নাটোরে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ হয়নি

নাটোরের লালপুরে লীজ না নিয়েই পদ্মা নদী থেকে অবৈধভাবে লাখ লাখ টাকার বালু-ভরাট মাটি উত্তোলন করা হচ্ছে। উপজেলা নির্বাহী অফিসারসহ বিভিন্ন জায়গায় গণঅভিযোগ করার পরেও তা বন্ধ হয়নি।

এলাকাবাসী জানান, শুকনো মৌসুমে প্রায় প্রতি বছরই স্থানীয় বালু ব্যবসায়ীরা পদ্মা নদী থেকে ট্রাক বোঝাই করে বালু-ভরাট মাটি উত্তোলন করে বিভিন্ন জায়গায় বিক্রি করে থাকেন। নদীর বালু উত্তোলনে সরকারের কাছ থেকে নিয়মমাফিক লীজ নিয়ে বালু ও ভরাট মাটি উত্তোলন করা হয়। লীজ না নিয়েই বালু ও ভরাট মাটি উত্তোলন করা হচ্ছে।
স্থানীয়রা জানান, মৌসুমের শুরু থেকে বিলমাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও লালপুর থানা যুবলীগের সভাপতি মো. মিজানুর রহমান মিন্টুর সহযোগিতায় রিতা এন্টারপ্রাইজের মালিক মো. শরিফুল ইসলাম ঠিকাদার অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে আসছেন। বালু ও ভরাট মাটি উত্তোলন করার বিরুদ্ধে ২৪ মার্চ লালপুরের উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর গণঅভিযোগ করে সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, পানি সম্পদ মন্ত্রী ও নাটোরের ডিসি এবং এসপিসহ বিভিন্ন জায়গায় এর কপি পাঠান। এরপরেও বালু উত্তোলন বন্ধ করা হয়নি। এই গণঅভিযোগে বলা হয়, বালু উত্তোলনের প্রতিবাদকারীদের বিভিন্নভাবে হুমকি দেয়া হচ্ছে।
এ ব্যাপারে বালু ব্যবসায়ী মো. শরিফুল ইসলাম জানান, ঐ বালু মহালে এখন বালু না থাকায় সরকারের কাছ থেকে এবারে আর লীজ দেয়া হয়নি। সারাদিন ধরে তিনি ট্রাক দিয়ে সেখান থেকে কি উত্তোলন করছেন তারও কোনো সঠিক জবাব দিতে পারেননি।
একইভাবে বিলমাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও লালপুর থানা যুবলীগের সভাপতি মো. মিজানুর রহমান মিন্টুর সাথে কথা হলে তিনি ঘটনার সত্যতা অস্বীকার করে জানান, বালু বা ভরাট মাটি উত্তোলনের সাথে কোনোভাবেই জড়িত নন। তার এবং সরকারি দলের নাম ভাঙ্গিয়ে এসব অবৈধ কাজ করা হচ্ছে।

লালপুরের উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. নজরুল ইসলামের সাথে কথা হলে তিনি স্থানীয় লোকজনের গণঅভিযোগটি পাওয়ার কথা স্বীকার করে জানান, বিষয়টি এখনও তদন্ত করে দেখা হয়নি তবে তিনি দেখবেন।