গরু আসা বন্ধ হলে ভারতের ক্ষতি ৩৯ হাজার কোটি টাকা

বাংলাদেশিদের গরুর মাংস খাওয়ার অভ্যাস ত্যাগ করানোর জন্য ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে গবাদি পশুর চোরাচালান পুরোপুরি বন্ধ করতে গত বুধবার ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন দেশটির কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিং। তার নির্দেশ মেনে বিএসএফ জওয়ানরা বাংলাদেশে গরু পাচার পুরোপুরি বন্ধ করে দিলে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হবে ভারতকে। যার পরিমাণ ৩১ হাজার কোটি রুপিরও বেশি। গতকাল শুক্রবার টাইমস অব ইন্ডিয়ার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য দেয়া হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, বিএসএফ জওয়ানরা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নির্দেশ পালন করলে প্রতি বছর ভারতের ক্ষতি হবে ৩১ হাজার কোটি রুপির বেশি। মূলত, ভারতের বিভিন্ন গোশালায় প্রায় সোয়া এক কোটি গরু রয়েছে। এসব গরুর স্বাভাবিকভাবে মৃত্যু পর্যন্ত লালন-পালন করতেই এই পরিমাণ হবে। যা ভারতের শিশুদের পুষ্টির জন্য ‘সমন্বিত শিশু উন্নয়ন প্রকল্পের’ আওতায় ভারত সরকার যে বরাদ্দ দেয় এই অর্থ তার চারগুণ।
প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, ভারতে গরুর গড় আয়ু ১৫-২০ বছর। তবে আয়ু শেষ হওয়ার ৫ বছর আগ থেকেই ওই গরুর দুধ নেয়া বন্ধ করে দেয় ডেইরি ফার্মগুলো। প্রতি বছর বাংলাদেশে পাচার হয় ২৫ লাখ গরু। যদি পাচার একেবারেই বন্ধ করে দেয়া হয় তবে পড়ে থাকা সোয়া কোটি গরুকে স্বাভাবিক মৃত্যু পর্যন্ত লালন-পালন করতে হবে। একটি গরু লালন-পালনের জন্য রাখালের বেতন, রক্ষণাবেক্ষণ, খাবার কেনা ইত্যাদি বাবদ বছরে খরচ হয় ২৫০০০ রুপি। ফলে সর্বসাকল্যে ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়াবে ৩১,২৫০ কোটি রুপি (প্রায় ৩৯,০০০ কোটি টাকা)।

প্রসঙ্গত, গত বুধবার বিএসএফ জওয়ানদের উদ্দেশে দেয়া বক্তব্যে রাজনাথ সিং বলেন, বাংলাদেশে গরুর মাংসের দাম সম্প্রতি ৩০ শতাংশ বেড়ে গেছে। বিএসএফ জওয়ানরা নজরদারির মাধ্যমে গবাদি পশু চোরাচালান পুরোপুরি বন্ধ করলে বাংলাদেশে গরুর মাংসের দাম আরো ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ বাড়বে। এতে বাংলাদেশিরা গরুর মাংস খাওয়া ছেড়ে দেবে।