দক্ষিণে বিএনপির সমর্থন পাচ্ছেন মির্জা আব্বাস

আসন্ন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিএনপি তাদের দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য এবং মহানগর আহ্বায়ক মির্জা আব্বাসকে প্রার্থী হিসেবে সমর্থন দিয়েছে। আর ‘স্ট্যান্ডবাই’ প্রার্থী হিসাবে থাকতে বলেছে দলের অর্থনৈতিক বিষয়ক সম্পাদক এবং ঢাকার সাবেক ডেপুটি মেয়র আবদুস সালামকে।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, আব্বাসকে প্রার্থী করে স্বস্তিতে নেই বিএনপির নীতি নির্ধারকরা। ‘তার কখন কি হয়’ -এমন আশঙ্কা আছে দলের ভেতর। কারণ বর্তমানে ৫টি হত্যাসহ বিস্ফোরক, দুর্নীতি, জ্বালাও-পোড়াওসহ বিভিন্ন অভিযোগে ৩৭টি মামলা ও গ্রেফতারি পরোয়ানার খড়গ ঝুলছে তার মাথার ওপর। একটি মামলায় তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা তামিলের শুনানি আছে ঢাকায় ভোট গ্রহণের আগের দিন। তার আগাম জামিনের আশাও ছেড়ে দিয়েছেন তার আইনজীবীরা। ফলে বিএনপি হাইকমান্ড মনে করছে, কোনো কারণে মির্জা আব্বাসের প্রতিদ্বন্দ্বিতা বড় ধরনের ঝুঁকিতে পড়লে আবদুস সালাম লড়বেন দলের হয়ে। আবদুস সালামের মামলা রয়েছে তিনটি। এগুলো সব ফৌজদারি মামলা।
জানা গেছে, আবদুস সালাম ছাড়াও বিএনপির আন্তর্জাতিক সম্পাদক আসাদুজ্জামান রিপন এবং সাবেক কমিশনার আবুল বাশারের প্রার্থিতার বৈধতা দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। তারাও নির্বাচনে বিএনপির সমর্থন পাওয়ার জন্য দৌড়-ঝাঁপ করছেন।
দলের একজন দায়িত্বশীল নেতা জানান, মির্জা আব্বাসকে দক্ষিণের প্রার্থী হিসাবে দল সমর্থন দিয়েছে। তবে তাকে সরকার শেষ পর্যন্ত নির্বাচন করতে দিবে কি-না তা নিয়ে আমাদের সংশয় কাটেনি। ফলে বিকল্প প্রার্থী রাখা হয়েছে। ‘শত নাগরিক কমিটি’র নেতারাও আব্বাসের ব্যাপারে পজেটিভ।
এদিকে মির্জা আব্বাস আত্মগোপনে আছেন তিন মাসের বেশি সময় ধরে। তিনি কোথায় আছেন তেমন তথ্যও তার ঘনিষ্ঠজনরা জানেন না। দলের ‘স্ট্যান্ডবাই’ মেয়র পদপ্রার্থী আবদুস সালামও আত্মগোপনে। তার সহধর্মিণী ফাতেমা সালাম জানান, নগর উন্নয়ন পরিকল্পনায় সালামের পূর্ব অভিজ্ঞতা রয়েছে। আমরা আশা করছি- দল উনাকেই সমর্থন দিবে। নির্বাচন সুষ্ঠু হওয়া নিয়ে শঙ্কায় ২০ দল: তিন সিটি করপোরেশন নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হওয়া নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোট। গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব বরকত উল্লাহ বুলু এ শঙ্কার কথা জানান। এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, নির্বাচনে সরকার দলীয় সন্ত্রাসী ও লুটেরাদের অবাধ বিচরণ এবং সরকারের মন্ত্রী, এমপি, প্রার্থী ও সমর্থকদের দ্বারা নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের সুস্পষ্ট অভিযোগ রয়েছে। অথচ নির্বাচন কমিশন তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণে উদাসীনতা দেখাচ্ছে।
১২ মেয়র প্রার্থীসহ ৮১ জন আসামি ইসিতে ডিবির তালিকা
ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মনোনয়নপত্র জমা দেয়া ১২ মেয়র প্রার্থীসহ মোট ৮১ জন পুলিশের এজাহারভুক্ত আসামি। আসামিদের নামের তালিকা নির্বাচন কমিশনে জমা দেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা মেট্রোপলিটান পুলিশের (ডিএমপি) যুগ্ম কমিশনার মনিরুল ইসলাম। গতকাল বুধবার বিকালে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান।
মনিরুল ইসলাম বলেন, ৮১ জনের আসামির মধ্যে ১২ জন মেয়র প্রার্থী। আরো রয়েছেন ২০টি ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ৬৫ জন এবং সংরক্ষিত নারী আসনের ৪ জন সদস্য। প্রথম ধাপে নির্বাচন কমিশনে এ তালিকা জমা দেয়া হয়েছে। প্রার্থীদের বিষয় এখনো তথ্য নেয়া হচ্ছে। এ সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। এসব প্রার্থীর বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। অনেকের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানাও রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, দুই সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ৩০ থেকে ৩৫টি মামলা রয়েছে এমন ব্যক্তিও মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন। যাদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা হয়েছে কিন্তু জামিন নেয়নি। তাদের নাম যদি চার্জশীটে আসার সম্ভাবনা থাকে, তাহলে তদন্ত কর্মকর্তা চাইলে তাদের গ্রেফতার করতে পারবেন। নির্বাচন যাতে সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হতে পারে সে জন্য পুলিশ অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে অভিযান চালাচ্ছে বলেও তিনি জানান।