ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র প্রার্থী আব্দুল আউয়াল মিন্টু মনোনয়নপত্র বাতিল করে রিটানিং অফিসারের সিদ্ধান্ত বহাল রেখেছে ঢাকা বিভাগীয় কমিশার। এ সংক্রান্ত মিন্টুর দায়েরকৃত আপিলের শুনানি শেষে তা খারিজ করে দেন বিভাগীয় কমিশানর জিল্লার রহমান। একই সঙ্গে বিএনপির অপর নেতা নাসির উদ্দিন আহমেদ পিন্টুর মনোনয়নপত্র বাতিলের আদেশ বহাল রাখা হয়েছে।
মিন্টুর আইনজীবী ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ সাংবাদিকদের বলেছেন, এটা অন্যায় হয়েছে। এতে করে নির্বাচন কমিশন আরো প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়বে। আমরা এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে যাবো।
গত ১ এপিল আব্দুল আউয়াল মিন্টুর মনোনয়নপত্র বাতিল করে রিটানির্ং অফিসার। মনোনয়নপত্রের সমর্থক ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের ভোটার না হওয়ায় তা বাতিল করা হয়।
রিটানির্ং অফিসারের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করেন মিন্টু। মিন্টুর পক্ষে আপিলের শুনানীতে ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ বলেন, মিন্টু যোগ্য প্রার্থী, তার কোন অযোগ্যতা নেই। তিনি তার মনোনয়নপত্রে সমর্থক হিসাবে যাকে উল্লেখ করেছেন তিনি ভোটার নন এটা গুরুতর কোন ভুল নয়। এটা তুচ্ছ ভুল।
তিনি বলেন, এ অযুহাতে মিন্টুর মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে, তাতে কি নির্বাচন কমিশনের মর্যাদা বাড়বে? জনগনের ধারণা কী হবে। নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব হচ্ছে প্রতিযোগিতাপূর্ণ ও অংশগ্রহণপূর্বক নির্বাচন আয়োজন করা। এই নির্বাচন কমিশন যদি আরেকটু শক্তিশালী হতো আমাদের চিন্তার কারণ ছিল না। ভারতের নির্বাচন হয়েছে কয়েক মাস হলো,কিন্তু সেই নির্বাচন নিয়ে সে দেশে কোন প্রশ্ন ওঠেনি। এই মেয়র নির্বাচনকে অংশগ্রহণমূলক ও প্রতিযোগিতাপূর্ণ করতে হলে মিন্টুর আপিল মঞ্জুর করা উচিত।
তিনি বলেন, বিধিমালায় বলা আছে মনোনয়নপত্রে ছোটখাট ক্রটি সংশোধনের সুযোগ রিটার্নিং অফিসার প্রার্থীদের দিবেন। কিন্তু তিনি সেই সুযোগ দেননি। এতে করে মনে হয়, প্রতিদ্বন্দিতামূলক নির্বাচন হোক এটা তারা চান না।
আরেক আইনজীবী ব্যারিস্টার এম মাহবুব উদ্দিন খোকন বলেন, উত্তরা ১৩ নং সেক্টর ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের অন্তর্ভূক্ত। মিন্টুর মনোনয়নপত্রের সমর্থক আবদুর রাজ্জাক রাজউক থেকে প্লট বরাদ্দ নিয়ে ওখানে বাড়ি করেছেন এবং নিয়মিত সিটি কর্পোরেশনের ট্যাক্স দিচ্ছেন। সিটি কর্পোরেশনের আওতাভুক্ত হওয়ায় কয়েকজনকে ভোটার করা হয়েছে। আবার অনেককে বাদ দেয়া হয়েছে। কাউকে বাদ দেয়া, কাউকে ভোটার করা-এটি ‘পিক এ্যান্ড চুজ’ নীতি। ভোটার না করা কমিশনেরই ভুল। নির্বাচন কমিশনের ভুলের জন্য প্রার্থী ভুক্তভোগী হতে পারে না।
তিনি বলেন, মিন্টুর ঋণ খেলাপী নয়। সাজাপ্রাপ্তও নন। তার কোন অযোগ্যতা নেই। সমর্থক, প্রস্তাবকের জন্য প্রার্থীর মনোনয়নপত্র অবৈধ হতে পারে না। প্রার্থী যোগ্য কীনা সেটাই মুল বিষয়।
এরপর নির্বাচন কমিশনারের বক্তব্য জানতে চাইলে নির্বাচন কমিশনের সহকারী রিটার্নিং অফিসার মো শাহজালাল বলেন, মিন্টুর মনোনয়নপত্রে সমর্থনকারী সিটি কর্পোরেশনের ভোটার নন। তিনি উত্তরা ১৩ নং সেক্টরের হরিরামপুর ইউনিয়নের ভোটার। স্থানীয় সরকার সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন বিধিমালা ১২ (১) ধারার যথাযথ প্রতিপালন না হওয়ায় মিন্টুর মনোনয়নপত্র বাতিল করেছে রিটানির্ং অফিসার।
সোনালী ব্যাংকের শিল্পকভবন শাখার পক্ষ থেকে এক কর্মকর্তা বিভাগীয় কমিশনারকে জানান, কে এ্যান্ড কিউ কোম্পানী এই শাখা থেকে ৫ কোটি টাকার একটি ঋণ নেন। এই ঋণে ব্যক্তিগত গ্রান্টার ছিলেন আবদুল আউয়াল মিন্টু।
২০১৩ সালের ১৫ ডিসেম্বর ঋনটি ক্লাসিফাইড হিসাবে রুপান্তরিত হয়। এই ঋণের বিপরীতে গত ২ এপ্রিল ১ কোটি ৯৭ লাখ ১৫ হাজার ৪৩০ টাকা জমা দেন। বাকি ৫১ লাখ টাকা পে অর্ডারের মাধ্যমে জমা দেয়া হয়। এই ঋণের ব্যক্তিগত গ্রান্টার হিসাবে মিন্টু একজন ঋণে খেলাপি। জবাবে ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন বলেন, ঋণখেলাপীর অভিযোগে মিন্টুর মনোনয়নপত্র বাতিল হয়নি। আজ এটি আলোচ্য বিষয় নয়।
গত ২২ মার্চ বাংলাদেশের সিআইবি শাখা ঋণ খেলাপীদের একটি তালিকা প্রকাশ করে। ওই তালিকায় মিন্টুর নাম নেই। এছাড়া মনোনয়নপত্র যাচাই বাছায়ের দিনও সোনালী ব্যাংক কর্তৃপক্ষ দাবি করেনি যে মিন্টু ঋণ খেলাপি ছিলেন।
বিকাল ৪ টা থেকে সাড়ে ৫ টা পর্যন্ত আপিলের ওপর শুনানী হয়। শুনানীর পর বিভাগীয় কমিশনার তার খাসকামরা থেকে সকলকে আধাঘন্টার জন্য বের হয়ে যেতে বলেন। আধা ঘন্টাপর মিন্টুর আইনজীবীদের ডেকে আপিল খারিজের আদেশ জানিয়ে দেয়া হয়।
পিন্টুর মনোয়নপত্র বাতিলের আদেশ বহাল:
এদিকে পিন্টুর আইনজীবী এ্যাডভোকেট আমিনুল ইসলাম বলেন, বিডিআর বিদ্রোহের মামলায় পিন্টুর যে সাজা হয়েছিল তার বিরুদ্ধে তিনি উচ্চ আদালতে আপিল করেছেন। ওই আপিল বর্তমানে বিচারাধীন আছে। ফলে তিনি সাজাপ্রাপ্ত আসামী নন।
তিনি বলেন, এইচ এম এরশাদ, মহিউদ্দিন খান আলমগীর-এরাও সাজাপ্রাপ্ত আসামি ছিলেন। কিন্তু উচ্চ আদালতে আপিল করার কারণে তারা নির্বাচনে অংশ নেয়ার সুযোগ পান।
জবাবে রিটানিং অফিসারের প্রতিনিধি বলেন, পিন্টুর সাজা স্থগিত করেছে এমন কোন প্রমানপত্র তিনি দাখিল করতে পারেননি।
জবাবে এ্যাডভোকেট আমিনুল ইসলাম বলেন, সাজা স্থগিতের আলাদা কোন আদেশ দেয়া হয় না। বিচারাধীন থাকা মানেই সাজা বহাল নেই।
পরে বিভাগীয় কমিশনার পিন্টুর মনোনয়নের বাতিলের আদেশ বহালের সিদ্ধান্ত দেন।