মিন্টু-পিন্টুসহ ছয় প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল

ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ এবং চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ৫৪ জন মেয়র প্রার্থীর প্রার্থিতা বৈধ ঘোষণা করেছেন রিটার্নিং কর্মকর্তারা। বাতিল করা হয়েছে ৬ প্রার্থীর মনোনয়নপত্র। এর মধ্যে উত্তরের ২ জন এবং দক্ষিণের ৩ জন এবং চট্টগ্রামে ১ জন প্রার্থী রয়েছেন। বাতিল প্রার্থীরা হলেন— উত্তর সিটির বিএনপি সমর্থিত একক প্রার্থী বিশিষ্ট ব্যবসায়ী এবং বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা আবদুল আউয়াল মিন্টু ও স্বতন্ত্র প্রার্থী নাঈম হাসান। দক্ষিণের বিএনপি নেতা নাসির উদ্দিন আহাম্মেদ পিন্টু, স্বতন্ত্র প্রার্থী বাবুল সরদার চাখারী ও রেজাউল করিম চৌধুরী। চট্টগ্রামের ফোরকান চৌধুরী।

গতকাল সকালে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. শাহ আলম ও দক্ষিণের রিটার্নিং কর্মকর্তা মিহির সারওয়ার মোর্শেদ মনোনয়নপত্র বাছাইয়ের প্রথম দিনে মেয়র পদে প্রার্থিতা বৈধ ও বাতিলের সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেন। রিটার্নিং অফিসারের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আগামী তিন দিনের মধ্যে সংক্ষুব্ধ প্রার্থীদের আপিল করার সুযোগ রয়েছে। আপিল কর্তৃপক্ষ সংশ্লিষ্ট সিটি এলাকার বিভাগীয় কমিশনার।
এদিকে মেয়র প্রার্থীদের পাশাপাশি সাধারণ কাউন্সিল ও সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র বাছাই করা হয়েছে। গতকাল দু’ধাপে কাউন্সিলরদের মনোনয়নপত্র বাছাই করা হয়। আজ বৃহস্পতিবার বাকি কাউন্সিলর ও সাধারণ কাউন্সিলরদের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই হবে। 
বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা আবদুল আউয়াল মিন্টুর প্রার্থিতায় সমর্থক হন আবদুর রাজ্জাক নামে এক ব্যক্তি। তিনি (রাজ্জাক) উত্তর সিটির ভোটার নন। রিটার্নিং কর্মকর্তা জানান, কোন ব্যক্তি মেয়র কিংবা কাউন্সিলর প্রার্থী হলে এবং তার প্রস্তাবক ও সমর্থক সবাইকে সংশ্লিষ্ট এলাকার ভোটার হওয়া বাধ্যতামূলক। অন্যথায়, প্রার্থিতায় অযোগ্য হবেন সংশ্লিষ্ট প্রার্থী।
মিন্টুর আইনজীবী ব্যারিস্টার আনিসুর রহমান জানান, রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করা হবে। আর স্বতন্ত্র প্রার্থী নাঈম হাসানকে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে ঋণখেলাপী ঘোষণা করায় তার প্রার্থিতা বাতিল করা হয়েছে।
উত্তরের বৈধ ১৯ প্রার্থ হলেন— আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী ও সাবেক এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি আনিসুল হক, জাতীয় পার্টি সমর্থিত প্রার্থী বাহাউদ্দিন আহমেদ বাবুল, মিন্টুর ছেলে তাবিথ আউয়াল, সিপিবির আব্দুল্লাহ আল ক্কাফী, জাসদ সমর্থিত প্রার্থী নাদের চৌধুরী, জাপা চেয়ারম্যানের সাবেক উপদেষ্টা ববি হাজ্জাজ, গণ সংহতির মো. জোনায়েদ আব্দুর রহমান সাকি, সাবেক সংসদ সদস্য সারাহ বেগম কবরী, বিকল্পধারার মাহী বি চৌধুরীসহ চৌধুরী ইরাদ আহম্মদ সিদ্দিকী, মো. শামছুল আলম চৌধুরী, এ ওয়াই এম কামরুল ইসলাম, কাজী মো. শহীদুল্লাহ, মোয়াজ্জেম হোসেন খান মজলিশ, মো. আনিসুজ্জামান খোকন, মো. জামান ভূঞা, শেখ শহিদুজ্জামান, শেখ মো. ফজলে বারী মাসউদ ও মোস্তফা কামাল আজাদী।
দক্ষিণ সিটিতে বিএনপি নেতা নাসির উদ্দীন আহম্মেদ পিন্টু মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করেন রিটার্নিং কর্মকর্তা। বিডিআর (বর্তমানে বিজিবি) বিদ্রোহের ঘটনায় ইন্ধনের  অপরাধে রাষ্ট্রদ্রোহী মামলায় তিনি দণ্ডিত হন। সাজার বিরুদ্ধে তার আপিল গৃহীত হয়েছে, এমন কোন প্রমাণ মনোনয়নপত্রের সাথে সংযুক্ত না করায় তার প্রার্থিতা বাতিল করা হয়।
দক্ষিণের বৈধ ২৩ প্রার্থী হলেন— আওয়ামী লীগ সমর্থিত সাঈদ খোকন, বিএনপি নেতা মির্জা আব্বাস, আব্দুস সালাম, আসাদুজ্জামান রিপন, জাপা সমর্থিত মোহাম্মদ সাইফুদ্দিনসহ মো. আকতারুজ্জামন ওরফে আয়াতুল্লাহ, মো. আব্দুল খালেক, জাহিদুর রহমান, আবু নাছের মোহাম্মদ মাসুদ হোসাইন, বাহরানে সুলতান বাহার, শাহীন খান, দিলীপ ভদ্র, শহীদুল ইসলাম, শফিউল্লাহ চৌধুরী, আব্দুর রহমান, বজলুর রশীদ ফিরোজ, রিয়াজউদ্দিন, মশিউর রহমান, ইমতিয়াজ আলম, সাবেক সংসদ সদস্য গোলাম মওলা রনি, আয়ুব হোসেন ও কাজী আবুল বাশার। উল্লেখ্য, দক্ষিণের ২৬ ও উত্তরের ২১ সহ মোট ৪৭ মেয়র প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন। বুধবার যাচাই-বাছাইয়ে ৫ জন বাদে বাকী ৪২ জনের প্রার্থিতা বৈধ করেন রিটার্নি কর্মকর্তা। তিনি জামিন চাইতে আদালতে যাবেন। পরে এক পর্যায়ে অপর এক পুলিশ কর্মকর্তা জানান, তিনি ফেরারি আসামি নয়। পুলিশের এ বক্তব্যের পর রিটার্নিং কর্মকর্তা তার মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেন।
ফেরারী আসামীর তালিকা ইসিতে

তিন সিটিতে ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও সংরক্ষিত কাউন্সিলরসহ মোট এক হাজার ৮৩৩ জন মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। পুলিশ জানিয়েছে ঢাকার দুই সিটির ১১ জন মেয়র প্রার্থী, ২২টি ওয়ার্ডের ৬৫ জন কাউন্সিলর প্রার্থী এবং ১৯টি সংরক্ষিত কাউন্সিলর পদের ৪ জনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের মামলার তথ্য তারা ইসিকে জানিয়েছেন।