দেশের মানুষ চায় একটি গণতান্ত্রিক শান্তিপূর্ণ পরিবেশ: রওশন

 
 
 
জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা বেগম রওশন এরশাদ ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেছেন, ‘শত প্রতিকূলতার মধ্যে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন হয়েছিল বলেই আজ দেশের গণতন্ত্রের ভিত মজবুত হয়েছে। গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা অব্যাহত রয়েছে। সারা বিশ্বে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হয়েছে। কিন্তু হরতাল-অবরোধ দেশের অর্থনীতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করলেও দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। দেশের মানুষ চায় সন্ত্রাস-সাম্প্রদায়িকতামুক্ত একটি গণতান্ত্রিক শান্তিপূর্ণ পরিবেশ। এটা আমাদের নিশ্চিত করতে হবে। কেন আমরা সকলে একত্রে বসে দেশের সমস্যাগুলো সমাধান করতে পারছি না? সেটাই আজ বড় প্রশ্ন।’ বৃহস্পতিবার স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে জাতীয় সংসদ অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর সমাপনী আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ কথা বলেন।
রওশন এরশাদ বলেন, ‘সারা বিশ্ব মন্দায় ভুগলেও আমাদের দেশকে সেই মন্দা স্পর্শ করতে পারেনি, তার প্রধান কারণ—আমাদের শ্রমিকদের পাঠানো বিপুল পরিমাণ রেমিট্যান্সের কারণে।’
‘অবিলম্বে তিস্তা চুক্তি স্বাক্ষরিত হবে’ এমন আশাবাদ ব্যক্ত করে রওশন বলেন, ‘যেভাবে খরস্রোতা সব নদীর পানি শুকিয়ে যাচ্ছে, তাতে পদ্মা সেতু নির্মাণের পর হয়তো দেখা যাবে নদীতে পানি নেই। নদীগুলোকে বাঁচানো না গেলে বাংলাদেশকে বাঁচানো যাবে না।’
রওশন এরশাদ বলেন, ‘প্রতিনিয়ত খাদ্যে বিষ প্রয়োগ করা হচ্ছে। প্রতিবছর ৪৫ লাখ লোক বিষাক্ত খাবার খেয়ে বিভিন্ন জটিল রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। দেশের জনগণকে বাঁচাতে হলে খাদ্যে কারা বিষ মেশাচ্ছে, তাদের ধরে কঠোর শাস্তি দিতে হবে। মানুষের বিবেককে জাগাতে হবে।’
রওশন বলেন, ‘আমাদের সশস্ত্র বাহিনীর জন্য আমরা সবসময় গর্ববোধ করি। মহান মুক্তিযুদ্ধে তাদের অপরিসীম অবদান জাতি চিরকাল স্মরণ করবে। বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠায় জাতিসংঘে শান্তি মিশনে তাদের কর্মকাণ্ড সারা বিশ্বে প্রশংসিত হয়েছে, যা আমাদের দেশের গৌরব। অবকাঠামোগত উন্নয়ন গড়ে তুলতে পারলে বিদেশি বিনিয়োগ অনেকগুণ বেড়ে যাবে, দেশের চিত্রই পাল্টে যাবে।’
রওশন এরশাদ বলেন, ‘মাদকের মরণ ছোবল থেকে নতুন প্রজন্মকে রক্ষা করতে না পারলে দেশের প্রকৃত উন্নয়ন হবে না।’