ফিফা সভাপতি নির্বাচন: ব্ল্যাটার এগিয়ে

 
 
 ফিফার আগামী নির্বাচনে সেপ ব্ল্যাটারকে চ্যালেঞ্জ জানানো তিন জনের কারোরই কোনো সম্ভাবনা দেখছেন না তার পুরনো প্রতিদ্বন্দ্বী উয়েফার সাবেক সভাপতি লেনার্ট জোহানসন।
 
আগামী ২৯ মে ফিফা সভাপতি পদে এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এতে পঞ্চমবারের মতো সভাপতি হওয়ার জন্য দাড়িয়েছেন বর্তমান ফিফা প্রধান। তার প্রতিদ্বন্দ্বীরা হলেন জর্দানের যুবরাজ আলি, পর্তুগালের সাবেক ফুটবলার লুইস ফিগো ও ডাচ ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের প্রধান মাইকেল ফন প্রাগ। এদের মধ্যে প্রিন্স আলি আবার ফিফার সহসভাপতিও।
 
ব্ল্যাটার ১৯৯৮ সালে এই জোহানসনকেই ১১১-৮০ ভোটে হারিয়ে ফিফা সভাপতি হন। কারো কারো মতে প্রিন্স আলি সুইজারল্যান্ডের ব্ল্যাটারের বিরুদ্ধে শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তুলতে যাচ্ছেন। কিন্তু ৮৫ বছর বয়সী জোহানসন মনে করেন পঞ্চম মেয়াদে সভাপতি হওয়ার চেষ্টায় ব্ল্যাটারের সাথে কোনো প্রতিদ্বন্দ্বিতাই গড়তে পারবেন না তাদের কেউই।
 
ইউরোপীয় ফুটবলের নিয়ামক সংস্থা উয়েফার কংগ্রেসে একটি বার্তা সংস্থাকে দেয়া সাক্ষাতকারে তিনি বলেন,বলেন, "প্রথম রাউন্ডে ব্ল্যাটার জিতবে, কিন্তু আমি (ভোটের) সংখ্যাটা বলতে পারছি না।"
 
সভাপতি হওয়ার আগে ফুটবলের বিশ্ব সংস্থা ফিফার বেতনভোগী কর্মকর্তা ব্ল্যাটার ৯৮ সালে নির্বাচিত হওয়ার পর ২০০২, ২০০৭ ও ২০১১ সালেও পুণনির্বাচিত হন। এবারও ব্ল্যাটারের নির্বাচিত হওয়া নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই উয়েফার বর্তমান সভাপতি মিশেল প্লাটিনির এই পূর্বসুরীর।
 
জোহানসন এ প্রসঙ্গে ৭৯ বছরের ব্ল্যাটারের প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, “১৯৯৮ সাল থেকে সভাপতি হিসেবে তার থাকায় আমি অবাক নই, তিনি তুখোড় বুদ্ধিমান মানুষ। অবশ্যই এটা নিভর্র করে আপনি কিভাবে আপনার মেধাকে কাজে লাগাচ্ছেন।”
 
জোহানসন জানান, ব্ল্যাটার শুধু মেধাবীই নয়, প্রচন্ড পরিশ্রমীও। ব্ল্যাটারের প্রতিদ্বন্দ্বিরা কেন পারবেন না সে প্রসঙ্গেও মত দেন তিনি।
 
জোহানসেন জানান ব্ল্যাটারের প্রতিদ্বন্দ্বীরা ইউরোপের বাইরের সংখ্যাগরিষ্ট দেশগুলো থেকে সমর্থন পাবেন না। কেননা এই সব দেশ মনে করে ব্ল্যাটার সুইডিশ হলেও ‘ইউরোপীয়’ নন। বরং তিনিই ফিফা।
 
তার মতে-‘আফ্রিকা ও এশিয়া কোন ইউরোপীয়ানের জন্য ভোট দেবে না এবং ব্ল্যাটার তাদের চোখে ‘ইউরোপীয়ান’ নন। তিনি হলেন ফিফা।’
 
জর্দান ফুটবল এসোসিয়েশনের সভাপতি প্রিন্স আলি অবশ্য ইতোমধ্যে ব্ল্যাটারের শক্তিশালী সমর্থক বলে পরিচিত আফ্রিকায় ব্যাপক প্রচারণা চালাচ্ছেন। অপর দুই প্রতিদ্বন্দ্বীও এ সপ্তাহে মিসরের কায়রোতে অনুষ্ঠেয় কনফেডারেশন অব আফ্রিকার কংগ্রেসের প্রাক্কালে সেখানে কাজ করছেন। ব্ল্যাটার অবশ্য তার ফিফা সভাপতির এখতিয়ারেই সেখানে হাজির থাকবেন।
 
ফিফার ২০৯টি সদস্য দেশের মধ্যে ৫৪টিরই অবস্থান আফ্রিকা মহাদেশে।   উয়েফায় দীর্ঘ সময় রাজত্ব করা জোহানসেন মনে করেন তার উত্তরসুরী প্লাটিনি হয়তো ব্ল্যাটারের সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলে নির্বাচনের ফল ভিন্ন হতে পারত। ফিফা সভাপতি পদে লড়ার জন্য প্লাতিনিকে পরামর্শ দিয়েছিলেন জোহানসন, কিন্তু সাবেক ফরাসি তারকা ফুটবলারটি তাতে রাজি হননি।
 
প্লাটিনি অবশ্য যুক্তরাজ্যের স্যান্ডহার্স্ট মিলিটারি একাডেমিতে পড়াশুনা করা প্রিন্স আলিকে সমর্থন দিচ্ছেন। বিবিসি জানায় প্লাটিনি এক বিবৃতিতে বলেছেন,‘আমি প্রিন্স আলিকে ভালভাবে চিনি। উচু মর্যাদার অফিসের জন্য যে যোগ্যতা দরকার সেটি তার আছে।’
 
জোহানসন ১৭ বছর উয়েফার সভাপতি ছিলেন। তার মতো এত দীর্ঘ সময় আর কোন সভাপতি ছিলেন না। তার সময়ে ইউরোপীয় ফুটবলের নিয়ামক সংস্থাটি ৩২টি দেশ থেকে তার প্রস্থানের সময় ৫২ তে উন্নীত হয়েছিল। এছাড়াও ইউরোপীয়ান কাপটিকে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে রুপান্তরিত করেন তিনি এবং ইউরোপীয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ আটটির পরিবর্তে ১৬ দলের চূড়ান্ত আসরে উন্নীত হয়।
 
প্লাটিনির কাছে আট বছর আগে হেরে গেলেও বর্তমানে হুইল চেয়ারে বসে চলাফেরা করা জোহানসেন ফরাসি ফুটবলারটির প্রশংসা করেন। তিনি মনে করেন প্লাটিনি খুবই ভাল কাজ করছেন। তবে গেল বছরেই ব্ল্যাটারের বিরুদ্ধে নির্বাচন না করার ব্যাপারে প্লাটিনির সিদ্ধান্তে দুঃখ প্রকাশ করেন তিনি।