মানুষ পুড়িয়ে লাশের ওপর দিয়ে ক্ষমতায় যাওয়া যাবে না

প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা শেখ হাসিনা বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়াকে ধ্বংসের রানী হিসেবে আখ্যায়িত করে বলেছেন, উনি শুধু জানেন ধ্বংস করতেই। দেশের মানুষের সঙ্গে প্রতারণা ও সর্বনাশ করতে। আমরা সৃষ্টি করছি, উনি ধ্বংস খেলা খেলছেন। মানুষের লাশের স্তূপের ওপর দিয়ে খালেদা জিয়া ক্ষমতায় যেতে চান। কিন্তু দেশের জনগণ তা কখনোই হতে দেবে না। এ ধরনের অমানবিক কাজ যারা করতে পারে তাদের দেশের মানুষ মেনে নেবে না, বাংলাদেশের মাটিতে তাদের ঠাঁই হবে না।

গতকাল বৃহস্পতিবার স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর সমাপনী বক্তৃতায় প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়া সব ক্ষেত্রেই ব্যর্থ হয়েছেন। বর্তমানে উনি আন্দোলনে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছেন। অতীতে সরকার পরিচালনা করতেও উনি ব্যর্থ হন। ব্যর্থতার আক্ষেপ থেকেই বিএনপি নেত্রী দেশের মানুষের বিরুদ্ধে জিঘাংসার পথ বেছে নিয়েছেন। জনসমর্থন না পাওয়ার আক্রোশ থেকেই উনি দেশের মানুষকে পুড়িয়ে পুড়িয়ে হত্যা করছেন। রাজনীতি যদি দেশের জনগণের কল্যাণে হয়, তবে উনি সেই দেশের মানুষকেই কী ভাবে পুড়িয়ে হত্যা করতে পারেন? এটা কোন ধরনের রাজনীতি? খালেদা জিয়ার এই ধ্বংসাত্মক রাজনীতি দেশের জনগণ প্রত্যাখ্যান করেছে।
শেখ হাসিনা বলেন, সব ক্ষেত্রে ব্যর্থ হলেও তিনি (খালেদা জিয়া) সফল হয়েছেন হত্যা, দুর্নীতি, নিজের, পুত্র ও নেতাদের হাজার হাজার কোটি টাকার অর্থ-সম্পদ গড়ে তুলতে, আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের হত্যা, সারাদেশে বোমা ও গ্রেনেড হামলা, জঙ্গিবাদ-সন্ত্রাসবাদ সৃষ্টি করতে। তিনি বলেন, খালেদা জিয়ার পাশে কেউ নেই। রাজনীতির নামে যিনি দেশের মানুষকে পুড়িয়ে হত্যা করেন, মানবতাবিরোধী কর্মকাণ্ড করেন, সেই নেত্রীর (খালেদা জিয়া) সঙ্গে কোন বিবেকবান মানুষ থাকতে পারে না। শত নাগরিকের নামে যারা তত্পরতা চালাচ্ছেন তাদের হূদয়ে এতো দগ্ধ মানুষের আর্তনাদ, মৃত্যুও কী নাড়া দেয় না? তাঁরা কী ভাবে এভাবে মানুষকে পুড়িয়ে হত্যার জঘন্য রাজনীতিকে সমর্থন করেন?
শেখ হাসিনা বলেন, ক্ষমতায় থেকে মানুষের গ্রাস কেড়ে নিয়ে বিএনপি নেত্রী ও তাঁর দুই পুত্র আঙ্গুল ফুলে কলাগাছে পরিণত হয়েছেন। হাওয়া ভবন খুলে দুর্নীতি আর খোয়াব ভবন খুলে ফুর্তি করার ক্ষেত্রেও বিএনপি নেত্রীর দল সফল হয়েছেন। ক্ষোভ প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা দিনরাত পরিশ্রম করে অর্থনীতিসহ দেশের উন্নয়ন করে যাচ্ছি, সারাবিশ্বে ইতিমধ্যে বাংলাদেশ উন্নয়নের রোল মডেলে পরিণত হয়েছে। আর দেশের এই উন্নয়নকে ধ্বংস করতেই ষড়যন্ত্রে নেমেছেন খালেদা জিয়া। তিনি বলেন, ক্ষমতায় থাকতে বিএনপি নেত্রীসহ তাঁর দলের নেতারা এতই অর্থ-সম্পদ গড়ে তুলেছে যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে এফবিআই এজেন্টকে বিপুল অংকের টাকা দিয়ে ভাড়া করেছে সজীব ওয়াজেদ জয়ের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করতে। কিন্তু সেই ষড়যন্ত্র ধরা পড়েছে, মার্কিন আদালতে বিএনপি নেতার পুত্রের জেল হয়েছে। শুধু এখানেই নয়, এফবিআই সাক্ষী দিয়েছে বিএনপি নেত্রীর দুই পুত্র কত অর্থ-সম্পদ বিদেশে পাচার করেছে।
ভারতের বিজেপি সভাপতি অমিত শাহের সঙ্গে মিথ্যা ফোনালাপ এবং ছয় মার্কিন কংগ্রেসম্যানের ভুয়া বিবৃতির কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের মানুষকে ধোঁকা দিয়ে বিএনপি নেত্রী বোকা বানিয়েছেন। কিন্তু শুধু দেশের জনগণই নয়, বিদেশিদের নিয়েও বিএনপি নেত্রীর ধোঁকাবাজি-ভাওতাবাজি ধরা পড়েছে।
শেখ হাসিনা বলেন, আমরা একের পর এক সাফল্যে অর্জন করে বিদেশ থেকে পুরস্কার আনি, আর আরেক নেত্রী আনেন তিরস্কার। বাংলাদেশ আজ সবদিক থেকেই এগিয়ে যাচ্ছে, আর বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়া দেশকে পিছিয়ে দিতে একের পর এক ষড়যন্ত্র করে যাচ্ছেন। প্রধানমন্ত্রী প্রশ্ন রেখে বলেন, বাংলাদেশ স্বাধীন ও সার্বভৌম দেশ। স্বাধীন বাংলাদেশের জনগণের মাথা এসব ভাওতাবাজি করে নিচু ও হেঁট করার অধিকার বিএনপি নেত্রীকে কে দিয়েছে? বাংলাদেশের মানুষের মান-সম্মান নিয়ে খেলার অধিকারই বা তিনি কোথায় পেলেন? দেশের জনগণ এসব আর মেনে নেবে না।
বিভিন্ন ভূমি অফিসে হামলার প্রসঙ্গে তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি গোয়েন্দা সংস্থাদের নির্দেশ দিয়েছি কারা ভূমি অফিসে আগুন দিচ্ছে তাদের খুঁজে বের করতে। জড়িতদের কোন জমি থাকবে না, সরকার থেকে তাদের সকল জমি অধিগ্রহণ করে জনগণের মাঝে বিলিয়ে দেয়া হবে।
বিএনপি-জামায়াতের হরতাল-অবরোধের কারণে লাখো শিক্ষার্থীর জীবন ধ্বংস হওয়ায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএনপি নেত্রীর যত ক্ষোভই যেন দেশের নিরীহ মানুষ ও শিক্ষার্থীদের ওপর। আড়াইটি মাস শিশুরা স্কুলে যেতে পারেনি। বিএনপির নেত্রীর কারণে ও এবং এ লেভেলের শিক্ষার্থীরা পরীক্ষা পর্যন্ত দিতে পারেননি। এভাবে কোমলমতি শিশু-কিশোরদের শিক্ষা জীবন ধ্বংস করে বিএনপি নেত্রী কী অর্জন করতে পেরেছেন? ধ্বংসাত্মক রাজনীতি পরিহার করে সুস্থ ধারার রাজনীতিতে ফিরে আসার জন্য তিনি বিএনপি নেত্রীর প্রতি আহ্বান জানান।

এক ঘন্টা ২০ মিনিটের দীর্ঘ বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী দেশের সর্বশেষ রাজনীতি, বিএনপি-জামায়াত জোটের নাশকতা-সহিংসতার সমালোচনা এবং সরকারের অর্জন ও সফলতার চিত্র তুলে ধরেন। সংসদে নিয়মিত অংশগ্রহণ করে গঠনমূলক ভূমিকা পালনের জন্য বিরোধী দলের নেতা রওশন এরশাদকে ধন্যবাদ জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, গণতন্ত্রের প্রতি ন্যূনতম বিশ্বাস ছিল না বলেই খালেদা জিয়া ৫ বছরে মাত্র ১০ দিন সংসদে উপস্থিত ছিলেন। কিন্তু এখনকার বিরোধী দলের নেতা নিয়মিত সংসদে আসছেন, সরকারের গঠনমূলক সমালোচনা করছেন। বর্তমান সংসদে আর খিস্তিখেউড়, নোংরা ভাষা কাউকে শুনতে হয় না। সেই যন্ত্রণা থেকে বর্তমান বিরোধী দল আমাদের মুক্তি দিয়েছেন।