।
আটক করে যবিপ্রবি ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি ‘দাবিদার’ শাকিল আহম্মদসহ ২ ছাত্রকে। পুলিশি অভিযান দেখে তার সাথে থাকা অন্যনা ঘটনাস্থল থেকে দ্রুত সটকে পড়েন।
যবিপ্রবি’র বহিষ্কৃত ছাত্রলীগ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার, ভিসির পদত্যাগ, ক্যাম্পাসে রাজনীতি করতে দেয়াসহ বিভিন্ন দাবিতে ২৮ মার্চ থেকে ক্যাম্পাসে আন্দোলন শুরু করে ছাত্রলীগ। তাদের কর্মসূচির কারণ বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাস ও পরীক্ষা স্থগিত হয়ে যায়। শিক্ষার্থীদের জোর করে মিছিল-সমাবেশে আসতে বাধ্য করা হয়। এতে গত ২-৩ দিনে দুটি হলের ২-৩শ’ ছাত্র-ছাত্রী হল ছেড়ে চলে যান।
এই পরিস্থিতিতে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সাথে যশোরের জেলা ও পুলিশ প্রশাসনের সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখার স্বার্থে প্রশাসন শক্ত অবস্থানে যাবার সিদ্ধান্ত নেয়। এজন্য বুধবার সকালে জেলা প্রশাসকের নির্দেশে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুস সালামের নেতৃত্বে বিপুল সংখ্যক পুলিশ ক্যাম্পাসে অবস্থান নেয়।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুস সালাম ইত্তেফাককে জানান, তিনি ক্যাম্পাসে যেয়ে একাডেমিক ভবনের ছাত্রদের ঝুলিয়ে দেয়া তালা ভেঙ্গে ফেলার নির্দেশ দেন। এসময় বিভিন্ন ক্লাস চলছিল। অন্যান্য ক্লাসের জন্য শিক্ষার্থীরা ভিতরে যেতে পারছিলেন না। ক্যাম্পাস অশান্তকারী শাকিলকে আমরা ধরে ফেলি। পরে উপাচার্যের লিখিত অনুরোধে এবং জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের নির্দেশে শহীদ মশিউর রহমান হলে তল্লাশি চালানো হয়। শাকিলের অবস্থানের ৪১৫ নং কক্ষ থেকে ‘ডাকাতি-ছিনতাইসহ নাশকতা কাজে’ ব্যবহার হয় এমন ২টি বার্মিজ চাকু, তার রুমমেট রিফাতের লকার ভেঙে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষায় ব্যবহৃত হয় এমন ২০-২৫টি সাদা খাতা উদ্ধার করা হয়। এসময় রিফাত নামের একজন ছাত্রকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত বছর ১৬ মে সুব্রত বিশ্বাসকে সভাপতি ও এসএম শামীম হোসেনকে সাধারণ সম্পাদক করে ছাত্রলীগের কমিটি গঠন হয়। এনিয়ে অন্তর্কোন্দলে জড়িয়ে পড়ে ছাত্রলীগ।
আর ওই বছর ১৪ জুলাই খুন হন পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র ছাত্রলীগ নেতা নাইমুল ইসলাম রিয়াদ।
এরপর ১৩ সেপ্টম্বর বিশ্ববিদ্যালয় রিজেন্ট বোর্ডের সভায় রিয়াদ খুনের ঘটনার জের ধরে যবিপ্রবি ছাত্রলীগের সভাপতি সুব্রত বিশ্বাস ও সাধারণ সম্পাদক শামীম হোসেনকে স্থায়ী বহিষ্কার করা হয়।
এছাড়া পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের প্রথম বর্ষের ছাত্র ফয়সাল তানভীরকে দুই বছর ও শারীরিক শিক্ষা বিভাগের ছাত্র আজিজুল ইসলামকে এক বছরের জন্য বহিষ্কার করা হয়। বহিষ্কৃত ছাত্রলীগ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক ২৪ মার্চ যশোর কারাগার থেকে মুক্তি পেলে আন্দোলনে নামে ছাত্রলীগ।