ঢাবির ৪ হলে ঝুঁকি নিয়ে শিক্ষার্থীদের বসবাস

 
 
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরনো চারটি হলের বিভিন্ন অংশ জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে। হলগুলোতে ঝুঁকি নিয়ে থাকছেন  শিক্ষার্থীরা। দুই বছর আগে এসব হলের ঝুঁকিপূর্ণ ভবনগুলো সংস্কারের জন্য অর্থ বরাদ্দ হলেও তা শুরু হয়নি। আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় বিশ্ববিদ্যালয়ের হাজী মুহম্মদ মুহসীন, সার্জেন্ট জহুরুল হক, মাস্টারদা সূর্যসেন ও শহীদুল্লাহ হলের সংস্কার কাজ শুরু হচ্ছে না। তাই শিক্ষার্থীদের জীবন বিপন্ন হওয়ার ঝুঁকিও দূর হচ্ছে না।
 
সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, সূর্যসেন হলের অন্তত ১২টি কক্ষের ছাদে ও দেয়ালের বড় অংশের পলেস্তারা খসে পড়েছে। চার ও পাঁচ তলার বারান্দার দেয়াল ও ছাদের বিভিন্ন স্থানে পলেস্তরা খসে পড়েছে ও ফাটল ধরেছে।
 
এ প্রসঙ্গে হলাটির প্রভোস্ট এএসএম মাকসুদ কামাল বলেন, হলটির বিভিন্ন অংশে বেশ কয়েকবার সংস্কার করা হয়েছে। শিগগিরই আরেকবার সংস্কার করা হবে। মুহসীন হলের উত্তর ও দক্ষিণ ব্লকের বিভিন্ন অংশে পলেস্তারা খসে পড়েছে। দেয়াল ও ছাদের কয়েকটি স্থানে ফাটল দেখা দিয়েছে।
 
সার্জেন্ট জহুরুল হক হলের বর্ধিতাংশের কয়েকটি পিলারে ও ভবনের বিভিন্ন অংশে ফাটল ধরেছে। পলেস্তারা খসে পড়ছে বিভিন্ন অংশে। দক্ষিণ ভবনের দক্ষিণ অংশে ভাঙনও ধরেছে। বৃষ্টি হলে এ ফাটলগুলো দিয়ে পানি পড়ে। প্রায় শতবর্ষী শহীদুল্লাহ হলে কয়েকদফা সংস্কার করা হলেও এর ফাটলগুলো সংস্কারের বছর খানেকের মধ্যেই পুরনো অবস্থায় ফিরে যায়। এক্স-১ ও এক্স-২ ভবনের জরাজীর্ণ অবস্থা আশঙ্কাজনক পরিস্থিতি তৈরি করেছে। এ দুই ভবনের কয়েকটি কক্ষের ফাটল চুইয়ে বৃষ্টির পানি পড়ে।
 
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবন সূত্রে জানা যায়, ঝুঁকিপূর্ণ চারটি হলে জরুরি সংস্কারের জন্য ২০১৩ সালের মে মাসে ১০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়। সেই বরাদ্দের অর্ধেক অর্থ কয়েকদিন আগে হাতে পেয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। কিন্তু সংস্কার কাজের নকশা নিয়ে বুয়েটের সঙ্গে দর কষাকষিসহ বিভিন্ন জটিলতায় এখনো কাজ শুরু করা যায়নি।
 
এ প্রসঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রকৌশলী মফিজুর রহমান জানান, বাজেট পাস হওয়ার পরপরই বুয়েট কর্তৃপক্ষকে নকশা প্রণয়নের জন্য বলা হয়েছিল। সেই নকশার নথি গত মার্চ মাসের শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ে পৌঁছেছে।