জেলার সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় তিস্তা নদীর বালুর চরে কুমড়া চাষ স্বাবলম্বী হচ্ছে কৃষকরা। কুমড়ার বাম্পার ফলনে নদী ভাঙ্গনে জমি ও বসতবাড়ী হারানো প্রান্তিক জনগোষ্ঠীরা খুঁজে পেয়েছে জীবিকার পথ।
সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলা তারাপুর, বেলকা, হরিপুর, চন্ডিপুর, শ্রীপুর ও কাপাসিয়া ইউনিয়নের উপর দিয়ে প্রবাহিত তিস্তা এবং ব্রহ্মপুত্র নদের চরাঞ্চলগুলো এখন শুধু ধু-ধু বালু চর। নদীর বুক জুড়ে জেগে উঠেছে শত শত একর জমি। জমির মালিকরা ২ থেকে ৩ ফুট গর্ত করে চাষ করেছে কুমড়া। এখন গোটা চরাঞ্চল জুড়েই সবুজ ফসলের সমারোহ। জানা গেছে, এ বছর ৬টি ইউনিয়নের চরাঞ্চলে ২ হাজার ৬১ জন চাষি প্রায় ২শ’ একর জমিতে কুমড়ার চাষ করেছেন।
কাপাসিয়া ইউনিয়নের বাদামের চরের কৃষক আবুল মিয়া জানান, ৮৪ জন কৃষক তাদের এই এলাকায় ৫০ হেক্টর জমিতে মিষ্টি কুমড়ার চাষ করেছেন। উত্পাদিত মিষ্টি কুমড়া বাজারজাত করে হাজার হাজার টাকা মুনাফা পাচ্ছেন।
লালচামার চরের কৃষক ফরিজল হোসেন জানান, মিষ্টি কুমড়ার চাষ করে তারা বেশ কয়েক বছর থেকে বেশ মুনাফা পাচ্ছেন। কিন্তু চলতি বছর হরতাল-অবরোধের কারণে মিষ্টি কুমড়া বিক্রি করতে না পারায় ক্ষেতের কুমড়া ক্ষেতেই শুকিয়ে যাচ্ছে। ফলে এ বছর কুমড়া চাষিদের লোকসান গুণতে হচ্ছে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ আমিনুল ইসলাম জানান, অন্যান্য ফসলের চেয়ে কম খরচে এবং স্বল্প পরিশ্রমে কুমড়া চাষ করা যায়। ফলে যে হারে চরাঞ্চলে কুমড়া চাষির সংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে তাতে করে আগামী ২ থেকে ৩ বছরের মধ্যে গোটা চরাঞ্চলের প্রান্তিক জনগোষ্ঠী কুমড়া চাষ করে আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হয়ে উঠবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।