বেসরকরি গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘উন্নয়ন অন্বেষণ’-এর অর্থনৈতিক পর্যালোচনায় বলা হয়েছে যে—সাম্প্রতিক সময়ে মোট ব্যয়ের অনুপাতে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সামাজিক নিরাপত্তা ও কল্যাণ এবং আবাসন খাতে সরকারি ব্যয়ের বরাদ্দ হ্রাস পেয়েছে। সামাজিক খাতগুলোতে বরাদ্দ কমার এ প্রবণতা চলতে থাকলে দেশের সামাজিক উন্নয়নের ধারা বাধাগ্রস্ত হবে।
পর্যালোচনায় বলা হয়েছে, মোট দেশজ উত্পাদনের (জিডিপি) অনুপাতে মোট সরকারি ব্যয়ের পরিমাণের দিক থেকে অন্যান্য উন্নয়নশীল দেশগুলোর তুলনায় বাংলাদেশ পিছিয়ে আছে।
গবেষণায় দেখা গেছে—২০১৩ সালে বাংলাদেশে জিডিপির অনুপাতে সরকারি ব্যয়ের পরিমাণ ১৬ দশমিক ৭৯ শতাংশ ছিল, যা অন্য উন্নয়নশীল দেশগুলোতে ছিল ৩২ দশমিক ২১ শতাংশ। সরকারি ব্যয়ের পরিমাণের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ তার প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভারত (২৭ দশমিক ২৬) ও মিয়ানমার (২৭ দশমিক ১৮) থেকেও পিছিয়ে রয়েছে।
শিক্ষা ও প্রযুক্তি খাতে সাম্প্রতিক সময়ে সরকারি ব্যয়ের বরাদ্দ আনুপাতিক হারে হ্রাস পেয়েছে। এ খাতে প্রকৃত সরকারি ব্যয় মোট ব্যয়ের অনুপাতে ২০০৮, ২০০৯, ২০১০, ২০১১, ২০১২ ও ২০১৩ তে যথাক্রমে ১৭ দশমিক ১, ১৬ দশমিক ৯, ১৮ দশমিক ৬, ১৮ দশমিক ৪, ১৬ দশমিক ৬ এবং ১৬ দশমিক ১ শতাংশ ছিল। ২০১৪ র্অথবছরে এ খাতে সংশোধিত সরকারি ব্যয়ের পরিমাণ ১৬ দশমিক ৩ এবং ২০১৫ অর্থবছরে ১৫ দশমিক ৬ শতাংশ। স্বাস্থ্য খাতেও সরকারি ব্যয়ের আনুপাতিক হার ধীরে ধীরে কমছে। এ খাতে প্রকৃত সরকারি ব্যয় মোট ব্যয়ের অনুপাতে ২০০৮, ২০০৯, ২০১০, ২০১১, ২০১২ ও ২০১৩ অর্থবছরে যথাক্রমে ৭ দশমিক ২, ৭ দশমিক ১, ৭ দশমিক ৩, ৭ দশমিক ১, ৬ দশমিক ৬ এবং ৬ দশমিক ৪ শতাংশ ছিল। ২০১৪ র্অথবছরে এ খাতে সংশোধিত সরকারি ব্যয়ের পরিমাণ ৫ দশমিক ৭ শতাংশ।
সামাজিক নিরাপত্তা ও কল্যাণ খাতে প্রকৃত সরকারি ব্যয় মোট ব্যয়ের অনুপাতে অর্থবছর ২০০৮ থেকে ২০১৩ অর্থবছর পর্যন্ত ছিল যথাক্রমে ৫ দশমিক ৫, ১১, ৮ দশমিক ১, ৭ দশমিক ৬, ৭ দশমিক ৮ এবং ৭ দশমিক ৫ শতাংশ ছিল। এ খাতে ২০১৪ র্অথবছরে সংশোধিত সরকারি ব্যয়ের পরিমাণ ৭ দশমিক ১ শতাংশ। একই প্রবণতা দেখা গেছে আবাসন খাতে।
সামাজিক খাতগুলোতে সরকারি ব্যয়ের বর্তমান নিম্নমুখী প্রবণতার প্রেক্ষিতে প্রতিবেদনে এ খাতে ব্যয় বাড়াতে কার্যকরী পদক্ষেপ নেয়ার কথা বলেছে। পাশাপাশি যথাযথ রাজস্ব ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে সরকারের রাজস্ব আয় বৃদ্ধি করে সামাজিক খাতগুলোতে পর্যাপ্ত সরকারি ব্যয় বরাদ্দ করা প্রয়োজন।