মানিকগঞ্জ পৌরসভার ৪নং ওয়ার্ডের শিববাড়ী-হিজুলী রাস্তাটির নাজেহাল অবস্থা দীর্ঘদিনের। রাস্তাটিতে যানবাহন চলাচল তো দূরের কথা সাধারণ মানুষের পায়ে হেঁটে চলাচল করাই দুষ্কর। রাস্তাটি এখন রীতিমতো মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে।
রাস্তাটিতে যানবাহন চলাচলে দুর্ভোগ এখন চরম আকার ধারণ করেছে। একটু বৃষ্টি হলে তো কাদা এবং জলাবদ্ধতায় একাকার হয়ে যায় পুরো সড়ক। পুরো সড়কটাই ভাঙ্গা, খাদা-খন্দে ভর্তি। বৃষ্টির পানিতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে খানা-খন্দ দেখা যায় না। এ সময় রাস্তায় দুর্ঘটনা বেশি হয়।
গ্রাম থেকে শহরে, স্কুল-কলেজ এবং ডায়বেটিক হাসপাতালে যেতে হলে এ রাস্তাটাই একমাত্র যাতায়াতের ব্যবস্থা। অন্তত দশটি গ্রামের জনগণকেই এ রাস্তাটা ব্যবহার করতে হয় শহরে যাওয়ার জন্য। ব্যস্ত এবং প্রয়োজনীয় এ সড়ককে ঘিরে সময়ে সময়ে বড় দুর্ঘটনা হলেও কোন প্রতিকার পায়নি এলাকাবাসী।
পৌরসভার হিজুলী এলাকায় ডায়বেটিক হাসপাতাল, মাদ্রাসা, হিজুলী বাজার, আলু হিমাগারসহ রয়েছে অনেকগুলো গুরুত্বপূর্ন স্থাপনা।
দরিদ্র রিক্সাচলক আনিস, বৃষ্টির দিনও তার সম্বল রিক্সাটিকে নিয়ে বেরিয়ে পড়েছেন কাজের উদ্দেশ্যে। মানিকগঞ্জ বাজার থেকে ৩০ টাকা ভাড়ায় গন্তব্য হিজুলী বাজার। অনেক কষ্টে কাদার ভিতরে যাত্রী এবং মালামাল নিয়ে পথ পাড়ি দিচ্ছেন। পুরো রাস্তা হাঁটু পর্যন্ত কাদা এবং জলাবদ্ধতার ঢেকে আছে। অনেক কষ্টে আনিস ভয়ে ভয়ে যাত্রী এবং মালামাল নিয়ে হিজুলী ডায়বেটিক হাসপাতালের সামনের রাস্তায় পর্যন্ত পথ পাড়ি দিয়েছে। হঠাৎ গর্তে পড়ে তার রিক্সার চাকা আটকে দুমড়ে মুচড়ে কাত হয়ে কাদার ভিতরে পড়েন মালামালসহ যাত্রী ও আনিস। আশেপাশের লোকজন এসে তাদের টেনে তোলে। এরকম ঘটনা এলাকাবাসীর কাছে নতুন নয়। প্রায়ই এমন চিত্র তাদের দেখতে হয়।
হিজুলী বাজারের দোকানদার হাসেম জানান, এ রাস্তায় প্রায়ই বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটে। গেল অনেক বছর রাস্তার কোন সংস্কার কাজ হয় না। বড় বড় মাটির ট্রাক এলোপাথারি চালিয়ে রাস্তাকে খানা-খন্দে পরিণত করেছে। একটু বৃষ্টি হলেই হাঁটু পরিমান পানি জমে রাস্তাটিতে। সারা রাস্তা কাদায় ভর্তি থাকে, হেটে যাওয়ার অবস্থা থাকে না। হ্যালোবাইক কিংবা রিক্সায় যাতায়াতটাও ঝুকিপূর্ণ। গর্তে পড়ে কত হ্যালোবাইক, ভ্যান, রিক্সা যে উল্টে গেছে তার হিসাব নাই। জনপ্রতিনিধিরা এই রাস্তার ব্যাপারে অনেক আশা দিলেও তেমন কোন উন্নয়নই দেখাতে পারেন না।
আরও পড়ুনঃ লাকসামে যুবকের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার
মানিকগঞ্জ পৌরসভার ৪নং ওয়ার্ডের কমিশনার ও প্যানেল মেয়র আরশেদ আলীর সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, ‘রাস্তাটি সংস্কারের জন্য ৪৩ কোটি টাকার একটি ফান্ড পেয়েছি। দ্রুত সংস্কারের কাজ শুরু হবে।’
ইত্তেফাক/নূহু