মেঘনায় ট্রলার দুর্ঘটনায় আরও এক লাশ উদ্ধার

মুন্সীগঞ্জের মেঘনায় ট্রলার দুর্ঘটনায় নিখোঁজ এক শিশুর লাশ শুক্রবার বিকালে উদ্ধার করা হয়েছে। দুর্ঘটনাস্থল ভাষারচরের কাছে লাশটি ভেসে উঠলে পুলিশ ও স্বজনরা তুলে নিয়ে আসে। তার নাম কেয়ামনি (৪)। সে কুমিল্লার চান্দিনার শ্রীমন্ত্রপুর গ্রামের আব্দুল কাদিরের কন্যা। এই নিয়ে এই দুর্ঘটনায় পাঁচজনের লাশ উদ্ধার করা হল। এদিকে বৃহস্পতিবার উদ্ধারকৃত অজ্ঞাত এক লাশের পরিচয় মিলেছে। তিনি ঢাকার যাত্রাবাড়ীর হারুন অর রশিদের পুত্র ‘দিনপ্রতিদিন’ পত্রিকার নির্বাহী সম্পাদক আব্দুর গাফ্ফার ফারুক (২৮)। তবে দুর্ঘটনায় বালুবাহী জহাজ বাল্কহেডের মাথায় গেথে যাওয়া লাশটির পরিচয় এখনও মিলেনি। তাই লাশটি বাউশিয়া ঘাটে রাখা হয়েছে। তবে দুর্ঘটনাস্থলের কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া আরেকটি লাশ বেশি পচে যাওয়ায় এই দুর্ঘটনার নয় এমন ধারণায় মুন্সীগঞ্জ মর্গে পাঠানো হয়েছে। 
এদিকে মেঘনা নদীতে এখনও নিখোঁজদের সন্ধান চলছে। পুলিশ শুক্রবার নদীতে তল্লাশি চালায়। 
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এবিএম মাসুদ হোসেন জানান, পুলিশের তালিকা অনুযায়ী বাউশিয়ার মো. ফয়েজ (১৬) নিখোঁজ রয়েছেন। তবে এই সংখ্যা এর বেশিও হতে পারে। তাই উদ্ধার তৎপরতা এখনও চলছে। বুধবার রাতে গজারিয়া উপজেলায় ভাষারচরের কাছে বাল্কহেডের সাথে সংঘর্ষে ৭৫ জন যাত্রী নিয়ে ট্রলারটি দুর্ঘটনায় পড়ে। 
এই ঘটনায় শুক্রবার সন্ধ্যা পর্যন্ত মামলা হয়নি। তবে গজারিয়া থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছিল। এসআই দিদারুল আলমকে বাদী করে এই মামলায় আসামি করা হচ্ছে বাবা-মায়ের দোয়া নামের বাল্কহেড ও দুর্ঘটনা কবলিত ট্রলারের চালক এবং যান দু’টির মালিক ও অন্যান্য স্টাফদের। তবে সকল আসামিই অজ্ঞাত থাকছে। 
এই তথ্য দিয়ে ওসি ফেরদৌস হোসেন জানান, যান দু’টি জব্দ করে মেঘনা তীরে রাখা হয়েছে। তবে মালিকদের সনাক্তসহ অপরাধীদের গ্রেফতারেরও চেষ্টা চলছে।