আইনী সেবা কেন্দ্র ব্যবহার করে বেআইনি কার্যকলাপের দায়ে গ্রেফতার হয়েছে এক নারীসহ তিন প্রতারক। গ্রেফতারকৃতরা হলেন—আফসানা (১৯), তানভীর হোসেন (২৩) ও রানা রায়হান (৩৬)। অনলাইনে জিনিসপত্র বেচাকেনার কথা বলে ক্রেতা ও বিক্রেতাদের সঙ্গে প্রতারণা করে আসছিলেন তারা।
র্যাব-২ জানায়—পত্রিকা ও টেলিভিশনে পণ্য বিক্রির বিজ্ঞাপন দেখে রাজধানীর চানখাঁর পুলের ব্যবসায়ী মনিরুল হক চট্টগ্রামের ‘মধু অমৃত’ নামের ডায়াবেটিসের ওষুধ পেতে যোগাযোগ করেন। পরে একটি কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে তার কাছে মধু অমৃত পাঠিয়ে দেয়া হয়। ওষুধের মূল্য বাবদ ৫ হাজার টাকা পরিশোধ করার পর তিনি প্যাকেটটি খুলে দেখেন কৌটার ভেতর বালু। এভাবে প্রতারিত হয়ে অন্তত ১০ জন ভুক্তভোগী র্যাবের কাছে অভিযোগ করে।
র্যাব-২-এর অধিনায়ক লে. কর্নেল এস এম মাসুদ রানা বলেন, ‘সম্প্রতি এ ধরনের প্রতারণার ঘটনা ঘটছে। অনলাইন বা ইন্টারনেটের মাধ্যমেই দরদাম ঠিক করে জিনিসপত্র কেনা সম্ভব। এমন সুযোগে গ্রেফতাকরকৃতরা প্রতারণার নতুন ফাঁদ পাতে। প্রতারকরা দামি ল্যাপটপ, মোবাইল ফোন ক্রয়-বিক্রয়ে ইচ্ছুকদের সঙ্গে অনলাইনে যোগাযোগ করে। তাদের টার্গেট বিক্রেতারা। দামি ল্যাপটপ বা মোবাইল ফোন বিক্রেতাদের মোহাম্মদপুর, গ্রানীরোড ও অ্যালিফ্যান্ট রোডের বিভিন্ন ল চেম্বারে আসতে বলা হতো। এতে ক্রেতার মনে স্বাভাবিক কারণেই বিশ্বাস জন্ম নিত। কারণ, ল চেম্বারে প্রতারণা হওয়ার বিষয়টি বিক্রেতাদের মনেও আসত না। প্রথম দফায় না হলেও দ্বিতীয় দফায় বিক্রেতা ঠিকই বিক্রির জন্য দামি ল্যাপটপ বা মোবাইল ফোনটি নিয়ে যেতেন। আর যোগাযোগের ঠিকানা ও মোবাইল নম্বর দেয়া থাকত আফসানার।’
মাসুদ রানা আরো বলেন, ‘বিক্রেতারা গেলে বিক্রির জন্য নিয়ে যাওয়া জিনিসটি আগে দেখা হতো। দেখার পর বলা হতো—বসকে দেখিয়ে নিয়ে আসি। তার পর আর ফিরে আসতেন না। এমন বেশ কয়েকটি ঘটনা ঘটে অ্যালিফ্যান্ট রোডের এক ব্যারিস্টারের চেম্বারে। ওই ব্যারিস্টার তার ল চেম্বারের সব সিসি ক্যামেরার ভিডিও ফুটেজ র্যাবের হাতে তুলে দেন। ভিডিও ফুটেজ পর্যালোচনা করে আফসানা ও তানভীরকে গ্রেফতার করা হয়। আর এ দুজনের তথ্যমতে প্রধান প্রতারক রানাকে গ্রেফতার করা হয়।’